স্ক্রলের নিবন্ধ
লেখা:

২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকার বিশ্বজুড়ে ‘ইয়োগা’ বা যোগব্যায়াম প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা ইয়োগাকে বিদেশে ভারতের প্রভাব ও ভাবমূর্তি (সফট পাওয়ার) বাড়ানোর একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘ইয়োগা সত্যিকার অর্থেই সর্বজনীন। বন্ধুরা, আমরা যখন ইয়োগা করি, তখন আমরা শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে শান্ত এবং আবেগ সংযত রাখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইয়োগা শুধু মাদুরে দাঁড়িয়ে কিছু ব্যায়াম করার বিষয় নয়। এটি একটি জীবনধারা। স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতার প্রতি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও কাজে মননশীলতা অর্জনের পথ। একই সঙ্গে নিজের সঙ্গে, অন্য মানুষের সঙ্গে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুষম জীবনযাপনেরও একটি উপায়।’
ভারতের এই ‘ইয়োগা কূটনীতি’র বড় একটি অংশ পশ্চিমা দেশগুলোকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে।
ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয় (আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি) ইয়োগার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভারতকে শান্তি, সম্প্রীতি ও একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছে।
সমালোচকরা আবার এই চেষ্টাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, এটি একটি বিতর্কিত প্রচারণা। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভারতে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বেড়েছে এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা আরও প্রকট হয়েছে।
২০২০ সালে গবেষক অনুশা লক্ষ্মী লিখেছিলেন, ‘মোদি শাসনামলে সহিংসতা, অনমনীয়তা এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। আর সেই বাস্তবতাকে আড়াল করতেই ইয়োগাকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
বিশেষ করে ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে ভারতের এই ইয়োগা কূটনীতির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
গাজায় তখন চরম নৃশংসতা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনে অবস্থিত ভারতীয় মিশন তখন ‘প্রধানমন্ত্রী ইয়োগা পুরস্কার’-এর জন্য মনোনয়ন আহ্বান করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টারে ভারতীয় মিশন লেখে, ‘মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার শক্তি হিসেবে ইয়োগা উদযাপন করুন।’
এর ঠিক একদিন আগে, ৮ মার্চ ২০২৫, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৪৫৩ জনে। আহত হন আরও প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে তখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন, ৯ মার্চ সকালে, ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে শত শত মানুষের পানীয় জলের প্রধান উৎস লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
তখন ছিল পবিত্র রমজান মাস। মানবিক সহায়তার ঘাটতি দিন দিন বাড়ছিল এবং কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত।
ওই একই সময়ে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন, তুলকারেম ও তুবাস এলাকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়ে গেছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এমন হামলার প্রায় ১০টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে প্রায় ১০০টিতে পৌঁছে।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য বলছে, ‘২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর জেনিন ও তুলকারেমের শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।’
ইসরায়েল যখন এরকম ভয়াবহ নৃশংসতা চালাচ্ছিল, ভারত তখন ফিলিস্তিনিদের কাছে ইয়োগার আহ্বান জানাচ্ছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক পোস্টে ফিলিস্তিনে ভারতের মিশন বিশ্ব ধ্যান দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের ‘দাজির (ধর্মীয় নেতা কমলেশ প্যাটেল) সঙ্গে অনলাইনে ধ্যানে অংশ নেওয়ার’ আহ্বান জানায়।
পোস্টটিতে বলা হয়, শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই অনলাইন ধ্যান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, একদিকে যখন গাজায় বোমা মেরে ঐতিহাসিক মসজিদগুলো ধ্বংস করা হচ্ছিল, তখন ফিলিস্তিনিদের শান্তির জন্য অনলাইনে ধ্যানে অংশ নিতে বলা ছিল একটি নিষ্ঠুর তামাশা এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান।
এটিই শেষ নয়। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর, একই দিনে আরও কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হেবরনের কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ ওয়ায়েল আল-শারুফ।
ওই দিন আল জাজিরা জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়।
এ ছাড়া ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে অনলাইনে ধ্যানচর্চায় অংশ নিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এই পোস্টগুলো একদিকে যেমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই নয়, তেমনি এতে সহমর্মিতার অভাবও স্পষ্ট। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় অনেকে মনে করছেন যে শান্তির নাম করে ভারত আসলে ইসরায়েলের প্রতি তাদের সমর্থন আড়াল করার একটা কৌশল নিচ্ছে।
ফিলিস্তিনে ভারতীয় দূতাবাসের পোস্টগুলোতে বারবার বলা হচ্ছে যে যোগব্যায়াম ফিলিস্তিনিদের মনের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। কিন্তু কেন তাদের এই মানসিক শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে, সেটা নিয়ে তারা কিছু বলছে না। অর্থাৎ যুদ্ধ আর জুলুমের আসল কারণ নিয়ে তারা একদম চুপ।
অনেক গবেষক মনে করেন, ইয়োগা বা সুস্থ থাকার প্রচারের পেছনেও রাজনীতি থাকে। যেমন ইসরায়েলে কিছু দল ইয়োগার মাধ্যমে দেশটির প্রতি সমর্থন বাড়ানোর কাজ করে। আবার যুদ্ধের মানসিক কষ্ট ও আতঙ্ক ভুলে থাকতে সাবেক ইসরায়েলি সৈন্যরাও দল বেঁধে যোগব্যায়াম করেন।
ইসরায়েলি সেনাদের যুদ্ধের টেনশন কমাতে যোগব্যায়াম করার বিষয়টি যেমন অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হয়, তেমনি ফিলিস্তিনে ভারতের ইয়োগার প্রচার করাকেও সমালোচকেরা একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভারত এর মাধ্যমে নিজেকে নিরপেক্ষ ও শান্তিবাদী দেশ হিসেবে দেখাতে চায়। কিন্তু আসলে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের গভীর সামরিক ও কৌশলগত বন্ধুত্ব আগের মতোই অটুট আছে।
শুধু যোগব্যায়াম নয়, ফিলিস্তিনিদের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে ভারত আরও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতীয় মিশন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে এবং পশ্চিম তীরে ভারত-ফিলিস্তিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগও প্রচার করেছে।
কিন্তু আসল ঘটনা একদম অন্যরকম। ভারত এখন ইসরায়েলের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জায়গায় ভারত থেকে কয়েক হাজার নির্মাণশ্রমিককে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
ভারত ও ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ ও বিশেষ বন্ধু। আবার ফিলিস্তিনে ভারতীয় দূতাবাসের অন্যান্য পোস্টে নরেন্দ্র মোদির প্লাস্টিক দূষণ কমানোর বড় যে অভিযান চলছে, তার কথা বলে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের সাথে আসল পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। তারা বলছেন, একদিকে ইসরায়েলি দখলদাররা ফিলিস্তিনিদের জলপাই গাছ কেটে ফেলছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন করে পাইন গাছ লাগানো হচ্ছে। অথচ ভারতের এসব প্রচারে এই ভয়াবহ বিষয়গুলো একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ আর জুলুমের এই ভয়াবহ সময়ে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে কথা বলা আর ইয়োগার পরামর্শ দেওয়া একই রকম বেমানান। এতে ফিলিস্তিনিদের আসল বিপদ ও কষ্টগুলো আড়ালে পড়ে যায়। সমালোচকরা মনে করেন, ভারত আসলে ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ভালো হিসেবে দেখানোর জন্যই এসব অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে আনছে।
(স্কল ডট ইন থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)

২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকার বিশ্বজুড়ে ‘ইয়োগা’ বা যোগব্যায়াম প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা ইয়োগাকে বিদেশে ভারতের প্রভাব ও ভাবমূর্তি (সফট পাওয়ার) বাড়ানোর একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘ইয়োগা সত্যিকার অর্থেই সর্বজনীন। বন্ধুরা, আমরা যখন ইয়োগা করি, তখন আমরা শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে শান্ত এবং আবেগ সংযত রাখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইয়োগা শুধু মাদুরে দাঁড়িয়ে কিছু ব্যায়াম করার বিষয় নয়। এটি একটি জীবনধারা। স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতার প্রতি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও কাজে মননশীলতা অর্জনের পথ। একই সঙ্গে নিজের সঙ্গে, অন্য মানুষের সঙ্গে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুষম জীবনযাপনেরও একটি উপায়।’
ভারতের এই ‘ইয়োগা কূটনীতি’র বড় একটি অংশ পশ্চিমা দেশগুলোকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে।
ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয় (আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি) ইয়োগার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভারতকে শান্তি, সম্প্রীতি ও একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছে।
সমালোচকরা আবার এই চেষ্টাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, এটি একটি বিতর্কিত প্রচারণা। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভারতে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বেড়েছে এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা আরও প্রকট হয়েছে।
২০২০ সালে গবেষক অনুশা লক্ষ্মী লিখেছিলেন, ‘মোদি শাসনামলে সহিংসতা, অনমনীয়তা এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। আর সেই বাস্তবতাকে আড়াল করতেই ইয়োগাকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
বিশেষ করে ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে ভারতের এই ইয়োগা কূটনীতির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
গাজায় তখন চরম নৃশংসতা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনে অবস্থিত ভারতীয় মিশন তখন ‘প্রধানমন্ত্রী ইয়োগা পুরস্কার’-এর জন্য মনোনয়ন আহ্বান করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টারে ভারতীয় মিশন লেখে, ‘মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার শক্তি হিসেবে ইয়োগা উদযাপন করুন।’
এর ঠিক একদিন আগে, ৮ মার্চ ২০২৫, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৪৫৩ জনে। আহত হন আরও প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে তখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন, ৯ মার্চ সকালে, ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে শত শত মানুষের পানীয় জলের প্রধান উৎস লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
তখন ছিল পবিত্র রমজান মাস। মানবিক সহায়তার ঘাটতি দিন দিন বাড়ছিল এবং কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত।
ওই একই সময়ে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন, তুলকারেম ও তুবাস এলাকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়ে গেছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এমন হামলার প্রায় ১০টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে প্রায় ১০০টিতে পৌঁছে।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য বলছে, ‘২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর জেনিন ও তুলকারেমের শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।’
ইসরায়েল যখন এরকম ভয়াবহ নৃশংসতা চালাচ্ছিল, ভারত তখন ফিলিস্তিনিদের কাছে ইয়োগার আহ্বান জানাচ্ছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক পোস্টে ফিলিস্তিনে ভারতের মিশন বিশ্ব ধ্যান দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের ‘দাজির (ধর্মীয় নেতা কমলেশ প্যাটেল) সঙ্গে অনলাইনে ধ্যানে অংশ নেওয়ার’ আহ্বান জানায়।
পোস্টটিতে বলা হয়, শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই অনলাইন ধ্যান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, একদিকে যখন গাজায় বোমা মেরে ঐতিহাসিক মসজিদগুলো ধ্বংস করা হচ্ছিল, তখন ফিলিস্তিনিদের শান্তির জন্য অনলাইনে ধ্যানে অংশ নিতে বলা ছিল একটি নিষ্ঠুর তামাশা এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান।
এটিই শেষ নয়। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর, একই দিনে আরও কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হেবরনের কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ ওয়ায়েল আল-শারুফ।
ওই দিন আল জাজিরা জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়।
এ ছাড়া ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে অনলাইনে ধ্যানচর্চায় অংশ নিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এই পোস্টগুলো একদিকে যেমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই নয়, তেমনি এতে সহমর্মিতার অভাবও স্পষ্ট। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় অনেকে মনে করছেন যে শান্তির নাম করে ভারত আসলে ইসরায়েলের প্রতি তাদের সমর্থন আড়াল করার একটা কৌশল নিচ্ছে।
ফিলিস্তিনে ভারতীয় দূতাবাসের পোস্টগুলোতে বারবার বলা হচ্ছে যে যোগব্যায়াম ফিলিস্তিনিদের মনের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। কিন্তু কেন তাদের এই মানসিক শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে, সেটা নিয়ে তারা কিছু বলছে না। অর্থাৎ যুদ্ধ আর জুলুমের আসল কারণ নিয়ে তারা একদম চুপ।
অনেক গবেষক মনে করেন, ইয়োগা বা সুস্থ থাকার প্রচারের পেছনেও রাজনীতি থাকে। যেমন ইসরায়েলে কিছু দল ইয়োগার মাধ্যমে দেশটির প্রতি সমর্থন বাড়ানোর কাজ করে। আবার যুদ্ধের মানসিক কষ্ট ও আতঙ্ক ভুলে থাকতে সাবেক ইসরায়েলি সৈন্যরাও দল বেঁধে যোগব্যায়াম করেন।
ইসরায়েলি সেনাদের যুদ্ধের টেনশন কমাতে যোগব্যায়াম করার বিষয়টি যেমন অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হয়, তেমনি ফিলিস্তিনে ভারতের ইয়োগার প্রচার করাকেও সমালোচকেরা একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভারত এর মাধ্যমে নিজেকে নিরপেক্ষ ও শান্তিবাদী দেশ হিসেবে দেখাতে চায়। কিন্তু আসলে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের গভীর সামরিক ও কৌশলগত বন্ধুত্ব আগের মতোই অটুট আছে।
শুধু যোগব্যায়াম নয়, ফিলিস্তিনিদের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে ভারত আরও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতীয় মিশন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে এবং পশ্চিম তীরে ভারত-ফিলিস্তিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগও প্রচার করেছে।
কিন্তু আসল ঘটনা একদম অন্যরকম। ভারত এখন ইসরায়েলের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জায়গায় ভারত থেকে কয়েক হাজার নির্মাণশ্রমিককে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
ভারত ও ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ ও বিশেষ বন্ধু। আবার ফিলিস্তিনে ভারতীয় দূতাবাসের অন্যান্য পোস্টে নরেন্দ্র মোদির প্লাস্টিক দূষণ কমানোর বড় যে অভিযান চলছে, তার কথা বলে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের সাথে আসল পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। তারা বলছেন, একদিকে ইসরায়েলি দখলদাররা ফিলিস্তিনিদের জলপাই গাছ কেটে ফেলছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন করে পাইন গাছ লাগানো হচ্ছে। অথচ ভারতের এসব প্রচারে এই ভয়াবহ বিষয়গুলো একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ আর জুলুমের এই ভয়াবহ সময়ে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে কথা বলা আর ইয়োগার পরামর্শ দেওয়া একই রকম বেমানান। এতে ফিলিস্তিনিদের আসল বিপদ ও কষ্টগুলো আড়ালে পড়ে যায়। সমালোচকরা মনে করেন, ভারত আসলে ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ভালো হিসেবে দেখানোর জন্যই এসব অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে আনছে।
(স্কল ডট ইন থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)
.png)

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি নিয়ে দেশটির ভেতরে বিতর্ক চলছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনড় অবস্থান কট্টরপন্থীদের আরও সক্রিয় করেছে। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে কোনো ধরনের ছাড়ের বিরোধিতা করছে। খবর আলজাজিরার।
১ ঘণ্টা আগে
আজ রোববার সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রায় চার মাসের সংঘাতের পর গত বুধবার দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এরপর এটিই হতে যাচ্ছে দুই পক্ষের প্রথম সরাসরি বৈঠক।
৭ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের ক্রমাগত ড্রোন হামলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে মস্কোতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে রুশ প্রতিরক্ষার বিশৃঙ্খল চিত্র দেখা গেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো টোল আরোপ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এ ধরনের টোল আরোপ করতে পারে। খবর আলজাজিরার।
১০ ঘণ্টা আগে