বাব আল-মান্দেবে হুতিদের অগ্রগতি

ঝুঁকিতে সৌদির তেল রপ্তানি, ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাইল রিয়াদ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ১৯
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। শুক্রবার ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হুতিদের এই অগ্রগতিতে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ইয়েমেন ও আফ্রিকার মাঝামাঝি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত পেরিম দ্বীপ। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখের এই প্রণালিকে ‘গেট অব টিয়ার্স’ বলা হয়। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে চাপ তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে ইরানের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় গত ছয় মাসে তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরপথের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করেছে সৌদি আরব। এর মধ্যেই হুথিদের হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। পাইপলাইন সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি ও তেল রপ্তানির ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবিতে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

এই হামলায় এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে বাগদাদ ও রিয়াদের দাবি, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছে। হামলার পর মাইসান প্রদেশের একজন সামরিক কমান্ডার ও পুলিশপ্রধানকে সরিয়ে দিয়েছে ইরাক। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে থাকা প্রধান সীমান্তপথ শালামচেহও বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার পেছনে ইরানের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

হুতিদের এই অগ্রগতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। দেশটির যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুবার ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের অনুরোধ করেন।

তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি হুতিদের ওপর মার্কিন হামলায় রাজি হননি। তবে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

একই দিন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সৌদি আরব সফর করেন। দুটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনার জন্য দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি।

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থানেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে এবং সংঘাত আর বাড়াতে চায় না। একই সময়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল সৌদি কর্মকর্তারা।

তবে হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে তাদের অবস্থান শক্ত হওয়ার পর এখন ওয়াশিংটনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ।

হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও যুবরাজের ফোনালাপের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের অংশ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে চায় ওয়াশিংটন।

শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি সৌদি যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে হুতিরা তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। এমন সময় হুতিদের এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত