হরমুজে ফের উত্তেজনা, ইরানের রাডার ব্যবস্থায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ ও নৌকা। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রণালিতে ইরানি চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার পর তারা দেশটির উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। খবর আল-জাজিরা ও সিএনএনের।

সেন্টকম সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলে, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক যাতায়াতের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে আরও হামলা প্রতিরোধে এবং আত্মরক্ষার্থে মার্কিন বাহিনী ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে উপকূলীয় নজরদারি রাডারে আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্র ‘আত্মরক্ষার্থে ইরানের অন্যায্য হামলার’ বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানো অব্যাহত রাখবে বলেও ওই পোস্টে বলা হয়।

এর আগে ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি শনিবার জানায়, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ‘সতর্কতামূলক’ গোলা ছুড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গুলিবর্ষণ ওই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান বদলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ইরান হরমুজ প্রণালির দিকে একাধিক ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের পরই এই খবর এসেছে।

মেহর নিউজের তথ্যানুযায়ী, ইরানের ছোঁড়া গোলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের লারেক দ্বীপের ওপারের সমুদ্র। লারেক দ্বীপটি ইরানের কৌশলগত বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের উপকূলের কাছে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ।

মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ হামলার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সিরিক, কেশম দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন ‘আগ্রাসনের’ পর তারা ওইঅঞ্চলে ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোতে’ আঘাত হেনেছে। শনিবার টেলিগ্রামে এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তার হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।

সেন্টকমের দাবি, ‘এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।’

তারা যোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত করার ইরানি দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

সম্পর্কিত