জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ লেবাননের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৫৩
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতা’ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ গুরুতর অভিযোগ এনেছে লেবানন সরবার।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গতকাল সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তাঁর নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে আউন বলেন, ‘তারা আমার দেশকে চারপাশ থেকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।’

লেবাননের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং নারী-শিশুসহ ৪ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ

গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট আউন এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহকে লেবাননের স্বার্থবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহ তাদের আগ্রাসন ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে লেবানন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায়র। তারা লেবাননের জনগণের কথা চিন্তা না করে কেবল ইরানের কৌশলগত স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে।’

এ প্রসঙ্গে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইসাম ফারেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক জোসেফ বাহাউত বলেন, ‘হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এখন বৈরুত কর্তৃপক্ষ চাইছে নিজেদের হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করতে, যাতে ইসরায়েলের ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে দেশকে বাঁচানো যায়।’

প্রেসিডেন্ট আউন একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন যার মূল লক্ষ্য হবে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলো—ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করা, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করা এবং তাদের সব অস্ত্র জব্দ করতে লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা, দক্ষিণ লেবাননের অধিকৃত অঞ্চল থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার এবং ওইসব এলাকায় লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।

গত ২ মার্চ লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করলেও তাদের নিরস্ত্রীকরণ করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি বর্তমানে সরকারের নেই। তবুও আউন দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই।’

আউনের এই প্রস্তাবে ইসরায়েল সাড়া দেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলি সেনাপ্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অভিযান বন্ধ করবে না। ইতিমধ্যে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের একাংশ থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন লেবাননে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ পুনরায় সংগঠিত হয়ে অস্ত্র মজুত করছে। সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ছয়টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করলে ইসরায়েল লেবাননে বড় ধরনের বিমান ও কমান্ডো অভিযান শুরু করে।

সম্পর্কিত