স্ট্রিম ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান বিভাজন, দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে।
কেউ তাঁকে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নেতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তাঁকে উপমহাদেশ বিভাজন ও পরবর্তী সংকটের অন্যতম দায়ী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। কেউ বলছেন, তিনি মুসলিম জাতিসত্তার রক্ষক; আবার কেউ বলছেন, ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
এনসিপি নেতা নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একদিকে সামান্য সালাফিবাদ, অন্যদিকে একটু জিন্নাহ, সাথে কিছু কাওয়ালি মিশিয়ে নতুন “মুসলিম বাঙালি” পরিচয় দাঁড় করানোর চেষ্টা অনেক সময় কৃত্রিম ও প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়। নিজের মাটি, ভাষা, ইতিহাস ও জনগণের শক্তির উপর বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে জরুরি। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, আনোয়ার ইব্রাহিম কিংবা মাও সে তুং—কেউ এসে আমাদের লড়াই লড়ে দেবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের সমাজ, আমাদের রাষ্ট্র, আমাদেরকেই গড়তে হবে।’
কবি ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ গত দুই দিনে জিন্নাহকে দুটি পোস্ট দিয়েছেন। তাঁর পোস্টের মূল কথা হচ্ছে— আজকের ভারতে মুসলমানদের ওপর বৈষম্য, গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান ইত্যাদি ঘটনা জিন্নাহর পৃথক রাষ্ট্রের দাবিকে আংশিকভাবে সঠিক প্রমাণ করেছে। তবে এই সংকটের সমাধান পাকিস্তানপন্থী বা মুসলিম জাতীয়তাবাদের মধ্যে নেই। সংকটটি সমাধান করতে হবে সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যৌথ মানবিক অবস্থানের মাধ্যমে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী লেখক শিবলী আজাদ লিখেছেন, ‘গরুর গোশত খেতে পারার কারণে কায়েদে আজম খ্যাত মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ধন্যবাদ দিতে চাচ্ছেন ঠিক আছে। কোনো অসুবিধে নেই। কিন্তু জানবেন, জিন্নাহর স্বপ্নের পাকিস্তানে ইসলামী জোশ কিংবা শরীয়ার স্থান নেই।’
তিনি জিন্নাহকে তুর্কি শাসক মোস্তফা কামাল পাশার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। শিবলী লিখেছেন, ‘সমকালে জিন্নাহর সাযুজ্য ছিল মোস্তফা কামাল পাশার সাথে। আক্ষরিক অর্থে দুজনেই ছিলেন উদীয়মান আধুনিক দুই জাতির ত্রাতা।’
শিবলী আজাদের পোস্টের নিচে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘জিন্নাহ ও কামাল পাশা দুজনেই সেক্যুলার ছিলেন। তবে দুইজনের সেক্যুলারিজম একই রকম ছিল না। জিন্নাহর সেক্যুলারিজম ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বিশেষ প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত অসাম্প্রদায়িকতা; অন্যদিকে, কামাল পাশার সেক্যুলারিজম অনেকটাই ফরাসি সেক্যুলারিজমের মতো কট্টর।’
শিক্ষক ও সমালোচক শরিফ সাইদুরও জিন্নাহকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট লিখেছেন। তাঁর পোস্টের মূল বক্তব্য হচ্ছে—ভারতের পার্সি সম্প্রদায় জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র হলেও তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান এবং প্রভাব অত্যন্ত বড়। উদাহরণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, জিন্নাহর মেয়ে বিয়ে করেছে পার্সি, নেহরুর মেয়ে বিয়ে করেছে পার্সি৷ ভারতীয় বংশদ্ভূত দুই সংগীতের বিখ্যাত ব্যক্তি, জুবিন মেহতা ও ফ্রেডি মার্কারি, এরাও পার্সি। ভারতের মহান নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী হোমি ভাবাও পার্সি। উত্তর উপনিবেশ তত্ত্বের আরেক মাথা হোমি কে ভাবাও পার্সি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময়কার ভারতের শ্রেষ্ঠ সেনা প্রধান শ্যাম মানেকশও পার্সি।
জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একসময় তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রবক্তা। কিন্তু ১৯৩০-এর দশক থেকে তিনি ধীরে ধীরে মুসলিম লীগের প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন এবং মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবির মুখপাত্রে পরিণত হন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পর তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান আন্দোলন শক্তিশালী হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জিন্নাহ হন দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল। কিন্তু দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গণঅভিবাসন ও লাখো মানুষের মৃত্যু ঘটে। সেই থেকে ভারতীয় রাজনৈতিক স্মৃতিতে জিন্নাহর নাম বিভাজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিন্নাহর ১৪৮তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়।
নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সদস্য সচিব ফারুক হাসান বলেছিলেন, বিগত ১৫ বছর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাম মুখে আনা বাংলাদেশে অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ ছিল। তারা (আওয়ামী লীগ) ইতিহাসের মহানায়কদের স্বীকার করতে চায় না।
পরের বছরেও জিন্নাহর জন্মদিনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমি। ওই সময় থেকেই মূলত জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কারণ বাংলাদেশ একসময় পাকিস্তানেরই অংশ ছিল। ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলায় সফরে এসে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন—‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ এই বক্তব্য পূর্ব বাংলার বাঙালি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যায়।
এসব কারণে বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেন, জিন্নাহ বাঙালি ভাষা ও সংস্কৃতিকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে পারেননি। আবার কিছু মানুষ যুক্তি দেন, জিন্নাহ না থাকলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা কখনো পাকিস্তানের অংশ হতো না, আর সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের জন্মও হতো না। ফলে তাদের দৃষ্টিতে জিন্নাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক পরোক্ষ নির্মাতা। সামাজিক মাধ্যমে এই যুক্তিও প্রায়ই দেখা যায়।
এই দুটি ধারার বাইরে আরেকটি অংশ মনে করেন, জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ব্যর্থতার ফল হিসেবেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। কারণ পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণা ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর দাঁড়ালেও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে।
পাকিস্তানে জিন্নাহকে সাধারণত ‘কায়েদে আজম’ বা মহান নেতা হিসেবে দেখা হয়। রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে তিনি দেশের প্রতিষ্ঠাতা, মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকারের রক্ষক এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তাঁর ছবি সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মুদ্রায় ব্যবহৃত হয়।
তবে পাকিস্তানের ভেতরেও জিন্নাহকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উদারপন্থীরা প্রায়ই তাঁর ১১ আগস্ট ১৯৪৭ সালের বক্তৃতা উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ও নাগরিক-সমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো তাঁকে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। ফলে জিন্নাহকে নিয়ে পাকিস্তানে এক ধরনের আদর্শিক টানাপোড়েনও রয়েছে।
পাকিস্তানি গবেষক আয়েশা জালাল তাঁর ‘দ্য সোল স্পোকসম্যান’ বইয়ে বলেছেন, জিন্নাহর মূল লক্ষ্য একটি কঠোর ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা ছিল না। তিনি মুসলমানদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তান ছিল অনেকটা রাজনৈতিক দর-কষাকষির ফল।
আবার ভারতেও জিন্নাহকে নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি বিভক্ত। দেশভাগের স্মৃতি এবং পাকিস্তান-ভারত বৈরিতার কারণে বহু ভারতীয় তাঁকে দেশভাগের প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে জিন্নাহকে প্রায়ই একটি নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে দেখা হয়।
ভারতের সাবেক বিজেপি নেতা যসবন্ত সিং তাঁর ‘জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইনডিপেনডেন্স’ বইয়ে লিখেছেন, ‘ভারতে জিন্নাহকে দীর্ঘদিন ধরে খলনায়ক বানানো হয়েছে এবং দেশভাগের সমস্ত দায় তাঁর ওপর চাপানো হয়েছে।’ বইটি প্রকাশের পর এত বিতর্ক হয় যে বিজেপি তাঁকে দল থেকেই বহিষ্কার করে।
তবে ভারতের একাংশের ইতিহাসবিদ ও গবেষক মনে করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি, কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান—এসবও দেশভাগের জন্য দায়ী ছিল। ফলে পুরো দায় একা জিন্নাহর ওপর চাপানো ইতিহাসকে অতিসরলীকরণ করে।
সাংবাদিক ও লেখক মৃদুলা মুখার্জী হিন্দুস্তান টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে লিখেছেন—ব্রিটিশ শাসন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। বিশেষ করে ১৯০৯ সালের মর্লি মিন্টো রিফর্মসের মাধ্যমে পৃথক মুসলিম নির্বাচকমণ্ডলী চালু হওয়া ছিল পরবর্তী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইতিহাসকে প্রায়ই বর্তমান রাজনীতির অস্ত্রে পরিণত করে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—তিন দেশেই জাতীয় পরিচয়, ধর্ম, ভাষা ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। ফলে জিন্নাহ এমন এক ঐতিহাসিক চরিত্র, যাকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান সমর্থনের জন্য ব্যবহার করতে চায়।
বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক ইতিহাসচর্চা এবং রাজনৈতিক কনটেন্টের বিস্তারও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। কাণ্ডজ্ঞান দিয়েই বোঝা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে ভুল তথ্য, আংশিক তথ্য এবং আবেগনির্ভর বয়ান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জিন্নাহকে ঘিরে বিতর্কও প্রায়ই তথ্যভিত্তিক আলোচনার বদলে পরিচয়ভিত্তিক তর্কে পরিণত হয়।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এমন একটি নাম, যাকে এককভাবে নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন। পাকিস্তানে তিনি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার মহানায়ক; ভারতে তিনি অধিকাংশের কাছে দেশভাগের প্রতীক; আর বাংলাদেশে তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্থপতি এবং ভাষা-সংকটের সূত্রপাতকারী এক বিতর্কিত ঐতিহাসিক চরিত্র।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখনই জাতীয় পরিচয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, দ্বিজাতিতত্ত্ব বা বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়, জিন্নাহ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। মূলত দেশের রাজনৈতিক পালাবদল, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা, ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং ফেসবুক-ইউটিউবকেন্দ্রিক ‘অল্টারনেট হিস্ট্রি’ কনটেন্টের উত্থান—সব মিলিয়ে জিন্নাহকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।
তথ্যসূত্র: দ্য সোল স্পোকসম্যান, জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইনডিপেনডেন্স, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও জার্মানির পত্রিকা ডেল্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান বিভাজন, দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে।
কেউ তাঁকে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নেতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তাঁকে উপমহাদেশ বিভাজন ও পরবর্তী সংকটের অন্যতম দায়ী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। কেউ বলছেন, তিনি মুসলিম জাতিসত্তার রক্ষক; আবার কেউ বলছেন, ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
এনসিপি নেতা নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একদিকে সামান্য সালাফিবাদ, অন্যদিকে একটু জিন্নাহ, সাথে কিছু কাওয়ালি মিশিয়ে নতুন “মুসলিম বাঙালি” পরিচয় দাঁড় করানোর চেষ্টা অনেক সময় কৃত্রিম ও প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়। নিজের মাটি, ভাষা, ইতিহাস ও জনগণের শক্তির উপর বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে জরুরি। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, আনোয়ার ইব্রাহিম কিংবা মাও সে তুং—কেউ এসে আমাদের লড়াই লড়ে দেবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের সমাজ, আমাদের রাষ্ট্র, আমাদেরকেই গড়তে হবে।’
কবি ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ গত দুই দিনে জিন্নাহকে দুটি পোস্ট দিয়েছেন। তাঁর পোস্টের মূল কথা হচ্ছে— আজকের ভারতে মুসলমানদের ওপর বৈষম্য, গরু জবাই নিষেধাজ্ঞা, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান ইত্যাদি ঘটনা জিন্নাহর পৃথক রাষ্ট্রের দাবিকে আংশিকভাবে সঠিক প্রমাণ করেছে। তবে এই সংকটের সমাধান পাকিস্তানপন্থী বা মুসলিম জাতীয়তাবাদের মধ্যে নেই। সংকটটি সমাধান করতে হবে সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যৌথ মানবিক অবস্থানের মাধ্যমে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী লেখক শিবলী আজাদ লিখেছেন, ‘গরুর গোশত খেতে পারার কারণে কায়েদে আজম খ্যাত মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ধন্যবাদ দিতে চাচ্ছেন ঠিক আছে। কোনো অসুবিধে নেই। কিন্তু জানবেন, জিন্নাহর স্বপ্নের পাকিস্তানে ইসলামী জোশ কিংবা শরীয়ার স্থান নেই।’
তিনি জিন্নাহকে তুর্কি শাসক মোস্তফা কামাল পাশার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। শিবলী লিখেছেন, ‘সমকালে জিন্নাহর সাযুজ্য ছিল মোস্তফা কামাল পাশার সাথে। আক্ষরিক অর্থে দুজনেই ছিলেন উদীয়মান আধুনিক দুই জাতির ত্রাতা।’
শিবলী আজাদের পোস্টের নিচে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘জিন্নাহ ও কামাল পাশা দুজনেই সেক্যুলার ছিলেন। তবে দুইজনের সেক্যুলারিজম একই রকম ছিল না। জিন্নাহর সেক্যুলারিজম ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বিশেষ প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত অসাম্প্রদায়িকতা; অন্যদিকে, কামাল পাশার সেক্যুলারিজম অনেকটাই ফরাসি সেক্যুলারিজমের মতো কট্টর।’
শিক্ষক ও সমালোচক শরিফ সাইদুরও জিন্নাহকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট লিখেছেন। তাঁর পোস্টের মূল বক্তব্য হচ্ছে—ভারতের পার্সি সম্প্রদায় জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র হলেও তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান এবং প্রভাব অত্যন্ত বড়। উদাহরণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, জিন্নাহর মেয়ে বিয়ে করেছে পার্সি, নেহরুর মেয়ে বিয়ে করেছে পার্সি৷ ভারতীয় বংশদ্ভূত দুই সংগীতের বিখ্যাত ব্যক্তি, জুবিন মেহতা ও ফ্রেডি মার্কারি, এরাও পার্সি। ভারতের মহান নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী হোমি ভাবাও পার্সি। উত্তর উপনিবেশ তত্ত্বের আরেক মাথা হোমি কে ভাবাও পার্সি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময়কার ভারতের শ্রেষ্ঠ সেনা প্রধান শ্যাম মানেকশও পার্সি।
জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একসময় তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রবক্তা। কিন্তু ১৯৩০-এর দশক থেকে তিনি ধীরে ধীরে মুসলিম লীগের প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন এবং মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবির মুখপাত্রে পরিণত হন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পর তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান আন্দোলন শক্তিশালী হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জিন্নাহ হন দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল। কিন্তু দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গণঅভিবাসন ও লাখো মানুষের মৃত্যু ঘটে। সেই থেকে ভারতীয় রাজনৈতিক স্মৃতিতে জিন্নাহর নাম বিভাজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিন্নাহর ১৪৮তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়।
নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সদস্য সচিব ফারুক হাসান বলেছিলেন, বিগত ১৫ বছর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাম মুখে আনা বাংলাদেশে অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ ছিল। তারা (আওয়ামী লীগ) ইতিহাসের মহানায়কদের স্বীকার করতে চায় না।
পরের বছরেও জিন্নাহর জন্মদিনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমি। ওই সময় থেকেই মূলত জিন্নাহকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কারণ বাংলাদেশ একসময় পাকিস্তানেরই অংশ ছিল। ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলায় সফরে এসে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন—‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ এই বক্তব্য পূর্ব বাংলার বাঙালি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যায়।
এসব কারণে বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেন, জিন্নাহ বাঙালি ভাষা ও সংস্কৃতিকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে পারেননি। আবার কিছু মানুষ যুক্তি দেন, জিন্নাহ না থাকলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা কখনো পাকিস্তানের অংশ হতো না, আর সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের জন্মও হতো না। ফলে তাদের দৃষ্টিতে জিন্নাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক পরোক্ষ নির্মাতা। সামাজিক মাধ্যমে এই যুক্তিও প্রায়ই দেখা যায়।
এই দুটি ধারার বাইরে আরেকটি অংশ মনে করেন, জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ব্যর্থতার ফল হিসেবেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। কারণ পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণা ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর দাঁড়ালেও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে।
পাকিস্তানে জিন্নাহকে সাধারণত ‘কায়েদে আজম’ বা মহান নেতা হিসেবে দেখা হয়। রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে তিনি দেশের প্রতিষ্ঠাতা, মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকারের রক্ষক এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তাঁর ছবি সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মুদ্রায় ব্যবহৃত হয়।
তবে পাকিস্তানের ভেতরেও জিন্নাহকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উদারপন্থীরা প্রায়ই তাঁর ১১ আগস্ট ১৯৪৭ সালের বক্তৃতা উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ও নাগরিক-সমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো তাঁকে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। ফলে জিন্নাহকে নিয়ে পাকিস্তানে এক ধরনের আদর্শিক টানাপোড়েনও রয়েছে।
পাকিস্তানি গবেষক আয়েশা জালাল তাঁর ‘দ্য সোল স্পোকসম্যান’ বইয়ে বলেছেন, জিন্নাহর মূল লক্ষ্য একটি কঠোর ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা ছিল না। তিনি মুসলমানদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তান ছিল অনেকটা রাজনৈতিক দর-কষাকষির ফল।
আবার ভারতেও জিন্নাহকে নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি বিভক্ত। দেশভাগের স্মৃতি এবং পাকিস্তান-ভারত বৈরিতার কারণে বহু ভারতীয় তাঁকে দেশভাগের প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে জিন্নাহকে প্রায়ই একটি নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে দেখা হয়।
ভারতের সাবেক বিজেপি নেতা যসবন্ত সিং তাঁর ‘জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইনডিপেনডেন্স’ বইয়ে লিখেছেন, ‘ভারতে জিন্নাহকে দীর্ঘদিন ধরে খলনায়ক বানানো হয়েছে এবং দেশভাগের সমস্ত দায় তাঁর ওপর চাপানো হয়েছে।’ বইটি প্রকাশের পর এত বিতর্ক হয় যে বিজেপি তাঁকে দল থেকেই বহিষ্কার করে।
তবে ভারতের একাংশের ইতিহাসবিদ ও গবেষক মনে করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি, কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান—এসবও দেশভাগের জন্য দায়ী ছিল। ফলে পুরো দায় একা জিন্নাহর ওপর চাপানো ইতিহাসকে অতিসরলীকরণ করে।
সাংবাদিক ও লেখক মৃদুলা মুখার্জী হিন্দুস্তান টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে লিখেছেন—ব্রিটিশ শাসন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। বিশেষ করে ১৯০৯ সালের মর্লি মিন্টো রিফর্মসের মাধ্যমে পৃথক মুসলিম নির্বাচকমণ্ডলী চালু হওয়া ছিল পরবর্তী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইতিহাসকে প্রায়ই বর্তমান রাজনীতির অস্ত্রে পরিণত করে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—তিন দেশেই জাতীয় পরিচয়, ধর্ম, ভাষা ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। ফলে জিন্নাহ এমন এক ঐতিহাসিক চরিত্র, যাকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান সমর্থনের জন্য ব্যবহার করতে চায়।
বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক ইতিহাসচর্চা এবং রাজনৈতিক কনটেন্টের বিস্তারও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। কাণ্ডজ্ঞান দিয়েই বোঝা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে ভুল তথ্য, আংশিক তথ্য এবং আবেগনির্ভর বয়ান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জিন্নাহকে ঘিরে বিতর্কও প্রায়ই তথ্যভিত্তিক আলোচনার বদলে পরিচয়ভিত্তিক তর্কে পরিণত হয়।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এমন একটি নাম, যাকে এককভাবে নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন। পাকিস্তানে তিনি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার মহানায়ক; ভারতে তিনি অধিকাংশের কাছে দেশভাগের প্রতীক; আর বাংলাদেশে তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্থপতি এবং ভাষা-সংকটের সূত্রপাতকারী এক বিতর্কিত ঐতিহাসিক চরিত্র।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখনই জাতীয় পরিচয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, দ্বিজাতিতত্ত্ব বা বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়, জিন্নাহ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। মূলত দেশের রাজনৈতিক পালাবদল, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা, ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং ফেসবুক-ইউটিউবকেন্দ্রিক ‘অল্টারনেট হিস্ট্রি’ কনটেন্টের উত্থান—সব মিলিয়ে জিন্নাহকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।
তথ্যসূত্র: দ্য সোল স্পোকসম্যান, জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইনডিপেনডেন্স, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও জার্মানির পত্রিকা ডেল্ট

একদিকে যেমন ‘মেধাপাচার’ বা ব্রেইন ড্রেইন হচ্ছিল, তেমনি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছিল বিদেশে। সরকার ও শিক্ষাবিদরা অনুধাবন করেন, রাষ্ট্রের একার পক্ষে উচ্চশিক্ষার এই বিপুল চাহিদা মেটানো আর সম্ভব নয়। প্রয়োজন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ।
৩ দিন আগে
ব্রিটেনের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটছে। এককালের শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন জয়ধ্বনি উঠছে অভিবাসী নেতাদের। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার কথা ধরা যাক। একসময় এই এলাকা ছিল পুরোপুরি শ্বেতাঙ্গদের দখলে।
৩ দিন আগে
আক্ষরিক অর্থে ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে রান্নাঘরের আলমারি বা ফার্নিচারকে বোঝায়। কিন্তু রাজনৈতিক অর্থে ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে বোঝায় এমন একটি অনানুষ্ঠানিক ও অনির্বাচিত উপদেষ্টা গোষ্ঠীকে, যারা সরকারের আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভাকে পাশ কাটিয়ে পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
৬ দিন আগে
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় রোববার সেনাসদস্য বহনকারী একটি ট্রেনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
৭ দিন আগে