ট্রাম্প স্পষ্টতই ভারসাম্যহীন, তাঁর অপসারণ জরুরি: সাবেক সিআইএ প্রধান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৫৯
সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান। তাঁর মতে, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উগ্র মন্তব্য এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব কারণে তাঁকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনে সিআইএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রেনান। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এমএস নাউকে সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ব্রেনান বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) স্পষ্টতই ভারসাম্যহীন। আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীটি যেন ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বিপুল সামরিক শক্তি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার একজন এমন নেতার হাতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ যার আচরণ এমন অস্থির।

সম্প্রতি ইরানের উদ্দেশে ট্রাম্পের কড়া হুমকি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল তিনি সতর্ক করে বলেন, তাঁর শর্ত না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’—যা ব্রেনানের মতে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত দেয়।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি তুলেছে। ১৯৬৭ সালে সংবিধানে যুক্ত এই বিধান অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম মনে করলে তাঁকে অপসারণ করতে পারেন।

গণমাধ্যমের তথ্যমতে, কংগ্রেসের ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট এ দাবি জানিয়েছেন। তবে বাস্তবে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এখনো তাঁর প্রতি অনুগত।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

গার্ডিয়ান বলছে, ব্রেনানের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধেই তদন্ত চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ। গত জুলাইয়ে হোয়াইট হাউসের চাপের মুখে ব্রেনান ও সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়। যদিও পরে কোমির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালত খারিজ করে দেন। তবে ব্রেনানের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান।

সম্পর্কিত