জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল প্রায় ৩০ শতাংশ, এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১১: ১৭
জ্বালানি তেল। প্রতীকী ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম এরইমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৭০ ডলার, যা প্রায় ২৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ধারাবাহিক হামলা এবং পাল্টা হামলার ঘটনায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। ইসরায়েল তেহরানের কাছে একটি বড় জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ইরান অঞ্চলজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

জ্বালানি ব্যবসায়ীরা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যে এই সংঘাত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন বা রফতানির ওপর কতটুকু প্রভাব ফেলে। একদিকে ইরান তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা নিয়ে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি সংঘাত আরো দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারেও। সোমবার সকালে এ অঞ্চলের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হওয়ায় বাজারে এই ধস নেমেছে।

সকালের লেনদেনে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৭ শতাংশের বেশি নিচে নেমেছে। আর অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে ইরানে বিমান হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসার জন্য জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১১ ডলারে পৌঁছে যায়, যা অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রথমে প্রায় এক মিনিটের মধ্যে দাম ১০ শতাংশ বাড়ে এবং পরবর্তী ১৫ মিনিটে আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি ছিল। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বাজারে বড় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল।

তবে সপ্তাহান্তে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া এবং ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের দৃশ্য সামনে আসার পর বাজারে আতঙ্ক দ্রুত বাড়ে।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন বন্ধের পরিস্থিতি মার্চের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।

বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির ফলে পেট্রোলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জেট ফুয়েল ও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের দামও বাড়তে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ হওয়া জ্বালানির বড় অংশই মূলত এশিয়ায় ব্যবহৃত হয়। ইতিমধ্যে এশিয়ার ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের জন্য বেশি দাম প্রস্তাব করছেন—এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে ইউরোপগামী কিছু গ্যাসবাহী জাহাজ মাঝ আটলান্টিক থেকেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

সূত্র: ওয়েল প্রাইস ডটকম, বিবিসি

সম্পর্কিত