leadT1ad

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর যাত্রা শুরু, স্থায়ী সদস্য হতে লাগবে ১ বিলিয়ন ডলার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

গাজার শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য গঠিত শান্তি বোর্ডের যাত্রা শুরু। ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ উদ্বোধন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তিনি এর সনদে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানসহ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত এক বছরে বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং অনেক যুদ্ধ থামানো সম্ভব হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া সনদের তথ্যের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে দেশগুলোকে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ফি দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পই এর স্থায়ী চেয়ারম্যান থাকবেন। যারা এই অর্থ দেবে না, তারা তিন বছরের জন্য সদস্যপদ পাবে। ট্রাম্প একে ‘সর্বকালের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পর্ষদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই বোর্ডের প্রধান কাজ হলো গাজায় শান্তিচুক্তি টেকসই করা। এরপর এটি বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিরসনে নজর দেবে। মূলত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা থেকেই এই উদ্যোগের জন্ম। তবে এর পরিধি এখন জাতিসংঘের চেয়েও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

এই শান্তি পর্শদে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও বেলারুশের আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে আমন্ত্রণ জানানোয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, কাজ হাসিলের জন্য তিনি সব ‘ক্ষমতাবান’ ব্যক্তিকে চান। তবে পুতিনকে ডাকার কারণে যুক্তরাজ্য সনদে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ফ্রান্স, নরওয়ে ও সুইডেনও আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই বোর্ড জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে। স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীও জানিয়েছেন, যোগ দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে তাঁর আগ্রাসী নীতি ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণেই গাজায় যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হামাসের মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল ইরান।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ায় জেলেনস্কি ও পুতিনের ওপর হতাশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এখনই সমঝোতার সময়। যদি তারা তা না করে, তবে তারা বোকা—এই কথা দুজনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’ বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দাভোসে পৌঁছেছেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত