নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৩৯২

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৫৪
নেপালের নুওয়াকোটের ত্রিশূলিতে আকস্মিক বন্যার পর ড্রোন ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে কাদায় নিমজ্জিত ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞ। সংগৃহীত ছবি
নেপালের নুওয়াকোটের ত্রিশূলিতে আকস্মিক বন্যার পর ড্রোন ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে কাদায় নিমজ্জিত ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞ। সংগৃহীত ছবি

নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ জনে। অন্যদিকে তিব্বত অঞ্চলে ৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম।

নেপাল ও তিব্বতজুড়ে এখনো ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পর্যটন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে অন্তত ৫০০ বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩, কানাডার ২৫ এবং চীনের প্রায় ১০০ নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।

বন্যাদুর্গত নুওয়াকোট জেলা পরিদর্শনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ছবি: বিবিসি
বন্যাদুর্গত নুওয়াকোট জেলা পরিদর্শনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ছবি: বিবিসি

এদিকে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুয়াকোট জেলার বিদুরে সড়কপথে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ ও জাতীয় পুলিশের ১৩ হাজারেরও বেশি সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনভর ৬৯টি হেলিকপ্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দুর্গত এলাকা থেকে ৫৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অস্থায়ী ত্রাণশিবির স্থাপন ও আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো জীবন রক্ষা, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ত্রাণ সরবরাহ।

নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানান, হেলিকপ্টারের সহায়তায় তাঁবু, খাদ্য ও ওষুধপত্র দুর্গত এলাকায় ফেলা হচ্ছে। ৫ হাজার উদ্ধারকারী মাঠে কাজ করছেন।

প্ল্যানেট ল্যাবসের প্রাথমিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ির উত্তর-পূর্বে লেন্দে নদীতে এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। রাসুয়ার স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকে বলেন, ‘যেদিকেই তাকাই শুধু ধ্বংসযজ্ঞ। নদীর পাশের বসতিগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং আমার নিজের ৫ আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন।’

তিব্বতের কৈলাশ পর্বত ও মানস সরোবরগামী বহু হিন্দু ও বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীও এই দুর্যোগের শিকার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দুর্যোগ উপদেষ্টা পাঠানোর পাশাপাশি ৫ লাখ ডলার এবং জাতিসংঘ জরুরি তহবিল (সিইআরএফ) থেকে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সুনীল আচার্য বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং জলবায়ু সংকটের নির্মম উদাহরণ।’ তিনি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তাগিদ দেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত