মতামত
হাসান মামুন

ব্যক্তি ও পরিবার যেভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলায়, সরকার সেভাবে মেলাবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটা বেশি করে প্রযোজ্য। আমাদের তো উন্নয়নের চাহিদা এখনও বিরাট। কিছুটা উন্নয়ন দেখতে পেলে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে যাওয়ার পর আমরা আবার সহজেই জানতে পারছি, বিশ্বের কোথায় কী হচ্ছে। তাতে উন্নয়নের চাহিদা আরও বাড়ছে। সে কারণে আমাদের মতো দেশের সরকার বাজেটে বিশেষ করে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াবে, এটা অস্বাভাবিক নয়।
তারেক রহমান সরকার এবার উন্নয়ন ব্যয় বা এডিপির আকার আগেরটির (সংশোধিত) তুলনায় ৫০ শতাংশ বাড়াচ্ছে বলেই জানা গেল। রাজস্ব ব্যয় কিন্তু সে তুলনায় কমই বাড়ছে। ৯ লাখ ৩০ হাজার (মতান্তরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার) কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব ব্যয় তাহলে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। এটাকে সরকারের ‘পরিচালন ব্যয়’ও বলা হয়ে থাকে। এর সবচেয়ে বড় অংশটা সম্ভবত যাবে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। দ্রুততার সঙ্গে বাড়তে বাড়তে সরকারের খরচের অন্যতম প্রধান খাত হয়ে গেছে এটা। অব্যাহতভাবে ধারকর্জ করে চললে এর সুদ তো গুনতেই হবে। বেশি সুদে ঋণ করলে বেশি সুদও গুনতে হবে।
সরকার অবশ্য বেশি ধারকর্জ করছে দেশের ব্যাংক খাত থেকেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও প্রয়োজনে টাকাপয়সা নিচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার খবরও মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। তাতে আতংক বাড়ে অযাচিত অর্থ সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার। মূল্যস্ফীতি যখন উচ্চ স্তরে থাকে, তখন আমরা আশা করি– সরকার টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার কথা অন্তত বলবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। ছাপানো টাকা মূল্যস্ফীতিতে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।
এ অবস্থায় সেইসব ব্যাংক থেকে ধার করা ভালো, যারা উদ্বৃত্ত তারল্য বা নগদ অর্থ নিয়ে বসে আছে। আমাদের একগুচ্ছ ব্যাংক কেন সংকটে, সেটা কারও অজানা নয়। এ সংক্রান্ত অপ্রীতিকর আলোচনা এখানে না করলেও চলবে। তবে সেগুলোকে রক্ষায় সরকারকে উল্টো কিছু করের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। সমস্যাটা সেখানে।
বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। এটা বাজেট পেশের আগমুহূর্তের খবর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাংকটি লুণ্ঠিত হয়েছিল এমনভাবে, যা ব্যাংকিং ইতিহাসে সম্ভবত বিরল ঘটনা। এখনও ব্যাংকটির প্রতি সদাচরণ হচ্ছে না বলে অনেকের অভিমত। তাতে করে গোটা ব্যাংক খাতে অনাস্থা সৃষ্টি হলে বিপদ। যেসব ব্যাংক ভালো ব্যবসা করছে, তাদের ওপর অবশ্য সহজে অনাস্থা তৈরি হবে না। খারাপ সময়েও যারা ভালোভাবে টিকে থাকে– বুঝতে হবে, কোথাও না কোথাও তাদের শক্তির দিক ছিল। সেসব ব্যাংক থেকে সরকার চাইলেই ঋণ নিতে পারবে। ব্যাংকগুলোও সরকারকে ঋণ দিতে উৎসাহী। কেননা সরকার তো খেলাপি হবে না। করারোপ করে, নয়তো অন্য খাত থেকে তহবিল নিয়ে সরকার তা পরিশোধ করবে। উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া অর্থকড়ি পরিশোধেও আমাদের সরকারগুলোর পারফরম্যান্স খারাপ নয়। সে কারণে ঋণ পেতে সমস্যাও তেমন হচ্ছে না।
ঋণ করা কিংবা এটা বেড়ে যাওয়াটাও সমস্যা হতো না, যদি তা ভালোভাবে কাজে লাগানো যেত। এখানে সরকারি ব্যয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্যয় করলেই হবে না; সেটা করতে হবে দক্ষতার সঙ্গে, কাজের মান বজায় রেখে। এটা উন্নয়ন ব্যয়ের বেলায় যেমন সত্য, আবার অনুন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সত্য। অর্থবছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে আর বিশেষত বৃষ্টিবাদলের মধ্যে যে ব্যয় করা হয়, তার মান নিয়ে প্রশ্ন আজকের নয়। অনেকে তো বলেন, এভাবে ব্যয় না করে টাকাটা রেখে দেওয়া কিংবা সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করা ভালো।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বিপুল ব্যয় প্রতিবছর করা হয়, তার মান নিয়েও আছে প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ আমলে সরকারিভাবেই স্বীকার করা হয়েছিল এ খাতে বিরাট অপচয়ের কথা। ভুল লোকজনের কাছে সহায়তার বড় অংশ এখনও যাচ্ছে না, তা বলা যাবে না। নতুন সরকার অবশ্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরুর আগেই বলে নিয়েছিল, এতে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সমস্যা থাকলে সেটা স্বীকার করাই ভালো। তাহলেই না সমাধানের পথে হাঁটা যাবে।
এটাও অনস্বীকার্য, নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়ন শুরু করা হলেই সরকারি কর্মচারিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাবে না জনগণ। অর্থনীতির চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক আচরণ পেতে শুরু করবে, সেটাও বলা যায় না। এরই মধ্যে আবার শোনা গেল, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আলাদা করে বরাদ্দ রাখা হয়নি। শেষতক কীভাবে কী হবে, সেটা জানা যাবে অচিরেই। সরকারি খাতে বাড়তি অর্থ সরবরাহ হলে হালে মূল্যস্ফীতির যে পরিস্থিতি, সেটা বাতাস পাবে। তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর খবরেরও একটা প্রভাব থাকবে সেই বাজারে, যেখানে বেসরকারি খাতে চলছে বিনিয়োগ খরা এবং এর পরিণতিতে কাজের সুযোগ গেছে কমে।
মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চাইতে কম অনেকদিন ধরে। হাতের কাজ জানা লোকজন বাদে বিশেষত সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে। এতে আবার অবদান রেখেছে সাড়ে ১৫ বছরের অগণতান্ত্রিক শাসন হটানো নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান। সেই আমলেও বিনিয়োগ পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি কখনও পরিলক্ষিত হয়নি। তাদের শেষদিকে ‘জবলেস গ্রোথ’ হচ্ছিল বলেও সমালোচনা ছিল। এ ধরনের প্রবৃদ্ধি বিশেষত সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে। সেটাকে ক্রমে করে ফেলে অসহনীয়। এটি না ঘটলে ওইরকম গণঅভ্যুত্থানও হতো না বলে মনে করা হচ্ছে। বঞ্চিত সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ ছিল সেই অভ্যুত্থানে।
মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মাঝে একটা বাজেট দিয়েছিল এবং আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট বাস্তবায়ন করেছিল। এতে অবশ্য ভিন্নতার প্রমাণ দিতে পারেননি তারা। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা আর বিদেশি মুদ্রার মজুত বাড়ানোর প্রয়াস ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তাদের আগ্রহ ছিল কম। মনোযোগ বেশি ছিল রাজনৈতিক সংস্কারে। নানা পক্ষের দাবিদাওয়া ঘিরে রাস্তার আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে তাদের অনেক বেশি। শ্রমিক বেল্টেও অসন্তোষ কম ছিল না। আইনশৃঙ্খলার অবনতির ধারা রোধ হয়নি। তাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও অনেক কমে যায়। এটি ঘটার কারণেও বেসরকারি খাতে কাজকর্ম কমে গিয়েছিল। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলে এর উপকরণ সরবরাহের ধারাটিও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কাজের সুযোগ বাড়ে। প্রকল্পের মানহীন বাস্তবায়নেও এটি কম ঘটে না। এজন্য আবার অনেকে চান, যেভাবে হোক– সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়ুক। অপচয় হলে হোক!
এর চাইতে ভালো নিশ্চয় ব্যয় বাড়া এবং কাজের মানটিও নিশ্চিত হওয়া। কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়া আরও ভালো নিশ্চয়। এক টাকার কাজ দুই টাকা দিয়ে করার মানে দক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া; সঙ্গে দুর্নীতি হওয়া। এ ধরনের ‘অপচয়মূলক ব্যয়’ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বিগত সরকারের আমলে। ইউনূস সরকারের আমলে বলা হলো, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ ছাড় হবে না। এ-ই করে এডিপির আকারই তারা দিলেন অনেক কমিয়ে। উন্নয়নকাজ, এমনকি রাস্তাঘাট সংস্কার করে ব্যবহারোপযোগী রাখার কাজটিও হলো অবহেলিত। এ অবস্থায় ভালো হতো– যদি সেই সরকার পরিচালন ব্যয়টাও কমিয়ে আনতে পারতো। হয়েছে উল্টো। পরিচালন ব্যয় গেছে বেড়ে। সে কারণে ইউনূস সরকারও আওয়ামী স্টাইলে ধারকর্জ করে সরকার চালিয়ে গেছে। ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়েছে। ওই সরকার বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোয় এ খাতে বেড়েছে ভর্তুকিও।
তারেক রহমান সরকার কিছুদিন আগে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। চটজলদি আবার কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ছাড় দিয়েছে তাদের। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময়ও চেষ্টা করেছে সাধারণ মানুষকে এর চাপ থেকে কিছুটা মুক্ত রাখতে। কিন্তু এ ধরনের দাম বৃদ্ধির চাপ গিয়ে নানাভাবেই পড়ে জনজীবনে। তাতে অস্থিরতা বাড়ে। বাড়ে মূল্যস্ফীতি। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের আগমুহূর্তে মূল্যস্ফীতি কিন্তু নতুন করে বেড়েছে। পরপর দু’মাস এটা বাড়ার ঘটনায় মনে হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি সামনে আরও বাড়বে। এ অবস্থায় কোন্ প্রত্যাশায় বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করা হচ্ছে, কে জানে!
সরকার কি পারবে অস্থিতিশীল বিশ্ববাজারে অধিক ব্যয়ে জ্বালানি আমদানি কমাতে? নতুন সরকার কি দু-তিন বছরেও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়িয়ে এলএনজি আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনতে পারবে? চুক্তি পুনর্বিন্যাস করে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আর ভর্তুকি কমাতে পারবে সরকার? গ্যাস জুগিয়ে সার কারখানা চালু রেখে এ খাতে বেড়ে চলা আমদানি ব্যয় কি কমিয়ে আনতে পারবে? এগুলো এক অর্থবছরের কাজ নয় অবশ্য। চাইলে হয়তো এক মেয়াদে বড় পরিবর্তন আনা যাবে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে।
জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো যাবে আরও রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা করা গেলে। রাশিয়ার মতো উৎস থেকে ক্রুড অয়েল আনা গেলেও কম ব্যয় হবে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে না হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিও রোধ করা যাবে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার ধারা বেগবান হবে; প্রবৃদ্ধি বাড়তে শুরু করবে। এটা এখন ৪ শতাংশের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। এর আগের অর্থবছরে কমে গিয়েছিল আরও। এই প্রবৃদ্ধিও হতো না– বিশেষ করে কৃষি খাত ঘুরে না দাঁড়ালে। কৃষিতেও বাড়ছে উপকরণ ব্যয়। তারেক রহমান সরকার অবশ্য কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে। ভর্তুকি বাবদ ব্যয় নাকি কমাতে চাইছে সরকার। কিন্তু কৃষিতে এটা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভর্তুকি বাড়াতে হবে কৃষির আধুনিকায়নে। সময়মতো ধান উত্তোলনে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে– যেহেতু কৃষি মজুর সহজে মিলছে না। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে লজিস্টিকস সহায়তায়ও বাড়াতে হবে ব্যয়। ভর্তুকি হতে হবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত।
এক বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা যাবে না। বিশেষত সরকারের প্রথম বাজেটে সংস্কার আনা যাবে কমই। সংকটের গভীরতাও এখন বেশি। তা সত্ত্বেও বাজেটে যেন গতানুগতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়াসটি পরিলক্ষিত হয়। বাজেট পেশের পরও এর সংশোধনী আর বাস্তবায়নে তার প্রমাণ রাখা যাবে। কোন খাতে ব্যয়ের কী পরিকল্পনা, তার চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় সেইসব ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অধিক ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও। নজিরবিহীন হাম পরিস্থিতি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর মান রক্ষার প্রশ্নটিও সামনে এনেছে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মিড ডে মিল’ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এগুলো মানবসম্পদ উন্নয়নে গভীর অর্থবহ ব্যয়। খাইয়ে-পরিয়ে ভালো রাখা গেলে আজকের শিশুরা আগামীর বাংলাদেশ রচনায় ভূমিকা রাখার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে উঠবে বৈকি।
হাসান মামুন : সাংবাদিক, কলামিস্ট; ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক

ব্যক্তি ও পরিবার যেভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলায়, সরকার সেভাবে মেলাবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটা বেশি করে প্রযোজ্য। আমাদের তো উন্নয়নের চাহিদা এখনও বিরাট। কিছুটা উন্নয়ন দেখতে পেলে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে যাওয়ার পর আমরা আবার সহজেই জানতে পারছি, বিশ্বের কোথায় কী হচ্ছে। তাতে উন্নয়নের চাহিদা আরও বাড়ছে। সে কারণে আমাদের মতো দেশের সরকার বাজেটে বিশেষ করে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াবে, এটা অস্বাভাবিক নয়।
তারেক রহমান সরকার এবার উন্নয়ন ব্যয় বা এডিপির আকার আগেরটির (সংশোধিত) তুলনায় ৫০ শতাংশ বাড়াচ্ছে বলেই জানা গেল। রাজস্ব ব্যয় কিন্তু সে তুলনায় কমই বাড়ছে। ৯ লাখ ৩০ হাজার (মতান্তরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার) কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব ব্যয় তাহলে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। এটাকে সরকারের ‘পরিচালন ব্যয়’ও বলা হয়ে থাকে। এর সবচেয়ে বড় অংশটা সম্ভবত যাবে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। দ্রুততার সঙ্গে বাড়তে বাড়তে সরকারের খরচের অন্যতম প্রধান খাত হয়ে গেছে এটা। অব্যাহতভাবে ধারকর্জ করে চললে এর সুদ তো গুনতেই হবে। বেশি সুদে ঋণ করলে বেশি সুদও গুনতে হবে।
সরকার অবশ্য বেশি ধারকর্জ করছে দেশের ব্যাংক খাত থেকেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও প্রয়োজনে টাকাপয়সা নিচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার খবরও মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। তাতে আতংক বাড়ে অযাচিত অর্থ সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার। মূল্যস্ফীতি যখন উচ্চ স্তরে থাকে, তখন আমরা আশা করি– সরকার টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার কথা অন্তত বলবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। ছাপানো টাকা মূল্যস্ফীতিতে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।
এ অবস্থায় সেইসব ব্যাংক থেকে ধার করা ভালো, যারা উদ্বৃত্ত তারল্য বা নগদ অর্থ নিয়ে বসে আছে। আমাদের একগুচ্ছ ব্যাংক কেন সংকটে, সেটা কারও অজানা নয়। এ সংক্রান্ত অপ্রীতিকর আলোচনা এখানে না করলেও চলবে। তবে সেগুলোকে রক্ষায় সরকারকে উল্টো কিছু করের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। সমস্যাটা সেখানে।
বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। এটা বাজেট পেশের আগমুহূর্তের খবর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাংকটি লুণ্ঠিত হয়েছিল এমনভাবে, যা ব্যাংকিং ইতিহাসে সম্ভবত বিরল ঘটনা। এখনও ব্যাংকটির প্রতি সদাচরণ হচ্ছে না বলে অনেকের অভিমত। তাতে করে গোটা ব্যাংক খাতে অনাস্থা সৃষ্টি হলে বিপদ। যেসব ব্যাংক ভালো ব্যবসা করছে, তাদের ওপর অবশ্য সহজে অনাস্থা তৈরি হবে না। খারাপ সময়েও যারা ভালোভাবে টিকে থাকে– বুঝতে হবে, কোথাও না কোথাও তাদের শক্তির দিক ছিল। সেসব ব্যাংক থেকে সরকার চাইলেই ঋণ নিতে পারবে। ব্যাংকগুলোও সরকারকে ঋণ দিতে উৎসাহী। কেননা সরকার তো খেলাপি হবে না। করারোপ করে, নয়তো অন্য খাত থেকে তহবিল নিয়ে সরকার তা পরিশোধ করবে। উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া অর্থকড়ি পরিশোধেও আমাদের সরকারগুলোর পারফরম্যান্স খারাপ নয়। সে কারণে ঋণ পেতে সমস্যাও তেমন হচ্ছে না।
ঋণ করা কিংবা এটা বেড়ে যাওয়াটাও সমস্যা হতো না, যদি তা ভালোভাবে কাজে লাগানো যেত। এখানে সরকারি ব্যয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্যয় করলেই হবে না; সেটা করতে হবে দক্ষতার সঙ্গে, কাজের মান বজায় রেখে। এটা উন্নয়ন ব্যয়ের বেলায় যেমন সত্য, আবার অনুন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সত্য। অর্থবছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে আর বিশেষত বৃষ্টিবাদলের মধ্যে যে ব্যয় করা হয়, তার মান নিয়ে প্রশ্ন আজকের নয়। অনেকে তো বলেন, এভাবে ব্যয় না করে টাকাটা রেখে দেওয়া কিংবা সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করা ভালো।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বিপুল ব্যয় প্রতিবছর করা হয়, তার মান নিয়েও আছে প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ আমলে সরকারিভাবেই স্বীকার করা হয়েছিল এ খাতে বিরাট অপচয়ের কথা। ভুল লোকজনের কাছে সহায়তার বড় অংশ এখনও যাচ্ছে না, তা বলা যাবে না। নতুন সরকার অবশ্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরুর আগেই বলে নিয়েছিল, এতে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সমস্যা থাকলে সেটা স্বীকার করাই ভালো। তাহলেই না সমাধানের পথে হাঁটা যাবে।
এটাও অনস্বীকার্য, নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়ন শুরু করা হলেই সরকারি কর্মচারিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাবে না জনগণ। অর্থনীতির চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক আচরণ পেতে শুরু করবে, সেটাও বলা যায় না। এরই মধ্যে আবার শোনা গেল, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আলাদা করে বরাদ্দ রাখা হয়নি। শেষতক কীভাবে কী হবে, সেটা জানা যাবে অচিরেই। সরকারি খাতে বাড়তি অর্থ সরবরাহ হলে হালে মূল্যস্ফীতির যে পরিস্থিতি, সেটা বাতাস পাবে। তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর খবরেরও একটা প্রভাব থাকবে সেই বাজারে, যেখানে বেসরকারি খাতে চলছে বিনিয়োগ খরা এবং এর পরিণতিতে কাজের সুযোগ গেছে কমে।
মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চাইতে কম অনেকদিন ধরে। হাতের কাজ জানা লোকজন বাদে বিশেষত সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে। এতে আবার অবদান রেখেছে সাড়ে ১৫ বছরের অগণতান্ত্রিক শাসন হটানো নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান। সেই আমলেও বিনিয়োগ পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি কখনও পরিলক্ষিত হয়নি। তাদের শেষদিকে ‘জবলেস গ্রোথ’ হচ্ছিল বলেও সমালোচনা ছিল। এ ধরনের প্রবৃদ্ধি বিশেষত সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে। সেটাকে ক্রমে করে ফেলে অসহনীয়। এটি না ঘটলে ওইরকম গণঅভ্যুত্থানও হতো না বলে মনে করা হচ্ছে। বঞ্চিত সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ ছিল সেই অভ্যুত্থানে।
মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মাঝে একটা বাজেট দিয়েছিল এবং আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট বাস্তবায়ন করেছিল। এতে অবশ্য ভিন্নতার প্রমাণ দিতে পারেননি তারা। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা আর বিদেশি মুদ্রার মজুত বাড়ানোর প্রয়াস ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তাদের আগ্রহ ছিল কম। মনোযোগ বেশি ছিল রাজনৈতিক সংস্কারে। নানা পক্ষের দাবিদাওয়া ঘিরে রাস্তার আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে তাদের অনেক বেশি। শ্রমিক বেল্টেও অসন্তোষ কম ছিল না। আইনশৃঙ্খলার অবনতির ধারা রোধ হয়নি। তাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও অনেক কমে যায়। এটি ঘটার কারণেও বেসরকারি খাতে কাজকর্ম কমে গিয়েছিল। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলে এর উপকরণ সরবরাহের ধারাটিও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কাজের সুযোগ বাড়ে। প্রকল্পের মানহীন বাস্তবায়নেও এটি কম ঘটে না। এজন্য আবার অনেকে চান, যেভাবে হোক– সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়ুক। অপচয় হলে হোক!
এর চাইতে ভালো নিশ্চয় ব্যয় বাড়া এবং কাজের মানটিও নিশ্চিত হওয়া। কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়া আরও ভালো নিশ্চয়। এক টাকার কাজ দুই টাকা দিয়ে করার মানে দক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া; সঙ্গে দুর্নীতি হওয়া। এ ধরনের ‘অপচয়মূলক ব্যয়’ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বিগত সরকারের আমলে। ইউনূস সরকারের আমলে বলা হলো, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ ছাড় হবে না। এ-ই করে এডিপির আকারই তারা দিলেন অনেক কমিয়ে। উন্নয়নকাজ, এমনকি রাস্তাঘাট সংস্কার করে ব্যবহারোপযোগী রাখার কাজটিও হলো অবহেলিত। এ অবস্থায় ভালো হতো– যদি সেই সরকার পরিচালন ব্যয়টাও কমিয়ে আনতে পারতো। হয়েছে উল্টো। পরিচালন ব্যয় গেছে বেড়ে। সে কারণে ইউনূস সরকারও আওয়ামী স্টাইলে ধারকর্জ করে সরকার চালিয়ে গেছে। ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়েছে। ওই সরকার বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোয় এ খাতে বেড়েছে ভর্তুকিও।
তারেক রহমান সরকার কিছুদিন আগে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। চটজলদি আবার কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ছাড় দিয়েছে তাদের। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময়ও চেষ্টা করেছে সাধারণ মানুষকে এর চাপ থেকে কিছুটা মুক্ত রাখতে। কিন্তু এ ধরনের দাম বৃদ্ধির চাপ গিয়ে নানাভাবেই পড়ে জনজীবনে। তাতে অস্থিরতা বাড়ে। বাড়ে মূল্যস্ফীতি। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের আগমুহূর্তে মূল্যস্ফীতি কিন্তু নতুন করে বেড়েছে। পরপর দু’মাস এটা বাড়ার ঘটনায় মনে হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি সামনে আরও বাড়বে। এ অবস্থায় কোন্ প্রত্যাশায় বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করা হচ্ছে, কে জানে!
সরকার কি পারবে অস্থিতিশীল বিশ্ববাজারে অধিক ব্যয়ে জ্বালানি আমদানি কমাতে? নতুন সরকার কি দু-তিন বছরেও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়িয়ে এলএনজি আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনতে পারবে? চুক্তি পুনর্বিন্যাস করে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আর ভর্তুকি কমাতে পারবে সরকার? গ্যাস জুগিয়ে সার কারখানা চালু রেখে এ খাতে বেড়ে চলা আমদানি ব্যয় কি কমিয়ে আনতে পারবে? এগুলো এক অর্থবছরের কাজ নয় অবশ্য। চাইলে হয়তো এক মেয়াদে বড় পরিবর্তন আনা যাবে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে।
জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো যাবে আরও রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা করা গেলে। রাশিয়ার মতো উৎস থেকে ক্রুড অয়েল আনা গেলেও কম ব্যয় হবে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে না হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিও রোধ করা যাবে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার ধারা বেগবান হবে; প্রবৃদ্ধি বাড়তে শুরু করবে। এটা এখন ৪ শতাংশের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। এর আগের অর্থবছরে কমে গিয়েছিল আরও। এই প্রবৃদ্ধিও হতো না– বিশেষ করে কৃষি খাত ঘুরে না দাঁড়ালে। কৃষিতেও বাড়ছে উপকরণ ব্যয়। তারেক রহমান সরকার অবশ্য কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে। ভর্তুকি বাবদ ব্যয় নাকি কমাতে চাইছে সরকার। কিন্তু কৃষিতে এটা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভর্তুকি বাড়াতে হবে কৃষির আধুনিকায়নে। সময়মতো ধান উত্তোলনে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে– যেহেতু কৃষি মজুর সহজে মিলছে না। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে লজিস্টিকস সহায়তায়ও বাড়াতে হবে ব্যয়। ভর্তুকি হতে হবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত।
এক বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা যাবে না। বিশেষত সরকারের প্রথম বাজেটে সংস্কার আনা যাবে কমই। সংকটের গভীরতাও এখন বেশি। তা সত্ত্বেও বাজেটে যেন গতানুগতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়াসটি পরিলক্ষিত হয়। বাজেট পেশের পরও এর সংশোধনী আর বাস্তবায়নে তার প্রমাণ রাখা যাবে। কোন খাতে ব্যয়ের কী পরিকল্পনা, তার চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় সেইসব ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অধিক ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও। নজিরবিহীন হাম পরিস্থিতি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর মান রক্ষার প্রশ্নটিও সামনে এনেছে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মিড ডে মিল’ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এগুলো মানবসম্পদ উন্নয়নে গভীর অর্থবহ ব্যয়। খাইয়ে-পরিয়ে ভালো রাখা গেলে আজকের শিশুরা আগামীর বাংলাদেশ রচনায় ভূমিকা রাখার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে উঠবে বৈকি।
হাসান মামুন : সাংবাদিক, কলামিস্ট; ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেশটির নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে নদীটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
রেহান আসিফ আসাদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাদার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে বুধবার (১০ জুন) স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরেছেন সিম ট্যাক্স, স্টার্টআপ তহবিল, ডেটা সেন্টারসহ ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা।
১৮ ঘণ্টা আগে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এই তথ্য জানাচ্ছে খোদ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
১৯ ঘণ্টা আগে
ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
২১ ঘণ্টা আগে