প্রাণঘাতী হামলায় দোষী ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস ইসরায়েলের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস হওয়ায় উদযাপন করছেন নেসেট সদস্যরা। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

প্রাণঘাতী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিতর্কিত আইন পাস করেছে ইসরায়েল। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে বিলটি ৬২-৪৮ ভোটে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিলে সমর্থন দিয়েছেন। খবর বিবিসির।

নতুন আইন অনুযায়ী, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত প্রাণঘাতী হামলায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সামরিক আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। আইনে ইহুদি ইসরায়েলিদের আওতায় পড়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তার সম্ভাবনা কম। কারণ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে হামলার উদ্দেশ্যকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকারের প্রচেষ্টা হিসেবে প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির জোরালো সমর্থনে পাস হওয়া এই আইনের অন্যতম প্রবক্তা জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি একে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দলের সংসদ সদস্য লিমোর সন-হার-মেলেখ জানান, অতীতে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় হামলায় অংশ নেওয়ায় এই কঠোর আইনের প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে, বিরোধী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এতে নিরাপত্তা বাড়ার বদলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই আইনকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা’ এবং হামাস ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ‘নতুন হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল’ আইনটির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করবে কি না, তা এখন সুপ্রিম কোর্টের ওপর নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যানের দণ্ড অন্যতম, যিনি হলোকাস্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সম্পর্কিত