নিউইয়র্কে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, চেলসি ম্যানিংসহ গ্রেপ্তার ৯০

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

বিক্ষোভ থেকে সাবেক মার্কিন সেনা চেলসি ম্যানিংসহ প্রায় ৯০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন কয়েক শ মানুষ। এই বিক্ষোভ থেকে সাবেক মার্কিন সেনা চেলসি ম্যানিংসহ প্রায় ৯০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিউইয়র্ক সিটির থার্ড অ্যাভিনিউতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা সিনেটর চাক শুমার ও ক্রিস্টেন জিলিব্র্যান্ডের অফিসের সামনে অবস্থান নেন।

ইহুদিদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’র এই কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা ‘বোমা বর্ষণ বন্ধ করো’ এবং ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’ বলে স্লোগান দেন। তাঁরা ইরান ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজাকে বাঁচতে দাও’ এবং ‘ইরানকে বাঁচতে দাও’ বলে চিৎকার করেন। পুলিশ ‘একাধিক’ গ্রেপ্তারের কথা বললেও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। আটককৃতদের মধ্যে উইকিলিকসে গোপন নথি ফাঁস করা সাবেক সেনা গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিং রয়েছেন।

সোমবার সকালে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইসরায়েলের কাছে ১২ হাজার বোমা এবং ২৯৫ মিলিয়ন ডলারের বুলডোজার বিক্রির বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন তিনি। স্যান্ডার্স বলেন, ‘ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে চাই।’

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, বুলডোজারগুলো ইসরায়েলের সীমান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সক্ষমতা বাড়াবে। প্রশাসন মনে করে, এই বোমাগুলো আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। স্যান্ডার্সের অফিস বলছে, বোমাগুলো গাজা এবং লেবাননে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এই বুলডোজারগুলো গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরে ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সংগঠন, রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এর সমালোচনা করে আসছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই ধরনের বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তহবিল বন্ধের হুমকি দিয়েছে। অভিবাসীদের সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যের ওপর নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত