পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বন্য প্রাণীগুলোর একটি সিংহ। ছোটবেলা থেকেই গল্প, সিনেমা আর ছবিতে আমরা তাকে দেখে এসেছি বনের রাজা হিসেবে। তার গর্জন, কেশর আর রাজকীয় উপস্থিতি যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। ‘বনের রাজা’কে বিশ্ব সিংহ দিবসের পরের দিন একটু অন্যভাবে চেনা যাক।
স্ট্রিম ডেস্ক

‘বনের রাজা’ হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীটিকে আমরা যতটা চিনি, সিংহের দুনিয়া আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি মজার। জানেন কি, ২৩০ কেজি ওজনের সিংহও অনায়াসে গাছে উঠতে পারে? আবার সব পুরুষ সিংহের কেশরও থাকে না। জন্মের সময় সিংহশাবকের শরীরে থাকে দাগ, আর তাদের গর্জন শোনা যেতে পারে প্রায় আট কিলোমিটার দূর থেকেও।
এমনকি একসময় ইউরোপের মাটিতেও ঘুরে বেড়াত সিংহ। বিশ্ব সিংহ দিবসের রেশ ধরে চলুন জেনে নেওয়া যাক বনের এই রাজাকে নিয়ে এমন কিছু তথ্য, যা হয়তো আগে জানতেন না।
সিংহের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে আছে এমন প্রাণীর সংখ্যা কম নয়। আবার বুদ্ধির দিক দিয়েই সিংহের চেয়ে এগিয়ে আছে শিয়াল, শিম্পাঞ্জি কিংবা বানরের মতো আরও অনেক প্রাণী। তারপরও সিংহকে বলা হয় বনের রাজা।
সিংহের এমন অনেক স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলো তাকে বনের অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। আট কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায় এমন গর্জন করতে পারে সিংহ। কোনো কোনো সিংহ আবার অনায়াসে গাছে উঠে বসে। জন্মের সময় তাদের শরীরে থাকে দাগ, আবার কিছু পুরুষ সিংহের কেশরই গজায় না। চলুন জেনে নিই সিংহের কিছু মজাদার তথ্য।
সিংহের গর্জন আট কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। শব্দের মাত্রা ১১৪ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে। সিংহ এত জোরে গর্জন করতে পারে এর বিশেষ ধরনের স্বরযন্ত্র ও ভোকাল কর্ডের কারণে। তাদের ভোকাল কর্ড চৌকো ও সমতল আকৃতির হয়ে থাকে। অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ত্রিভুজাকৃতির হয়। তাই সিংহের গলার ভেতর দিয়ে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। ফলে তাদের গর্জন আরও জোরালো হয়।
সিংহ বিভিন্ন কারণে গর্জন করে। তারা অন্য সিংহদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গর্জন করে। আবার দূরে থাকা সিংহদেরও এর মাধ্যমে সংকেত দিতে পারে কিংবা নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করতেও গর্জন করে। কাছাকাছি আসা প্রতিদ্বন্দ্বী বা সম্ভাব্য হুমকিকে ভয় দেখাতেও গর্জন করে থাকা।
সবচেয়ে বেশি সিংহ পাওয়া যায় আফ্রিকায়। এশিয়াতেও অল্পসংখ্যক সিংহ বাস করে। এদের বলা হয় এশিয়ান সিংহ। ভারতের গির অরণ্যে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এশিয়ান সিংহ আফ্রিকার সিংহের তুলনায় কিছুটা ছোট। তাদের পেটের নিচে লম্বালম্বি একটি বিশেষ চামড়ার ভাঁজ থাকে।
এশিয়ার সিংহ খোলা তৃণভূমির বদলে ঘন বনে বাস করে। এই পরিবেশের সঙ্গে তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। তাদের দলও তুলনামূলক ছোট হয়। একটি দলে সাধারণত মাত্র দুই বা তিনটি স্ত্রী সিংহ থাকে। এদিকে আফ্রিকান সিংহের দলে এর চেয়ে বেশি স্ত্রী সিংহ দেখা যায়। একসময় এশিয়ান সিংহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত পর্যন্ত বিশাল এলাকায় বাস করত। এখন তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
শিকার সিংহের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই সিংহ রক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নিয়ম চালু হয়েছে। তারপরও প্রতি বছর শত শত সিংহ অবৈধভাবে শিকার করা হয়।
সংরক্ষণবিদদের ধারণা, প্রতি বছর প্রায় ৬০০ সিংহ মানুষের হাতে মারা যায়। এতে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন সিংহ তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকে। সিংহ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদের মধ্যে থাকা কার্বন সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। এভাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেও কিছুটা সাহায্য করে সিংহ।
উগান্ডার কুইন এলিজাবেথ ন্যাশনাল পার্কে সিংহদের প্রায়ই বড় ডুমুর ও অ্যাকেশিয়া গাছের উঁচু ডালে দেখা যায়। একটি সিংহের ওজন ২৩০ কেজি (৫০৭ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। তারপরও তারা অনায়াসে গাছে উঠে যায়।
ধারণা করা হয়, গাছে ওঠার মাধ্যমে তারা দুপুরের গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়। একই সঙ্গে ওপর থেকে নিজেদের এলাকা ও সম্ভাব্য শিকারও ভালোভাবে দেখতে পারে।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে একসময় ইউরোপের অনেক এলাকাতে সিংহ বাস করত। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ বা তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত দক্ষিণ ইউরোপে সিংহ ছিল। শুধু তাই নয়, প্রাচীন ইউরোপীয় সাহিত্য ও শিল্পকর্মে সিংহের উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হয় যে ইউরোপে একসময় সিংহ ছিল। পরে বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত ইউরোপীয় সিংহের জীবাশ্মও খুঁজে পান।
বিজ্ঞানীদের মতে, অতীতের সিংহ দেখতে বর্তমানকালের সিংহের মতো ছিল না। তারা বরফযুগের ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল। জীবাশ্ম ও গুহাচিত্র থেকে জানা যায়, তারা আধুনিক সিংহের চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল। তাদের শরীরও ছিল বেশি শক্তিশালী।
ধারণা করা হয়, মানুষের শিকারের কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যায়।
সিংহের বাচ্চা জন্মের সময় তাদের শরীর বড় সিংহের মতো একরঙা থাকে না। তাদের শরীরে দাগ ও গোলাকার ছোপ থাকে। এই দাগ তাদের পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকতে সাহায্য করে। ফলে ছোট ও দুর্বল বাচ্চারা শিকারির চোখ এড়িয়ে চলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। তবে কিছু সিংহের পা বা পেটের নিচে বড় হওয়ার পরও হালকা দাগ দেখা যায়।
প্রাপ্তবয়স্ক সিংহের শরীরে সাধারণত ছোট লোম থাকে। তাদের গায়ের রংও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন হালকা হলুদ, কমলা-বাদামি, রুপালি ধূসর বা গাঢ় বাদামি। পুরুষ সিংহের মাথায় সাধারণত কেশর থাকে। কেশরের রং হালকা বাদামি থেকে কালো পর্যন্ত হতে পারে। সব সিংহের লেজের শেষ প্রান্তে গাঢ় রঙের লোমের ঝুঁটি থাকে।
কেশর সিংহের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তবে কিছু সিংহের কেশর থাকে না। এটি পুরুষ ও স্ত্রী—দুই ধরনের সিংহের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। কোনো সিংহের কেশর থাকবে কি না, তা জিনগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলেও পুরুষ সিংহের কেশর কমে যেতে পারে। বিষয়টি অনেকটা পুরুষদের চুল পড়ার মতো। কেনিয়ার সাভো অঞ্চলে এমন কিছু পুরুষ সিংহ রয়েছে, যাদের কখনো কেশর গজায় না। বড় হওয়ার পরও তাদের কেশর তৈরি হয় না। এটি তাদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য হতে পারে।
কিছু বিজ্ঞানীর ধারণা, কেশরের সঙ্গে তাপমাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। ঘন কেশর শরীরের তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ঠান্ডা অঞ্চলে এটি বেশি প্রয়োজন হতে পারে। অন্য একটি ধারণা হলো, সাভোর কাঁটাযুক্ত গাছপালার মধ্যে চলাফেরা সহজ করতে সেখানকার সিংহেরা কেশরহীন হয়ে উঠেছে।
সিংহের চামড়া, দাঁত, হাড় ও নখ ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে কালোবাজারে এগুলোর চাহিদা রয়েছে।
সিংহের শরীরের বিভিন্ন অংশ অনেক দামে বিক্রি হয়। দাঁত ও নখ দিয়ে গয়না ও বিভিন্ন অলংকার তৈরি করা হয়। হাড় গুঁড়া করে বা বিভিন্ন টনিক তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই অবৈধ ব্যবসা সিংহের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
একটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী সিংহ প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ কেজি মাংস খায়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সিংহের প্রয়োজন প্রায় আট কেজি বা তারও বেশি। তবে সিংহ প্রতিদিন শিকার করে খায় না। তারা একবারে অনেক মাংস খেতে পারে। এরপর সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর আবার শিকারে যায়।
স্ত্রী সিংহেরা সাধারণত জেব্রা ও ওয়াইল্ডবিস্টের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে। এ ধরনের বড় শিকার পুরো দলকে খাবার দিতে পারে। তবে তারা ছোট প্রাণীও খায়; যেমন ইঁদুর, পাখি, খরগোশ ও টিকটিকি।
সিংহ সাধারণত ওত পেতে শিকার করে। সিংহের দল জঙ্গলে অর্ধবৃত্তের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিকার পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরার সুযোগ বাড়ে। সিংহের চোখ মানুষের চোখের তুলনায় ছয় গুণ বেশি আলো-সংবেদনশীল। তাই রাতে শিকার করার ক্ষেত্রেও তারা খুব দক্ষ।

‘বনের রাজা’ হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীটিকে আমরা যতটা চিনি, সিংহের দুনিয়া আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি মজার। জানেন কি, ২৩০ কেজি ওজনের সিংহও অনায়াসে গাছে উঠতে পারে? আবার সব পুরুষ সিংহের কেশরও থাকে না। জন্মের সময় সিংহশাবকের শরীরে থাকে দাগ, আর তাদের গর্জন শোনা যেতে পারে প্রায় আট কিলোমিটার দূর থেকেও।
এমনকি একসময় ইউরোপের মাটিতেও ঘুরে বেড়াত সিংহ। বিশ্ব সিংহ দিবসের রেশ ধরে চলুন জেনে নেওয়া যাক বনের এই রাজাকে নিয়ে এমন কিছু তথ্য, যা হয়তো আগে জানতেন না।
সিংহের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে আছে এমন প্রাণীর সংখ্যা কম নয়। আবার বুদ্ধির দিক দিয়েই সিংহের চেয়ে এগিয়ে আছে শিয়াল, শিম্পাঞ্জি কিংবা বানরের মতো আরও অনেক প্রাণী। তারপরও সিংহকে বলা হয় বনের রাজা।
সিংহের এমন অনেক স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলো তাকে বনের অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। আট কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায় এমন গর্জন করতে পারে সিংহ। কোনো কোনো সিংহ আবার অনায়াসে গাছে উঠে বসে। জন্মের সময় তাদের শরীরে থাকে দাগ, আবার কিছু পুরুষ সিংহের কেশরই গজায় না। চলুন জেনে নিই সিংহের কিছু মজাদার তথ্য।
সিংহের গর্জন আট কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। শব্দের মাত্রা ১১৪ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে। সিংহ এত জোরে গর্জন করতে পারে এর বিশেষ ধরনের স্বরযন্ত্র ও ভোকাল কর্ডের কারণে। তাদের ভোকাল কর্ড চৌকো ও সমতল আকৃতির হয়ে থাকে। অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ত্রিভুজাকৃতির হয়। তাই সিংহের গলার ভেতর দিয়ে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। ফলে তাদের গর্জন আরও জোরালো হয়।
সিংহ বিভিন্ন কারণে গর্জন করে। তারা অন্য সিংহদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গর্জন করে। আবার দূরে থাকা সিংহদেরও এর মাধ্যমে সংকেত দিতে পারে কিংবা নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করতেও গর্জন করে। কাছাকাছি আসা প্রতিদ্বন্দ্বী বা সম্ভাব্য হুমকিকে ভয় দেখাতেও গর্জন করে থাকা।
সবচেয়ে বেশি সিংহ পাওয়া যায় আফ্রিকায়। এশিয়াতেও অল্পসংখ্যক সিংহ বাস করে। এদের বলা হয় এশিয়ান সিংহ। ভারতের গির অরণ্যে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এশিয়ান সিংহ আফ্রিকার সিংহের তুলনায় কিছুটা ছোট। তাদের পেটের নিচে লম্বালম্বি একটি বিশেষ চামড়ার ভাঁজ থাকে।
এশিয়ার সিংহ খোলা তৃণভূমির বদলে ঘন বনে বাস করে। এই পরিবেশের সঙ্গে তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। তাদের দলও তুলনামূলক ছোট হয়। একটি দলে সাধারণত মাত্র দুই বা তিনটি স্ত্রী সিংহ থাকে। এদিকে আফ্রিকান সিংহের দলে এর চেয়ে বেশি স্ত্রী সিংহ দেখা যায়। একসময় এশিয়ান সিংহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত পর্যন্ত বিশাল এলাকায় বাস করত। এখন তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
শিকার সিংহের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই সিংহ রক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নিয়ম চালু হয়েছে। তারপরও প্রতি বছর শত শত সিংহ অবৈধভাবে শিকার করা হয়।
সংরক্ষণবিদদের ধারণা, প্রতি বছর প্রায় ৬০০ সিংহ মানুষের হাতে মারা যায়। এতে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন সিংহ তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকে। সিংহ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদের মধ্যে থাকা কার্বন সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। এভাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেও কিছুটা সাহায্য করে সিংহ।
উগান্ডার কুইন এলিজাবেথ ন্যাশনাল পার্কে সিংহদের প্রায়ই বড় ডুমুর ও অ্যাকেশিয়া গাছের উঁচু ডালে দেখা যায়। একটি সিংহের ওজন ২৩০ কেজি (৫০৭ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। তারপরও তারা অনায়াসে গাছে উঠে যায়।
ধারণা করা হয়, গাছে ওঠার মাধ্যমে তারা দুপুরের গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়। একই সঙ্গে ওপর থেকে নিজেদের এলাকা ও সম্ভাব্য শিকারও ভালোভাবে দেখতে পারে।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে একসময় ইউরোপের অনেক এলাকাতে সিংহ বাস করত। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ বা তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত দক্ষিণ ইউরোপে সিংহ ছিল। শুধু তাই নয়, প্রাচীন ইউরোপীয় সাহিত্য ও শিল্পকর্মে সিংহের উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হয় যে ইউরোপে একসময় সিংহ ছিল। পরে বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত ইউরোপীয় সিংহের জীবাশ্মও খুঁজে পান।
বিজ্ঞানীদের মতে, অতীতের সিংহ দেখতে বর্তমানকালের সিংহের মতো ছিল না। তারা বরফযুগের ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল। জীবাশ্ম ও গুহাচিত্র থেকে জানা যায়, তারা আধুনিক সিংহের চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল। তাদের শরীরও ছিল বেশি শক্তিশালী।
ধারণা করা হয়, মানুষের শিকারের কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যায়।
সিংহের বাচ্চা জন্মের সময় তাদের শরীর বড় সিংহের মতো একরঙা থাকে না। তাদের শরীরে দাগ ও গোলাকার ছোপ থাকে। এই দাগ তাদের পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকতে সাহায্য করে। ফলে ছোট ও দুর্বল বাচ্চারা শিকারির চোখ এড়িয়ে চলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। তবে কিছু সিংহের পা বা পেটের নিচে বড় হওয়ার পরও হালকা দাগ দেখা যায়।
প্রাপ্তবয়স্ক সিংহের শরীরে সাধারণত ছোট লোম থাকে। তাদের গায়ের রংও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন হালকা হলুদ, কমলা-বাদামি, রুপালি ধূসর বা গাঢ় বাদামি। পুরুষ সিংহের মাথায় সাধারণত কেশর থাকে। কেশরের রং হালকা বাদামি থেকে কালো পর্যন্ত হতে পারে। সব সিংহের লেজের শেষ প্রান্তে গাঢ় রঙের লোমের ঝুঁটি থাকে।
কেশর সিংহের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তবে কিছু সিংহের কেশর থাকে না। এটি পুরুষ ও স্ত্রী—দুই ধরনের সিংহের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। কোনো সিংহের কেশর থাকবে কি না, তা জিনগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলেও পুরুষ সিংহের কেশর কমে যেতে পারে। বিষয়টি অনেকটা পুরুষদের চুল পড়ার মতো। কেনিয়ার সাভো অঞ্চলে এমন কিছু পুরুষ সিংহ রয়েছে, যাদের কখনো কেশর গজায় না। বড় হওয়ার পরও তাদের কেশর তৈরি হয় না। এটি তাদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য হতে পারে।
কিছু বিজ্ঞানীর ধারণা, কেশরের সঙ্গে তাপমাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। ঘন কেশর শরীরের তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ঠান্ডা অঞ্চলে এটি বেশি প্রয়োজন হতে পারে। অন্য একটি ধারণা হলো, সাভোর কাঁটাযুক্ত গাছপালার মধ্যে চলাফেরা সহজ করতে সেখানকার সিংহেরা কেশরহীন হয়ে উঠেছে।
সিংহের চামড়া, দাঁত, হাড় ও নখ ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে কালোবাজারে এগুলোর চাহিদা রয়েছে।
সিংহের শরীরের বিভিন্ন অংশ অনেক দামে বিক্রি হয়। দাঁত ও নখ দিয়ে গয়না ও বিভিন্ন অলংকার তৈরি করা হয়। হাড় গুঁড়া করে বা বিভিন্ন টনিক তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই অবৈধ ব্যবসা সিংহের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
একটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী সিংহ প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ কেজি মাংস খায়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সিংহের প্রয়োজন প্রায় আট কেজি বা তারও বেশি। তবে সিংহ প্রতিদিন শিকার করে খায় না। তারা একবারে অনেক মাংস খেতে পারে। এরপর সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর আবার শিকারে যায়।
স্ত্রী সিংহেরা সাধারণত জেব্রা ও ওয়াইল্ডবিস্টের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে। এ ধরনের বড় শিকার পুরো দলকে খাবার দিতে পারে। তবে তারা ছোট প্রাণীও খায়; যেমন ইঁদুর, পাখি, খরগোশ ও টিকটিকি।
সিংহ সাধারণত ওত পেতে শিকার করে। সিংহের দল জঙ্গলে অর্ধবৃত্তের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিকার পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরার সুযোগ বাড়ে। সিংহের চোখ মানুষের চোখের তুলনায় ছয় গুণ বেশি আলো-সংবেদনশীল। তাই রাতে শিকার করার ক্ষেত্রেও তারা খুব দক্ষ।
.png)

শিল্পপ্রেমীদের কাছে ‘চিত্রার লাল মিয়া’ নামে পরিচিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন আজ (১০ আগস্ট)। তাঁর তুলিতে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও জীবনগাথা উঠে এসেছিল এক অনন্য উচ্চতায়। সেই শিল্পকর্মগুলো কোথায়, কেমন আছে এখন?
১০ আগস্ট ২০২৬
অলসতার জন্যও যে একটা দিন থাকতে পারে, তা শুনে হয়তো অবাক লাগছে! সারাদিন কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর ‘প্রোডাক্টিভ’ থাকার দৌড়ে আমরা বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপরাধ মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সব অলসতা খারাপ? বরং কিছু অভ্যাস, যেগুলোকে আমরা অলসতা ভাবি, সেগুলোই হতে পারে বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত।
১০ আগস্ট ২০২৬
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি ও স্কাল্পচার পার্ক। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর চতুর্থ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোববার বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে
০৯ আগস্ট ২০২৬