১০ হাজার ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দুর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১৮: ৪৯
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর সরকার এ পর্যন্ত ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এ ছাড়া আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে ফেরত পাঠানোর জন্য ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ তথ্য জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, প্রতিদিনই অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

শুভেন্দু বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ধর্ম নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে চান, তাঁদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক অভিবাসী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বছরের ২ মে রাজ্য সরকারগুলোকে অবৈধ অভিবাসী, বিশেষ করে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের আটক রেখে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কথা বলা হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করা হলে তাঁর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে আপলোড করা হয়। পরে তাঁকে বহিষ্কারের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজেপিশাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্য গত বছর থেকেই কেন্দ্রের নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করলেও তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তা কার্যকর করেনি। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হয়রানির আশঙ্কার কথা বলে তারা এ পদক্ষেপ থেকে বিরত ছিল।

গত ৯ মে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেপি-নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সীমান্তের আরও ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪৮ কিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যে বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশে দ্রুত জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

Ad 300x250

সম্পর্কিত