leadT1ad

ভেনেজুয়েলায় হামলা করে স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সংগৃহীত ছবি

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর আটক বা দেশত্যাগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে বলেন, ‘স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম ভেনেজুয়েলা তার সমস্ত শক্তি দিয়ে এই বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করছে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, কারণ জনগণের ঐক্যের মধ্যেই আমরা প্রতিরোধ করার শক্তি খুঁজে পাব।’

এদিকে আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অসাধারণ সেনাসদস্য ও দক্ষ লোকজনের সমন্বয়ে এটি ছিল একটি চমৎকার অভিযান।’

এই অভিযানের বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছিল কি না বা পরবর্তী পরিকল্পনা কী, তা মার-এ-লাগোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও ট্রাম্প উল্লেখ করেন।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার নিশ্চিত করেছে যে দেশটির সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে মাদুরো প্রশাসন।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশি দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া স্পেনের সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন সরকারও ভেনেজুয়েলায় বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করেন এবং নির্বাচনে কারচুপি করেছেন। ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আসেন মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাদুরো পাল্টা অভিযোগ করতেন, ওয়াশিংটন তাঁর দেশের মজুদ থাকা তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। প্রসঙ্গত, তেল মজুদ থাকা দেশের মধ্যে ভেনেজুয়েলা শীর্ষে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের পর ল্যাটিন আমেরিকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ওই বছর পানামায় আক্রমণ চালিয়ে দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র।

Ad 300x250

সম্পর্কিত