জান্তা প্রধানই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
আল-জাজিরা

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ১৫
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ছবি: রয়টার্স

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সেনাসমর্থিত পার্লামেন্টে এক ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পার্লামেন্টের দুই কক্ষের যৌথ স্পিকার অং লিন দ্বে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কাস্টিং করা মোট ৫৮৪টি ভোটের মধ্যে মিন অং হ্লাইং ৪২৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে তাঁকে বন্দি করেছিলেন। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হওয়া গণআন্দোলন বর্তমানে সশস্ত্র গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত এক নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) ৮০ শতাংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করে। তবে সমালোচক এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মোড়কে সামরিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের আগে মিন অং হ্লাইং তাঁর সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ ছেড়ে দেন। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, একই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ও সামরিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন ও।

বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং হ্লাইংয়ের এই প্রেসিডেন্ট হওয়া মূলত আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের কৌশল। তথাকথিত বেসামরিক শাসনের আড়ালে সামরিক বাহিনীর স্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও গৃহযুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

চলতি সপ্তাহেই অং সান সু চির দল এবং বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নতুন ‘সম্মিলিত ফ্রন্ট’ গঠন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো সামরিক একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশটিতে ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিন অং হ্লাইংয়ের নতুন প্রশাসনকে একদিকে যেমন বিদ্রোহীদের দমন করতে হবে, অন্যদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের সমীকরণ মেলাতেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

সম্পর্কিত