leadT1ad

রয়টার্সের প্রতিবেদন

হামলা না করার শর্তে ইরানকে ১০-২০ বিলিয়ন ডলার দেবে আমিরাত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১০: ৪০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইরানের হামলার পর জায়েদ বন্দরে ধোঁয়া ওঠছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে দেশটিকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, মোট ২০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের হামলা বন্ধের বিনিময়ে এই চুক্তি হয়েছে। এই দুজনও ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তবে এই অর্থ আমিরাতের নিজস্ব নাকি দেশটির ব্যাংকগুলোতে অথবা অন্য কোথাও আটকে থাকা ইরানেরই অর্থ, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মিত্র উপসাগরীয় ধনী দেশটি ক্রমাগত ইরানের কৌশলগত হামলা শিকার হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে দেশটি ইসরায়েলের সহায়তা নিয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। এর মধ্যে এমন তথ্য আরব আমিরাতের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত আলোচনার মধ্যেই এসেছে এই তথ্য।বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই আলোচনায় বিদেশি ব্যাংকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা ইরানের ১০ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার বিষয়ও থাকতে পারে।

অবশ্য শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি অস্বীকার করে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোনো অবরুদ্ধ ইরানি তহবিল মুক্ত অথবা স্থানান্তর করা হয়নি।

এর আগে, অর্থ হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিরাতের একজন কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় উত্তেজনা হ্রাস, আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উদ্যোগসহ এমন সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে, যা অঞ্চলটির জনগণকে সংঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপের বিষয়ে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি সই বা বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ইরানকে অর্থ দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ইরান তাঁর দায়বদ্ধতা পূরণ করলে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।

এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় প্রকাশ্য শত্রুতা থেকে আমিরাত-ইরান সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়েছে। ইরানি হামলায় দুবাইয়ের হোটেলগুলো খালি হয়ে যায়। অনেক প্রবাসী দেশটি ছাড়েন। নিরাপত্তা সুনামের কারণে পৃথিবীর অন্যতম ব্যবসায়িক কেন্দ্র হয়ে ওঠা আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খায়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর একজন রয়টার্সকে বলেন, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত সমাধানের একটি পথ তৈরি করেছে। কোনো পক্ষকেই নিজেদের সীমারেখা অতিক্রম করতে হচ্ছে না। এখন ইরান দাবি করতে পারে, তারা যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। ওয়াশিংটন বলতে পারে, তারা কোনো অর্থ দেয়নি। পাশাপাশি আবুধাবি নিজেদের নিরাপত্তা ও দুবাইয়ের ব্যবসায়িক কেন্দ্রের মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে। একসঙ্গে এটিকে আঞ্চলিক আস্থা পুনর্গঠনে বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

অন্য সূত্রটি জানিয়েছে, অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে আমিরাতের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করবে ইরান। উভয় দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও পুনর্গঠন করা হবে।

সূত্রটি আরও জানায়, ইরান অন্তত আরও দুটি উপসাগরীয় আরব দেশের কাছেও একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে।

আমিরাতের ওপর ইরানের সবশেষ সরাসরি হামলা এক মাসেরও বেশি আগে হয়েছে। গত ৪ মে ওমান উপসাগরে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে ওই হামলা চালানো হয়।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আগে আলোচনা শুরু হলেও গত সপ্তাহে ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা আবুধাবি যান। সেখানে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপ-শাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর আলোচনার গতি বাড়ে। এরপর আমিরাতের কর্মকর্তারা লেনদেনের বিস্তারিত কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে তেহরান সফর করেন।

ইরানের বেশিরভাগ আটকে থাকা সম্পদ দুবাইয়ে

আমিরাত-ইরান চুক্তিটি এমন একটি জটিল সময়ে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, যেখানে দুবাই জড়িত থাকতে পারে। কারণ, দুবাই আমিরাতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শহর এবং ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।

দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা আছে, যার বেশির ভাগ অংশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে আছে। বৈশ্বিক ডলার লেনদেনের ওপর নজরদারি করে যুক্তরাষ্ট্র। কালোতালিকাভুক্ত কোনো ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি কোনো ব্যাংক লেনদেন করলে তাদেরও মার্কিন আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

১১ এপ্রিল এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র বলেন, কাতার ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্রুত সেই দাবি অস্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

Ad 300x250

সম্পর্কিত