মেলোনি আর আগের মতো নেই, আক্ষেপ ট্রাম্পের

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
পলিটিকো

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ০১
২০২৫ সালের এপ্রিলে এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাম্প্রতিক আচরণে আক্ষেপ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মেলোনি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়ারে ডেলা সেরা’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মেলোনির আচরণে আমি বিস্মিত। আমি ভাবতাম তিনি সাহসী মানুষ। এখন আমার ভুল ভেঙেছে।’

গতকাল পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের এই ধরনের আক্রমণ অগ্রহণযোগ্য। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি নিজেই এখন অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে মেলোনির কোনো চিন্তা নেই। ইরান সুযোগ পেলে মাত্র দুই মিনিটে ইতালি উড়িয়ে দেবে।

মাত্র এক বছর আগেও মেলোনিকে ‘চমৎকার নারী’ এবং ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করতেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে মেলোনি একমাত্র ইউরোপীয় নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও মেলোনির প্রশংসা করেছিলেন। তিনি মেলোনিকে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে ‘সেতুবন্ধন’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে এই ধরনের মন্তব্য ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মেলোনিকে সুবিধা দিতে পারে। গত সপ্তাহে গণভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয় মেলোনির সরকার। দলের অনেকেই এই হারের জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির ঘনিষ্ঠতাকে দায়ী করেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিকে মেলোনি সরকার সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণ নিষিদ্ধ করে। পরে ইতালীয় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে যুদ্ধে ইউরোপের অংশ নেওয়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন মেলোনি। সোমবার পোপের সমর্থনে কথা বলার পর ট্রাম্প-মেলোনির সম্পর্কে আরও অবনতি হয়েছে। অধিকাংশ ইতালীয় নাগরিক এখন ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সম্প্রতি ট্রাম্পের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র হাঙ্গেরির নেতা ভিক্টর ওরবান নির্বাচনে হেরেছেন। তাই অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ২০২৭ সালে ইতালির সাধারণ নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের থেকে দূরে থাকা মেলোনির জন্য লাভজনক হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত