leadT1ad

ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক মাস্ক থাকেন মাত্র ৪০০ বর্গফুটের ঘরে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৮: ০৬
টেক্সাসের এই ছোট্ট বাড়িতেই বাস করেন ইলন মাস্ক। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক। তবে বিপুল সম্পদের এই মালিক জীবনযাপন করেন বেশ সাদামাটাভাবে।

২০২১ সালে ইলন মাস্ক বলেছিলেন, তিনি প্রায় ৫০ হাজার ডলার মূল্যের একটি ছোট বাড়িতে থাকেন। আর ওই বাড়িটি তিনি ভাড়া নিয়েছেন তাঁর নিজেরই প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স থেকে।

বাড়িটি নির্মাণ করেছে আবাসন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বক্সএবল। এর আয়তন মাত্র ২০ ফুট × ২০ ফুট। টেক্সাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রনের তথ্য অনুযায়ী, ছোট এই বাড়িতে একটি বসার জায়গা, শোবার অংশ, রান্নাঘর এবং বাথটাব-শাওয়ারসহ একটি বাথরুম রয়েছে। মাস্কের এই সাদামাটা জীবনযাপন তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিলাসবহুল বাড়িগুলোর সঙ্গে বেশ বৈপরীত্য সৃষ্টি করে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাস্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় টেক্সাসের ওয়েস্ট লেক হিলস এলাকায় অন্তত তিনটি বড় বাড়ি রয়েছে। এসব বাড়ির আয়তন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার বর্গফুটের মধ্যে এবং প্রতিটিতেই রয়েছে সুইমিং পুলসহ নানা বিলাসবহুল সুবিধা।

কর্মমুখী জীবন

২০২৩ সালে ইলন মাস্কের জীবনীকার ওয়াল্টার আইজাকসন বাড়িটির ভেতরের একটি ছবি প্রকাশ করেন। তিনি এটিকে ‘অত্যন্ত সাধারণ দুই কক্ষের বাড়ি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মাস্ক এখানে একটি কাঠের টেবিলে বসেই প্রায়শই ফোনে ব্যবসায়িক আলাপ করতেন।

চলতি বছরের শুরুতে বাড়িটি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মাস্কের মা মে মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ফ্রিজে কোনো খাবার নেই। ডান পাশে যে গ্যারেজটি দেখা যাচ্ছে, সেখানেই আমি ঘুমিয়েছি। বাথরুমে মাত্র একটি তোয়ালে ছিল, তাই সেটি আমি ইলনের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। এতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ছোটবেলায় আমি কালাহারি মরুভূমিতে টানা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত গোসল ছাড়া কাটিয়েছি। এমন ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। সেখানে পানিরই ব্যবস্থা ছিল না। আমার মনে হয়, আমার বাবা-মা আমাকে এমন জীবনযাপনের জন্যই প্রস্তুত করেছিলেন। তাই এটাকেই আমি বিলাসিতা মনে করি।’

কাজপাগল হিসেবে পরিচিত ইলন মাস্ক বরাবরই আরাম আয়েশের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। টেসলার মডেল ৩ উৎপাদন সংকটের সময় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার কারখানাতেই রাত কাটাতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মাস্কের এই সাধারণ জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতভেদ দেখা গেছে। এক্সে একজন লিখেছেন, ‘যারা অবাক হচ্ছেন, তাদের জন্য বলছি ট্রিলিয়নিয়ার হয়েও ইলন মাস্ক এখনো একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। যদি তার অর্থসম্পদ দেখে আপনার রাগ হয়, তাহলে হয়তো আপনি কেবলই ঈর্ষান্বিত অথবা সমাজতন্ত্রী কমিউনিস্ট।’

আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই, ট্রিলিয়নিয়াররা এমনই হোক। তিনি নিজের সম্পদ নিয়ে জাঁকজমক দেখান না। তার হাতে নগদ অর্থ এক বিলিয়ন ডলারেরও কম। তার মোট সম্পদের ৯৯ শতাংশের বেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত।’

তবে সবাই এই ব্যাখ্যায় একমত নন। রেডিটে এক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতেই মাস্ক এমন কৌশল ব্যবহার করেন। তিনি লেখেন, ‘যারা এসব বিশ্বাস করে তারা বোকা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত