ঝাড়খন্ডে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার প্রতিবাদে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ এবিভিপির মিছিল, আটক ২০০

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০১
এবিভিপির আটক হওয়া আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খন্ডে সরকারি চাকরি পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সোমবার লাঠিপেটা করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মিছিল বের করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। এসময় তাদের দুই শতাধিক বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি, জাতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং এবং ঝাড়খন্ড রাজ্য সম্পাদক প্রকাশ তুতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবিভিপির সমন্বয়ক সত্যম মিশ্র বলেন, গতকাল বেলা ২টা থেকে আড়াইটার দিকে পুরোনো বিধানসভার কাছে পুলিশ মিছিল থামিয়ে দেয়। পরে বিভিন্ন গাড়িতে করে বিক্ষোভকারীদের নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মিশ্র বলেন, বিক্ষোভকারীদের থামাতে পুলিশ হালকা শক্তি প্রয়োগ করেছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ লাঠিপেটা করা হয়নি।

আগের দিন সোমবার শিক্ষার্থীদের মিছিলে লাঠিপেটার প্রতিবাদে এবিভিপি এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবিভিপির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ঝাড়খন্ড বন্ধের ডাক দিয়েছিল।

শিক্ষার্থী ও এবিভিপি কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা-আটকের সমালোচনা করে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমর কুমার বাউরি বলেন, সরকার শক্তি প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি রাস্তা থেকে বিধানসভা পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবে।

এদিকে, সোমবারের বিক্ষোভে আহত হওয়ার পর ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো হাসপাতাল থেকে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরাও লাঠিপেটার প্রতিবাদে একটি নীরব মিছিল বের করেন।

ঝাড়খন্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ১৯ দিন ধরে আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) তদন্ত করতে হবে।

জেএলকেএম ও জেপিএসসি–জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের নেতারা জেএসএসসি–সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড এজেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষাও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত।

এর আগে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে তাঁদের দাবির বিষয়ে ন্যায়বিচার করা হবে। তবে জেএসএসসি–সিজিএল পরীক্ষায় সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত