‘কন্টেইনারে লুকিয়ে’ তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প, জানালেন নিজেই

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় সম্ভাব্য হুমকির কারণে গোপনে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিনি নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প জানান, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশে তিনি অন্য একটি উড়োজাহাজে যান। খবর বিবিসি

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ জুলাই টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। পরে একটি খাবার সরবরাহকারী (ক্যাটারিং) কন্টেইনারের সহায়তায় তাঁকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে নেওয়া হয়।

শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজ বদলের ঘটনায় প্রশ্ন উঠে, যে উড়োজাহাজকে ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে থাকা ব্যক্তিরা ঝুঁকিতে পড়েছিলেন কি না। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি যে সামরিক উড়োজাহাজে উঠেছিলেন, সেটি ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিবিসির বরাতে জানান, ইরান ওই উড়োজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে এমন তথ্য পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীরা জানতেন না যে সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় গোপন এক অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প জানান, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে তিনি ছিলেন ইরানের ‘নম্বর ওয়ান টার্গেট’। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, সেখানে হুমকি ছিল। বিষয়টি সম্পর্কে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি। আমার বিরুদ্ধে অনেক হুমকি আছে, যেগুলো আপনারা জানেন না।’

উল্লেখ্য, গত মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা শুরুর এক দিন পরেই এই গোপন কৌশল নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে তুরস্কে পৌঁছেছিলেন। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেরার সময় সেটির পরিবর্তে তিনি ‘পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহার করবেন।

৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে তাঁকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি যে পাশ দিয়ে উড়োজাহাজে উঠেছিলেন, তার বিপরীত পাশে একটি খাবার সরবরাহকারী কন্টেইনারকে উড়োজাহাজের সমান উচ্চতায় তোলা হয়। সেখান দিয়ে তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে বেরিয়ে যান। এরপর তাঁকে একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মী এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। তাঁদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। তাঁরা জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট আর ওই উড়োজাহাজে নেই। উড়োজাহাজটিতে থাকা মিডিয়া পুলের এক প্রযোজক বলেন, জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশনা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। এক ফটো সাংবাদিক কিছুক্ষণের জন্য একটি পর্দা তুলেছিলেন। তাঁকে দ্রুত সেটি নামিয়ে ফেলতে বলা হয় বলে জানান তিনি।

গতকাল এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকেরা উড়োজাহাজে ওঠার সময় সামনে ও পেছনে দুটি খারার সরবরাহকারী কন্টেইনার দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া বিমানবন্দরে মোটরকেডের মধ্যে মিডিয়ার গাড়িটি এতটাই পেছনে ছিল যে ট্রাম্পকে উড়োজাহাজে ওঠার ছবি তোলাও সম্ভব হয়নি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত