কোর্টে আটকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের আদেশ, বাংলাদেশিদের লাভ-ক্ষতি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২১: ৫৭
প্রতীকী ছবি।

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আদালত জানান, ট্রাম্পের এই আদেশ মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া সবার জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রেখেছেন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ সই করেছিলেন। ওই আদেশের মূল লক্ষ্য ছিল দেশটিতে অবৈধভাবে কিংবা অস্থায়ী আইনি মর্যাদায় বসবাসকারী অভিভাবকদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিল করা।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা এই আইনের পরিবর্তনের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি রবার্টস তাঁর রুলে লেখেন, ‘আমাদের সংবিধান এ দেশে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আমরা তা রক্ষা করছি।”

ট্রাম্পের আদেশ আটকে না দিলে যে বিপর্যয় ঘটত

যদি সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের পক্ষে রায় দিতেন, তবে তা মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক সংজ্ঞাকেই বদলে দিত। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এক ডেমোগ্রাফিক প্রজেকশন অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে বড় সংখ্যায় অনথিভুক্ত জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হতো। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে মার্কিন মাটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ কোনো আইনি মর্যাদা ছাড়াই রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ত।

এছাড়া প্রতিটি নবজাতকের জন্মসনদ বা পাসপোর্ট দেওয়ার আগে অভিভাবকদের অভিবাসন মর্যাদা যাচাইয়ে জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তৈরি হতো, যা পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্থবিরতা নিয়ে আসত।

দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের ওপর প্রভাব

ট্রাম্পের এই আদেশ বহাল থাকলে বৈধভাবে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের—বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলত। বর্তমানে এইচ-১বি বা এফ-১ ভিসায় থাকা দক্ষ দক্ষিণ এশীয় কর্মীদের বড় অংশই দশকের পর দশক ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই পেশাজীবীদের শিশুরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেত না। এর মানে হলো, গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অবস্থাতেই বয়স ২১ পার হলে এসব সন্তানদের জোর করে তাদের আদি নিবাসে ফেরত পাঠানোর সুযোগ থাকত।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে এই রায়ের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে রায়ের কিছুক্ষণ আগে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি নিবন্ধ শেয়ার করে তিনি লেখেন, মার্কিন কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন পাসের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত