জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

১০৯ বছর আগে ব্রিটিশদের ধার নেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ফেরত চাইছে ভারতীয় পরিবার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩৬
বিবেক রুথিয়া ও ব্রিটিশদের অর্থ ধার দেওয়ার নথি। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য একসময় খুব গর্ব করত তাদের শাসনের সূর্য কখনো অস্ত যায় না। কিন্তু সেই পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যকেও যে একদিন অন্যের কাছে হাত পাততে হয়েছিল। ভারতের মধ্যপ্রদেশের স্থানীয় এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিতে হয়েছিল ধার। প্রদেশটির শান্ত শহর সেহোরে ভুলে যাওয়া এক টুকরো কাগজ সেই দিকটিই সামনে নিয়ে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ থেকে প্রায় ১০৯ বছর আগে, ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দাপটে গোটা পৃথিবী যখন টালমাটাল ও ঔপনিবেশিক প্রশাসন নানা চাপে জর্জরিত, তখন ব্রিটিশ সরকার সেহোর ও ভোপাল রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শেঠ জুম্মালাল রুথিয়ার কাছ থেকে ৩৫ হাজার রুপি ধার নিয়েছিল। সেই সময়ের নিরিখে এটি ছিল এক বিশাল অঙ্কের অর্থ। সমস্যা হলো সেই ধার দেওয়া অর্থ আর ফেরত পাননি শেঠ জুম্মালাল রুথিয়া।

এখন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর, জুম্মালালের নাতি বিবেক রুথিয়ার বলছেন, তিনি এই ‘ঐতিহাসিক ও অপরিশোধিত সার্বভৌম ঋণ’ আদায় করতে ব্রিটিশ সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কাগজটি কোথায় পেয়েছেন তা জানাতে গিয়ে বিবেক রুথিয়া জানান, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পুরোনো নথিপত্র ও পারিবারিক উইল ঘাঁটতে গিয়ে সার্টিফিকেট ও চিঠিপত্রসহ দলিলটির প্রমাণ মিলেছে।

তিনি বলেন, ‘১৯১৭ সালে আমার দাদা, প্রয়াত শেঠ জুম্মা লাল রুথিয়া, ব্রিটিশ সরকারকে ৩৫ হাজার রুপি ধার দিয়েছিলেন। আজ পর্যন্ত সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।’

ভোপাল রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখতে এই ঋণ নেওয়া হয়েছিল এবং এটিকে ‘যুদ্ধঋণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল— নথিগুলো তেমন ইঙ্গিতই করছে বলে দাবি বিবেক রুথিয়ার।

ঋণ দেওয়ার প্রায় ২০ বছর পর, ১৯৩৭ সালে শেঠ জুম্মালাল রুথিয়া মারা যান। পরিবারের দাবি, বিষয়টি তখন থেকেই অমীমাংসিত থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

পরিবারটি জানায়, তাঁরা আন্তর্জাতিক আইনের নীতি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের যুক্তি, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো তাত্ত্বিকভাবে পূর্বের নেওয়া ঋণ পরিশোধে বাধ্য।

অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মামলা বিরল ও জটিল হলেও দলিলের প্রমাণ-সমর্থিত ঐতিহাসিক দাবি আইনি বিতর্কের পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষত এটি যখন ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তির মধ্যে স্বাধীনতা-পূর্ব লেনদেন সংক্রান্ত।

স্বাধীনতার আগে রুথিয়া পরিবার সেহোর ও ভোপাল রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী ও সম্পদশালী পরিবার ছিল। প্রশাসনিক প্রভাব ও আর্থিক শক্তির জন্য সুপরিচিত এই পরিবার বিশাল জমি ও সম্পত্তির মালিক ছিল। এমনকি আজও বলা হয়, সেহোরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বসতি একসময়ের রুথিয়াদের জমির ওপর গড়ে উঠেছে।

পরিবারটি এখনো সেহোর, ইন্দোর ও ভোপালে অনেক সম্পত্তির মালিক এবং কৃষি, হোটেল ব্যবসা ও রিয়েল এস্টেট খাতে সক্রিয়। তবে অনেক পুরোনো জমিদার পরিবারের মতো তারাও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ও দশকের পর দশক নির্ধারিত নামমাত্র খাজনার মামলায় জড়িয়ে আছেন।

সম্পর্কিত