leadT1ad

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ২০
শিনজো আবেকে হত্যার পরপরই তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: রয়টার্স

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যার দায়ে তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ২০২২ সালের জুলাই মাসে একটি নির্বাচনী সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে আবেকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর এই রায় ঘোষণা করা হলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছ।

৪৫ বছর বয়সী ইয়ামাগামি বিচার শুরুর প্রথম দিনেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তবে তাঁর শাস্তি কতটা কঠোর হওয়া উচিত, তা নিয়ে জাপানে জনমত বিভক্ত ছিল। একাংশ তাঁকে ঠান্ডা মাথার খুনি হিসেবে দেখলেও, অন্যরা তাঁর পারিবারিক ট্র্যাজেডি ও সামাজিক পটভূমির কারণে তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ একে গুরুতর অপরাধ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এর জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই উপযুক্ত।

ইয়ামাগামির আইনজীবীরা শাস্তি লাঘবের আবেদন জানিয়ে বলেন তিনি ‘ধর্মীয় নির্যাতনের’ শিকার। আদালতে জানানো হয়, তাঁর মা ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতি অতিমাত্রায় অনুরক্ত ছিলেন এবং প্রয়াত বাবার জীবনবিমার অর্থসহ প্রায় ১০ কোটি ইয়েন চার্চে দান করেছিলেন। এর ফলে পরিবারটি আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ইয়ামাগামির দাবি, পরে তিনি জানতে পারেন যে শিনজো আবে এই চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ থেকে তাঁর মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়। যদিও তিনি বলেন, তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল চার্চের শীর্ষ কর্মকর্তারা, আবে নন।

বিচার চলাকালে আবের স্ত্রী আকি আবে আদালতে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, স্বামীকে হারানোর শোক কোনোদিনই কাটবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি শুধু চেয়েছিলেন আবে বেঁচে থাকুন।

এই মামলার ফলে ইউনিফিকেশন চার্চের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে। তদন্তে দেখা যায়, চার্চটি অনুসারীদের আধ্যাত্মিক ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করত। এর জেরে টোকিওর একটি আদালত পরে চার্চটির ধর্মীয় মর্যাদা বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক রাজনীতিকের সঙ্গে চার্চটির সম্পর্ক প্রকাশ পায়, যার ফলে কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ামাগামি পারিবারিক অবহেলা ও আর্থিক সংকটের শিকার হলেও, তা কোনোভাবেই একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না। এই ঘটনা জাপানের সমাজে ধর্ম, রাজনীতি ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির জটিল সম্পর্ক নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত