জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যে কারণে ‘সোনালি ব্যাগ’ আলোর মুখ দেখেনি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৩৮
পাট দিয়ে তৈরি সোনালি ব্যাগ। ছবি: সংগৃহীত

পলিথিনের ব্যবহার কমাতে সরকার বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরির উদ্যোগগুলো এগোয়নি। এর উদাহরণ পাটের ‘সোনালি ব্যাগ’ প্রকল্প। একসময় ব্যাপক আলোচিত এই উদ্ভাবনকে ঘিরে পাটশিল্পের নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাতিল করে দিয়েছে সরকার।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান পাটের সেলুলোজ থেকে পরিবেশবান্ধব এক ধরনের বায়োপলিমার তৈরি করেন। এই উপাদান দিয়ে তৈরি ব্যাগ দেখতে অনেকটা পলিথিনের মতো হলেও তা মাটিতে সহজেই পচে যায় এবং পরিবেশ দূষণ করে না।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ব্যাগের নাম দেন ‘সোনালি ব্যাগ’, যা বাংলাদেশের পাটের আরেক নাম ‘সোনালি আঁশ’ থেকে নেওয়া। আবিষ্কারের পর দেশ–বিদেশে এটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষা এবং পাটশিল্প—দুই ক্ষেত্রেই বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই শেষ

সোনালি ব্যাগকে শিল্প পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করে। ২০১৭ সালের ১২ মে রাজধানীর ডেমরার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে পরীক্ষামূলকভাবে ‘সোনালি ব্যাগ’ তৈরির একটি প্ল্যান্ট চালু করা হয়। সেখানে পাটের সেলুলোজ থেকে প্রথমে পাতলা শিট তৈরি করা হয়। পরে সেই শিট কেটে ও সেলাই করে ব্যাগ তৈরি করা হয়।

সীমিত পরিসরে তৈরি এসব ব্যাগ বাজারেও বিক্রি করা হয়েছিল। তখন প্রতিটি ব্যাগের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ টাকা। তবে প্রকল্পটি শিল্প পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

বিজেএমসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাহানা ফেরদৌস শম্পা স্ট্রিমকে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ আছে। এটি কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে উৎপাদনও হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সরকার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিজেএমসি সূত্রে জানা যায়, পাটের সেলুলোজ থেকে তৈরি শিট দিয়ে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাগ তৈরির উপযোগী সরঞ্জামের অভাব ও উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এটি লাভজনক হবে না বলে মনে হয়েছে। ফলে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে হাতে সেলাই করে ব্যাগ তৈরি হলেও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের জন্য এ পদ্ধতি কার্যকর ছিল না।

বিজেএমসি মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মামনুর রশিদ স্ট্রিমকে বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেশি এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে পুরো প্রকল্পটিই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছিল। এতে দেখা গিয়েছিল প্রকল্পটি লাভজনক হবে না। সে কারণে বছরখানেক আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে হয়।

সম্পর্কিত