ইরান যুদ্ধের আগের দামে ফিরল জ্বালানি তেল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১: ২৭
সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরেছে। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৬৩ ডলারে স্থির হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রায় একই দাম ছিল। গত এপ্রিলে বিশ্ববাজারে এই তেলের দাম রেকর্ড ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

তেলের মূল্যের এই নাটকীয় পতনের সূত্রপাত গত ১৭ জুন। ওইদিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এই স্মারকের অধীনে যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা ঠিক হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা প্রথম দফার সফল বৈঠক করেন। এর পরেই মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, এই সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নৌ-নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান মেরিস্কসের প্রধান নির্বাহী দিমিত্রি ম্যানিয়াতিস জানান, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিয়ে উত্তরের রুট ব্যবহার করছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনীও দক্ষিণ দিকে মাইনমুক্ত নিরাপদ রুট নির্ধারণ করেছে। দুই রুটেই জাহাজ যাতায়াত করছে।’

তবে এই চলাচল এখনো যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় কম। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১০০-র বেশি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করত।

এদিকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও পাম্পগুলোতে খুচরা তেলের দাম সেই অনুপাতে না কমায় ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন সাধারণ গ্যাসোলিনের দাম এপ্রিলের ৪ ডলার থেকে কিছুটা কমে এখন ৩ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেল এবং এক্সনমোবিলের মতো বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের দাম অনেক কমে গেছে, কিন্তু সেই তুলনায় পাম্পগুলোতে খুচরা মূল্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না, যা উচিত নয়।’

তবে মার্কিন তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, খুচরা জ্বালানি তেলের দাম অপরিশোধিত তেলের মূল্যের সাথে হুবহু তাল মিলিয়ে চলে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Ad 300x250

সম্পর্কিত