জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে পাকিস্তান?

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৭: ১২
ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে কি এবার তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যোগ দেবে পাকিস্তান? মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশটির নাম।

গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্যকে ঘিরে এই ধারণার সূত্রপাত। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে সামনে রেখেই এমন সম্ভাবনার কথা ভাবা হচ্ছে।

ইশাক দার স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর কোনো হামলা হলে পাকিস্তান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা পাকিস্তানের জন্য চরম আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে।

দার আরও জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে সৌদি আরবকে আক্রমণ না করার জন্য সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা চুক্তির দায়বদ্ধতা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে।’ অর্থাৎ, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব যদি কোনোভাবে সৌদি আরবে পৌঁছে যায়, তবে পাকিস্তানের সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কী আছে চুক্তিতে

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রিয়াদের আল-ইয়ামামাহ প্রাসাদের রাজদরবারে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—যদি কোনো একটি দেশের ওপর সামরিক হামলা হয়, তবে সেটিকে উভয় দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ভবিষ্যতে সৌদির কাছ থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাবে। এর বিপরীতে সৌদি আরব সামরিক সরঞ্জাম কেনা বা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।

পাকিস্তান কি যুদ্ধে জড়াবে, যা বলছেন বিশ্লেষকেরা

পাকিস্তানের বিশিষ্ট বিশ্লেষক বাকির সাজ্জাদ সৈয়দ দেশটির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ডন’-এ লিখেছেন, পাকিস্তানের জন্য সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কারণ একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিবেশী সুলভ ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারনির্ভর স্বার্থ। ফলে যেকোনো সামরিক জোটে সরাসরি যুক্ত হলে সেই ভারসাম্যে বড় ধরনের ফাটল ধরার ঝুঁকি থাকে।

বাকির সাজ্জাদ আরও বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে নিজস্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতায় জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে সুদূরপ্রসারী কোনো ভৌগোলিক সংঘর্ষে জড়ানো ইসলামাবাদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েলের হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইরানের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জানালেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পাকিস্তানও আপাতত একই পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, যদি সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করে এবং মুসলিম দেশগুলোর কোনো সামরিক জোট গড়ে ওঠে, তবে পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে সম্পূর্ণ নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে।

বর্তমানে পাকিস্তানের সরকারি অবস্থান হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষেই তাদের অবস্থান। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে পাকিস্তানের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা আপাতত সীমিত হলেও, ভবিষ্যতের পরিস্থিতিই বলে দেবে ইসলামাবাদ পুনরায় যুদ্ধের আলোচনায় ফিরবে কি না।

সম্পর্কিত