সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ক্ষমতা কমেছে ১০ লাখ ব্যারেল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৩৩
জ্বালানি তেলের ব্যারেল। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দেশটির হিসাবে, দিনে তেল সরবরাহে তাদের সক্ষমতা কমেছে অন্তত ১০ লাখ ব্যারেল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব সচরাচর এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জনসমক্ষে আনে না। তবে এবার বিরল এক পদক্ষেপে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বারবার হামলা হয়েছে। এসব স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও তেল উৎপাদন কেন্দ্র, পাইপলাইন, রপ্তানি টার্মিনাল, তেলের ট্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো।

হামলার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’। এটি শুধু সৌদি আরবের অর্থনীতির জন্য নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। এতে দৈনিক তেল পরিবহনের সক্ষমতা কমেছে ৭ লাখ ব্যারেল।

এ ছাড়া সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, মানিফা উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন তেলের উৎপাদন কমেছে ৩ লাখ ব্যারেল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধানপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বর্তমানে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে। তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে অনেক দেশ। এই সময়ে দেশটি তাদের জ্বালানি সরবরাহ ক্ষমতা কমার তথ্য দিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চলার সময় ব্লুমবার্গ নিউজের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করছে। সেই হিসাবে এই পাইপলাইনেই দেশটির সক্ষমতা কমেছে ১০ শতাংশ।

সম্পর্কিত