যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না ইরান, শান্তিচুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৪: ০৫
রাস্তার পাশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনির ছবিযুক্ত একটি বিলবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

কাতারের দোহায় যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূতদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না বলে জানিয়েছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইরানি কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তার শর্তগুলো আগে চূড়ান্তভাবে সমাধান করতে হবে। এরপরই পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণসহ আরও জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা সম্ভব হবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রাথমিক কাঠামো অনুযায়ী, ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হবে এবং এর বিনিময়ে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সেই কাঠামোর মূল ভিত্তিগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যে, ইরানের সঙ্গে ‘উচ্চপর্যায়ের বৈঠক’ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় গেছেন। যদিও ইরান ও কাতার উভয় দেশই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সরাসরি ইরানি প্রতিনিধির বদলে মধ্যস্থতাকারী কাতারের সঙ্গে বৈঠক করবে।

উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় যারা অংশ নেবেন তাঁদের মধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি রয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, নিম্নপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা শুরুর কথা ছিল।

ট্রাম্পের বিবেচনায় সামরিক পদক্ষেপ

ইরান ইস্যুতে জটিলতা কাটাতে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন সূত্রের বরাতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা এবং প্রণালির আরেক অংশে থাকা ওমান গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পরিচালনার অধিকার রাখে। ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে আগস্টের মাঝামাঝি টোল আরোপ করা হতে পারে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের হাতে। ইরান নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের টোল আরোপের কোনো সুযোগ নেই। ‘দ্য মাইকেল নোলস শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায় করতে পারবে না।

ভ্যান্স আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। এমনকি কিছু দিনে তা আরও বেশি হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত