সম্পর্কের মধ্যে হঠাৎ কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াকেই বলা হয় ‘গোস্টিং’। এটি শুধু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নয়, প্রেম, পরিবার কিংবা অন্য যেকোনো সম্পর্কেও ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রামানি দুরভাসুলার ভাষায়, ‘গোস্টিং’ হলো নীরবে, অনেকটা ভূতের মতো করে কারও জীবন থেকে সরে যাওয়া।’
তামান্না আনজুম

হোমারের লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’র প্রধান চরিত্র ওডিসিউস বাড়ি ফেরার পর তার বিশ্বস্ত কুকুর আর্গোস তাকে চিনতে পারে। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন দৃশ্যটি বর্ণনা করতে হোমার ব্যবহার করেছেন মাত্র প্রায় ৪০টি লাইন। অথচ এটি পুরো মহাকাব্যের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা। মহাকাব্যের এই দৃশ্যটি পর্দায় নতুন করে তুলে ধরেছেন ক্রিস্টোফার নোলান। তাঁর নির্মিত ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনি ওডিসিউস ও আর্গোসের পুনর্মিলনের দৃশ্যটিও দর্শকদের নাড়া দিয়েছে।
ওডিসিউস ‘ওডিসি’র অন্যতম প্রধান চরিত্র। তিনি ইথাকার রাজা ছিলেন এবং গ্রিকদের হয়ে ট্রয় যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ট্রয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নিজের রাজ্য ইথাকায় ফিরতে তাঁর প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। যুদ্ধের ১০ বছরসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২০ বছর বাড়ির বাইরে ছিলেন তিনি।
অনেকে ধরে নিয়েছিল, ওডিসিউস আর বেঁচে নেই। শেষ পর্যন্ত ওডিসিউস ইথাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু সরাসরি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি। আর্গোস ছিল ওডিসিউসের পোষা কুকুর। ওডিসিউস যখন ইথাকা ছেড়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তখন আর্গোস ছিল শক্তিশালী শিকারি কুকুর।

কিন্তু ২০ বছর পর ওডিসিউস যখন ফিরে এলেন, তখন আর্গোস একেবারে বৃদ্ধ ও দুর্বল। বয়সের কারণে সে অন্ধ হয়ে গেছে। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ। অবহেলায় তাকে ফেলে রাখা হয়েছে নোংরা আবর্জনার স্তূপের পাশে। এমন সময় আর্গোসের সামনে হাজির হলেন ওডিসিউস। রাজার বেশে নয়, তিনি তখন ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ছিলেন। অথচ নিজের প্রভুকে চিনতে আর্গোসের একমুহূর্তও সময় লাগেনি। সে মাথা তুলল, শেষবারের মতো লেজ নাড়ল। তারপরই মারা গেল।
ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর চলচ্চিত্রে আর্গোসের গল্পটি আরও বিস্তৃত করেছেন। সেখানে দেখানো হয়েছে, প্রাসাদের ক্ষমতালোভী লোকদের অবহেলা ও নির্যাতনের মধ্যে কীভাবে কুকুরটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। ছবিটি যারা দেখেছেন, তাঁদের অনেকের কাছে ওডিসিউস ও আর্গোসের সেই ছোট্ট পুনর্মিলন ছিল সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি।
নোলান নিজেও বলেছেন, আর্গোসের গল্প তাঁকে এই দৃশ্যের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। এমনকি তিনি এই মহাকাব্যকে ‘আল্টিমেট ডগ মুভি’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, এই দৃশ্যটি কেন আমাদের এত গভীরভাবে নাড়া দেয়? এর অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো, আর্গোস মানুষের একটি মৌলিক আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করে। সেই আকাঙ্ক্ষা হলো, পরিস্থিতি যেমনই হোক, কেউ যেন আমাদের চিনতে পারে।
মানুষ চায়, কেউ তাকে সত্যি করে চিনুক। তার কথা, প্রতিদিনকার অভ্যাস, অনুভূতি—সবকিছুর ভেতর দিয়ে তাঁকে বুঝুক। বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো, সব কথা মুখে না বললেও কাছের মানুষটি আমাদের বুঝতে পারে। ভালোবাসার ক্ষেত্রেও আমরা চাই, সময়ের সঙ্গে আমাদের চেহারা, জীবন কিংবা পরিস্থিতি বদলে গেলেও প্রিয় মানুষটি যেন আমাদের চিনতে পারে।
এ ছাড়া মানুষ উপেক্ষিত বা অবহেলিত হতে চায় না। এটা তাঁর কাছে খুব কষ্টের বিষয়। কেউ ঘৃণা করছে, সেটাও এক ধরনের অনুভূতি। কিন্তু কেউ যখন এমন আচরণ করে, যেন আমরা তাঁর কাছে একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নই, তখন সেই কষ্ট আরও বেশি হয়ে থাকে। তখন মনে হতে পারে, যে মানুষটি একসময় আমাদের কাছের ছিল, সে যেন এখন আমাদের অস্তিত্বই ভুলে গেছে।
এ কারণেই কারো সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া বা ‘গোস্ট’ করা এত কষ্টদায়ক হতে পারে। এটা শুধু প্রত্যাখ্যানের বিষয় নয়। এর মধ্যে আরও গভীর কষ্ট আছে। যে মানুষটি একসময় আপনাকে চিনত, বুঝত, আপনার উপস্থিতির মূল্য দিত, সে হঠাৎ এমন আচরণ করতে শুরু করে, যেন আপনি তার জীবনে কখনো ছিলেনই না। মনে হয়, আপনার পরিচয়, আপনার সঙ্গে কাটানো সময়—কোনোকিছুই তার কাছে আর কোনো অর্থ বহন করে না।
তবে ওডিসিউসের সেই পোষা কুকুর আর্গোস ঠিক এর বিপরীত কাজ করে।
২০ বছরের বিচ্ছেদ, নানা ছদ্মবেশ আর পরিবর্তনের পরও একমাত্র আর্গোসই সেই মানুষটিকে চিনতে পারে, যিনি একসময় নিজেকে ‘নো বডি’ বা ‘কেউ নয়’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এদিকে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান, অবহেলা কিংবা দেবী অ্যাথেনার জাদু, কোনো কিছুই আর্গোসকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। সে ছদ্মবেশের আড়ালে ঠিকই সেই মানুষটিকেই দেখতে পেয়েছিল, যাকে সে সবসময় চিনত।
ওডিসিউস কুকুরটির জন্য কাঁদেন। কিন্তু সেই কান্না কি শুধু আর্গোসের জন্য ছিল? আসলে তিনি নিজের জন্যও কাঁদছিলেন। কারণ ২০ বছর ধরে তাকে নানা মানুষের কাছে নানা রূপ ধারণ করতে হয়েছে। কিন্তু আর্গোসের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার মুহূর্তে অল্প সময়ের জন্য হলেও কেউ তাকে সব পরিচয় ও ছদ্মবেশের বাইরে গিয়ে চিনেছিল। সে চিনেছিল আসল ওডিসিউসকে।
কুকুরের এই বিশ্বস্ততার প্রমাণ মেলে ভারতের দুই মহাকাব্য ‘মহাভারত’ ও ‘রামায়ণ’-এর মধ্যেও। মহাভারত-এর শেষদিকে, ভয়াবহ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পঞ্চ পাণ্ডব অর্থাৎ পাণ্ডবের ৫ ভাই মেরু পর্বতের দিকে যাত্রা করেন। তাদের সঙ্গে ছিল একটি পথ কুকুর। দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত শুধু জ্যেষ্ঠ ভাই রাজা যুধিষ্ঠির স্বর্গের দরজায় পৌঁছান। সেখানে দেবতা ইন্দ্র তাকে স্বর্গে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু তিনি কুকুরটিকে সঙ্গে নিতে অস্বীকার করেন।
কুকুরকে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় যুধিষ্ঠির স্বর্গে প্রবেশের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যে প্রাণী এতটা পথ তার বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে এসেছে, তাকে তিনি ফেলে যেতে পারবেন না। সেসময় কুকুরটি নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে। সে আর কেউ নয়, ধর্ম। অর্থাৎ নৈতিকতা ও কর্তব্যের প্রতীক। এরপর যুধিষ্ঠির তার ভাইদের সঙ্গে স্বর্গে পুনর্মিলিত হন।
· সাইকোলজি টুডে অবলম্বনে

হোমারের লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’র প্রধান চরিত্র ওডিসিউস বাড়ি ফেরার পর তার বিশ্বস্ত কুকুর আর্গোস তাকে চিনতে পারে। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন দৃশ্যটি বর্ণনা করতে হোমার ব্যবহার করেছেন মাত্র প্রায় ৪০টি লাইন। অথচ এটি পুরো মহাকাব্যের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা। মহাকাব্যের এই দৃশ্যটি পর্দায় নতুন করে তুলে ধরেছেন ক্রিস্টোফার নোলান। তাঁর নির্মিত ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনি ওডিসিউস ও আর্গোসের পুনর্মিলনের দৃশ্যটিও দর্শকদের নাড়া দিয়েছে।
ওডিসিউস ‘ওডিসি’র অন্যতম প্রধান চরিত্র। তিনি ইথাকার রাজা ছিলেন এবং গ্রিকদের হয়ে ট্রয় যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ট্রয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নিজের রাজ্য ইথাকায় ফিরতে তাঁর প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। যুদ্ধের ১০ বছরসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২০ বছর বাড়ির বাইরে ছিলেন তিনি।
অনেকে ধরে নিয়েছিল, ওডিসিউস আর বেঁচে নেই। শেষ পর্যন্ত ওডিসিউস ইথাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু সরাসরি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি। আর্গোস ছিল ওডিসিউসের পোষা কুকুর। ওডিসিউস যখন ইথাকা ছেড়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তখন আর্গোস ছিল শক্তিশালী শিকারি কুকুর।

কিন্তু ২০ বছর পর ওডিসিউস যখন ফিরে এলেন, তখন আর্গোস একেবারে বৃদ্ধ ও দুর্বল। বয়সের কারণে সে অন্ধ হয়ে গেছে। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ। অবহেলায় তাকে ফেলে রাখা হয়েছে নোংরা আবর্জনার স্তূপের পাশে। এমন সময় আর্গোসের সামনে হাজির হলেন ওডিসিউস। রাজার বেশে নয়, তিনি তখন ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ছিলেন। অথচ নিজের প্রভুকে চিনতে আর্গোসের একমুহূর্তও সময় লাগেনি। সে মাথা তুলল, শেষবারের মতো লেজ নাড়ল। তারপরই মারা গেল।
ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর চলচ্চিত্রে আর্গোসের গল্পটি আরও বিস্তৃত করেছেন। সেখানে দেখানো হয়েছে, প্রাসাদের ক্ষমতালোভী লোকদের অবহেলা ও নির্যাতনের মধ্যে কীভাবে কুকুরটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। ছবিটি যারা দেখেছেন, তাঁদের অনেকের কাছে ওডিসিউস ও আর্গোসের সেই ছোট্ট পুনর্মিলন ছিল সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি।
নোলান নিজেও বলেছেন, আর্গোসের গল্প তাঁকে এই দৃশ্যের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। এমনকি তিনি এই মহাকাব্যকে ‘আল্টিমেট ডগ মুভি’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, এই দৃশ্যটি কেন আমাদের এত গভীরভাবে নাড়া দেয়? এর অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো, আর্গোস মানুষের একটি মৌলিক আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করে। সেই আকাঙ্ক্ষা হলো, পরিস্থিতি যেমনই হোক, কেউ যেন আমাদের চিনতে পারে।
মানুষ চায়, কেউ তাকে সত্যি করে চিনুক। তার কথা, প্রতিদিনকার অভ্যাস, অনুভূতি—সবকিছুর ভেতর দিয়ে তাঁকে বুঝুক। বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো, সব কথা মুখে না বললেও কাছের মানুষটি আমাদের বুঝতে পারে। ভালোবাসার ক্ষেত্রেও আমরা চাই, সময়ের সঙ্গে আমাদের চেহারা, জীবন কিংবা পরিস্থিতি বদলে গেলেও প্রিয় মানুষটি যেন আমাদের চিনতে পারে।
এ ছাড়া মানুষ উপেক্ষিত বা অবহেলিত হতে চায় না। এটা তাঁর কাছে খুব কষ্টের বিষয়। কেউ ঘৃণা করছে, সেটাও এক ধরনের অনুভূতি। কিন্তু কেউ যখন এমন আচরণ করে, যেন আমরা তাঁর কাছে একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নই, তখন সেই কষ্ট আরও বেশি হয়ে থাকে। তখন মনে হতে পারে, যে মানুষটি একসময় আমাদের কাছের ছিল, সে যেন এখন আমাদের অস্তিত্বই ভুলে গেছে।
এ কারণেই কারো সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া বা ‘গোস্ট’ করা এত কষ্টদায়ক হতে পারে। এটা শুধু প্রত্যাখ্যানের বিষয় নয়। এর মধ্যে আরও গভীর কষ্ট আছে। যে মানুষটি একসময় আপনাকে চিনত, বুঝত, আপনার উপস্থিতির মূল্য দিত, সে হঠাৎ এমন আচরণ করতে শুরু করে, যেন আপনি তার জীবনে কখনো ছিলেনই না। মনে হয়, আপনার পরিচয়, আপনার সঙ্গে কাটানো সময়—কোনোকিছুই তার কাছে আর কোনো অর্থ বহন করে না।
তবে ওডিসিউসের সেই পোষা কুকুর আর্গোস ঠিক এর বিপরীত কাজ করে।
২০ বছরের বিচ্ছেদ, নানা ছদ্মবেশ আর পরিবর্তনের পরও একমাত্র আর্গোসই সেই মানুষটিকে চিনতে পারে, যিনি একসময় নিজেকে ‘নো বডি’ বা ‘কেউ নয়’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এদিকে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান, অবহেলা কিংবা দেবী অ্যাথেনার জাদু, কোনো কিছুই আর্গোসকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। সে ছদ্মবেশের আড়ালে ঠিকই সেই মানুষটিকেই দেখতে পেয়েছিল, যাকে সে সবসময় চিনত।
ওডিসিউস কুকুরটির জন্য কাঁদেন। কিন্তু সেই কান্না কি শুধু আর্গোসের জন্য ছিল? আসলে তিনি নিজের জন্যও কাঁদছিলেন। কারণ ২০ বছর ধরে তাকে নানা মানুষের কাছে নানা রূপ ধারণ করতে হয়েছে। কিন্তু আর্গোসের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার মুহূর্তে অল্প সময়ের জন্য হলেও কেউ তাকে সব পরিচয় ও ছদ্মবেশের বাইরে গিয়ে চিনেছিল। সে চিনেছিল আসল ওডিসিউসকে।
কুকুরের এই বিশ্বস্ততার প্রমাণ মেলে ভারতের দুই মহাকাব্য ‘মহাভারত’ ও ‘রামায়ণ’-এর মধ্যেও। মহাভারত-এর শেষদিকে, ভয়াবহ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পঞ্চ পাণ্ডব অর্থাৎ পাণ্ডবের ৫ ভাই মেরু পর্বতের দিকে যাত্রা করেন। তাদের সঙ্গে ছিল একটি পথ কুকুর। দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত শুধু জ্যেষ্ঠ ভাই রাজা যুধিষ্ঠির স্বর্গের দরজায় পৌঁছান। সেখানে দেবতা ইন্দ্র তাকে স্বর্গে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু তিনি কুকুরটিকে সঙ্গে নিতে অস্বীকার করেন।
কুকুরকে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় যুধিষ্ঠির স্বর্গে প্রবেশের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যে প্রাণী এতটা পথ তার বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে এসেছে, তাকে তিনি ফেলে যেতে পারবেন না। সেসময় কুকুরটি নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে। সে আর কেউ নয়, ধর্ম। অর্থাৎ নৈতিকতা ও কর্তব্যের প্রতীক। এরপর যুধিষ্ঠির তার ভাইদের সঙ্গে স্বর্গে পুনর্মিলিত হন।
· সাইকোলজি টুডে অবলম্বনে
.png)

হুমায়ুন আজাদের বহুল আলোচিত এই উক্তিগুলো পাওয়া যায় ‘হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ’ বইয়ে। কিন্তু বইটি কেবল এমন কিছু আপাত-নিরীহ অথচ গভীর সত্য উচ্চারণে ভরা—এমনটা ভাবলে ভুল হবে। বইয়ের পাঁচ নম্বর প্রবচনেই পাঠক থমকে যেতে পারেন। সেখানে লেখা, ‘শামসুর রাহমানকে একটি অভিনেত্রীর সাথে টিভিতে দেখা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বন্য প্রাণীগুলোর একটি সিংহ। ছোটবেলা থেকেই গল্প, সিনেমা আর ছবিতে আমরা তাকে দেখে এসেছি বনের রাজা হিসেবে। তার গর্জন, কেশর আর রাজকীয় উপস্থিতি যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। ‘বনের রাজা’কে বিশ্ব সিংহ দিবসের পরের দিন একটু অন্যভাবে চেনা যাক।
১১ আগস্ট ২০২৬
শিল্পপ্রেমীদের কাছে ‘চিত্রার লাল মিয়া’ নামে পরিচিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন আজ (১০ আগস্ট)। তাঁর তুলিতে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও জীবনগাথা উঠে এসেছিল এক অনন্য উচ্চতায়। সেই শিল্পকর্মগুলো কোথায়, কেমন আছে এখন?
১০ আগস্ট ২০২৬
অলসতার জন্যও যে একটা দিন থাকতে পারে, তা শুনে হয়তো অবাক লাগছে! সারাদিন কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর ‘প্রোডাক্টিভ’ থাকার দৌড়ে আমরা বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপরাধ মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সব অলসতা খারাপ? বরং কিছু অভ্যাস, যেগুলোকে আমরা অলসতা ভাবি, সেগুলোই হতে পারে বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত।
১০ আগস্ট ২০২৬