জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

৫ ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের তকমা ইসরায়েলের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ০১
পশ্চিম তীরের পুরাতন শহর নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা খবর সংগ্রহ করছেন। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের স্থানীয় পাঁচটি সংবাদমাধ্যমকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক সামরিক আদেশে এই ঘোষণা দেন।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত পাঁচটি সংবাদমাধ্যম হলো—আল আসিমা নিউজ, কুদস প্লাস, আলকুদস আলবাওসালা, মারাজ এবং মায়দান আলকুদসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, বিশেষ করে জেরুজালেমে অস্থিরতা উসকে দিতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়।

ওই আদেশের বরাতে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে জেরুজালেমে অস্থিরতা উসকে দিতে এসব সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করা হয়। অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘কোনো প্রমাণ’ উপস্থাপন করেনি।

এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ইসরায়েলের দমনপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্রগুলোকে টার্গেট করে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, যেগুলোতে জেরুজালেমের প্রতিমুহূর্তের খোঁজখবর পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, দখলকৃত পশ্চিম তীর এক হাজারেরও বেশি ফটক ও তল্লাশি চৌকিতে বিভক্ত। অধিকাংশ ফিলিস্তিনির জন্য দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশ কার্যত অসম্ভব। কারণ ইসরায়েলি অনুমতি ছাড়া সেখানে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেন না। জেরুজালেমে কী ঘটছে, ইসরায়েলি লঙ্ঘন, সামগ্রিক পরিস্থিতি—এসবের মিনিটে মিনিটে হালনাগাদ তথ্য ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছে দেয় এসব সংবাদমাধ্যম।

নূর ওদেহ বলেন, এর আগে ইসরায়েলকে ভিত্তিহীনভাবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলতে দেখেছি। এমনকি অনেক অভিযোগ পরে খণ্ডিতও হয়েছে। কিন্তু তবুও অনেক সাংবাদিক তাঁদের স্বাধীনতা, কখনো কখনো জীবন দিয়ে এর মূল্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি স্বাধীনভাবে বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

শিরিন ডট পিএস নামের একটি পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে শিরিন আবু আকলেহ (Shireen Abu Akleh)–এর নামে; তিনি ২০২২ সালে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।

এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা আল জাজিরার কার্যক্রম বন্ধের পক্ষে ভোট দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বিবেচিত বিদেশি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধের ক্ষমতা দেওয়া হয় সরকারকে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত