লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর: নেতানিয়াহুর দুঃখ প্রকাশ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ০৯
স্লেজহ্যামার দিয়ে যিশুর মূর্তির মাথায় আঘাত করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে যিশুর একটি মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি সেনা স্লেজ-হ্যামার দিয়ে মূর্তিটিতে আঘাত করছে।

ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এতে যেসব খ্রিষ্টানদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মূর্তিটি দক্ষিণ লেবাননের ডেবেল গ্রামের একটি বাড়ির বাইরে ক্রুশের ওপর স্থাপিত ছিল। ইসরায়েল ও হিযবুল্লাহর চলমান যুদ্ধের মধ্যেও গ্রামটিতে কিছু বাসিন্দা অবস্থান করছেন।

ডেবেলের গির্জার প্রধান ফাদার ফাদি ফ্লাইফেল এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ক্রুশসহ সব ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করি। এটি মানবাধিকারের পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবিটি সত্য। অভিযুক্ত সেনার আচরণ বাহিনীর মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ঘটনাটি ‘গুরুত্বের সঙ্গে’দেখা হচ্ছে।

আইডিএফ জানায়, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মূর্তিটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির আগে ছয় সপ্তাহ ধরে আইডিএফ ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল। যদিও উভয় পক্ষই এখনো একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী মহলেও এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সাবেক কংগ্রেসম্যান ম্যাট গেটজ ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’বলে মন্তব্য করেছেন। একইভাবে সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এর এক জরিপে ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

জেরুজালেমভিত্তিক সংস্থা রসিং সেন্টারের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে খ্রিস্টানদের প্রতি বিদ্বেষ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যা রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অতিরাষ্ট্রবাদী প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলেই খ্রিস্টানদের জীবনমান ও সংখ্যা বাড়ছে এবং দেশটি ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পরপরই হিযবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ শুরু করে। ২ মার্চ শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

সুত্র: বিবিসি

সম্পর্কিত