জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যেসব কারণে ইরানকে সাহায্য নাও করতে পারে চীন

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৩: ১৫
২০২৫ সালে চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইরান থেকে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি।

২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলমান সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পরও চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল লক্ষণীয়ভাবে নীরব ও সীমিত। বেইজিং কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ভাষায় উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছে। কিন্তু যাকে তার কৌশলগত অংশীদার বলা হয়—সেই ইরানকে কোনও বাস্তব বা কার্যকর সহায়তা চীন দেয়নি।

২০২১ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা চুক্তি এবং ২০২৫ সালে চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ ইরান থেকে আসা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা ভাঙার উদ্যোগ, এমনকি শক্তিশালী কূটনৈতিক সুরক্ষাও দেখা যায়নি।

স্টিমসন সেন্টারের চীন-মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইউন সান ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘বেইজিং মূলত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের বিরোধী নয়। তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো—ইরান যেন একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে টিকে থাকে। সে কারণে চীন শাসনব্যবস্থা-নিরপেক্ষ।’ সহজ কথায়, চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তেল— আয়াতুল্লাহদের শাসন নয়।

ইরানের সামরিক দুর্বলতা ও অবিশ্বস্ত প্রক্সি শক্তি নিয়ে চীনের গভীর হতাশা

এক সময় বেইজিং মনে করত, ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি, যা অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশলের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতা সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

ইরানের জনসংখ্যা ইসরায়েলের তুলনায় প্রায় দশ গুণ এবং সৌদি আরবের তুলনায় তিন গুণ বেশি হলেও, তার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ইসরায়েলের চেয়েও ছোট এবং সৌদি আরবের জিডিপির মাত্র ২৫ শতাংশ।

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথি বিদ্রোহীরাও রয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে একে একে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে, অথচ ইরানের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জারিফ প্রকাশ্যে বলেন, তেহরানের এসব গোষ্ঠীর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি এড়াতে ইরান নিঃশব্দে ইয়েমেন থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নেয়।

চীনের পর্যবেক্ষকরা এ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। প্রভাবশালী চীনা বিশ্লেষক হু শিজিন মন্তব্য করেন, তেহরান নিজের দেশকে একটি ‘কাদামাটির ফাঁদে’ ঠেলে দিয়েছে এবং এর জন্য তিনি সরাসরি ইরানের নেতৃত্বকেই দায়ী করেন।

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও তেহরানের প্রতিক্রিয়াগুলোকে ব্যঙ্গ করে ‘প্রদর্শনমূলক প্রতিশোধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড, ২০২৪ সালে দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা এবং ২০২৫ সালের যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিক্রিয়া। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দেওয়াও ইরানের দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করেছে বলে মনে করা হয়।

নিংশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন-আরব গবেষণা ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক নিউ সিনচুন বলেন, ইরানের ইসলামি মতাদর্শ ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস বা ছাড় দেওয়ার পথকে কার্যত বন্ধ করে দেয়।’ কিন্তু একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতি উন্নত করার মৌলিক পূর্বশর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা।’

অর্থাৎ, তেহরান আদর্শিক অবস্থান ও বাস্তব টিকে থাকার প্রয়োজনের উভয় সংকটের মধ্যে আটকে পড়েছে।

২০২১ সালের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তি বাস্তবে খুব কম ফল দিয়েছে

২০২১ সালে ঘোষিত ২৫ বছরের চীন-ইরান কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তিকে অনেকেই বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প খুব কমই বাস্তবায়িত হয়েছে।

ইরানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ এবং তেহরানের নীতিগত অসঙ্গতি নিয়ে চীনের হতাশা—এই দুই কারণে প্রকল্পগুলোর গতি থেমে যায়। ইউন সানের মতে, এখন বেইজিং এই অংশীদারত্বকে মূলত প্রতীকী বলে মনে করে এবং এটিকে ক্রমেই একতরফা সম্পর্ক হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে চীন সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ১০৫ থেকে ১০৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের তুলনায় এটি অনেক বেশি সুসংগঠিত, কারণ ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানে বাণিজ্য সীমিত ও অনিশ্চিত।

মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সম্পর্কের পরিসর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের তুলনায় সৌদি আরবের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক অনেক গভীর, স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সৌদি আরব এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রধান কৌশলগত পছন্দ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রিয়াদে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, চীন “মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে সৌদি আরবকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং এটিকে তাদের বৈশ্বিক কূটনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।” তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের যে চুক্তি হয়, সেটিরও মধ্যস্থতা করে চীন। চীনের কাছে সৌদি আরবের গুরুত্ব বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট: সৌদি আরবের অর্থনীতি বড়, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞামুক্ত। উপসাগরীয় অঞ্চল ও আরব বিশ্বে সৌদি আরবের রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ইরানকে অতিরিক্ত সমর্থন দিলে উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে—যা বেইজিং কোনওভাবেই চাইবে না।

জ্বালানি নিরাপত্তাই একমাত্র রেডলাইন, কিন্তু ইরানি শাসনব্যবস্থা রক্ষা করা জরুরি নয়।

২০২৫ সালে চীনের মোট তেল আমদানির ৫৫ শতাংশের বেশি এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ সরবরাহ করেছে ইরান। এই তেলের প্রায় সবই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

চীনের কৌশলগত মজুদে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে—যা স্বল্পমেয়াদি বিঘ্ন সামাল দিতে যথেষ্ট হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস দ্রুত বাড়লেও, কয়লার পর এখন এটি চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি উৎস। তবু বিমান পরিবহন, জাহাজ চলাচল এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে তেলের বিকল্প এখনো নেই।

তবে চীনা বিশ্লেষক ও তেল শিল্পের কর্মকর্তারা মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে না। কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে।

২০২৫ সালের যুদ্ধের সময় বেইজিং সক্রিয়ভাবে তেহরানকে সমুদ্রপথ খোলা রাখার জন্য চাপ দিয়েছিল।

চীনের দৃষ্টিতে, ইরানে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, যদি তারা তেল রপ্তানি চালু রাখে, তবে বেইজিং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে প্রস্তুত। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হলেও সমস্যা নেই; সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ বা ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর মতো হঠাৎ পতন হলেও চীন আপত্তি করবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন সরকার আদর্শিক অবস্থানের বদলে অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দেয়।

ফরেন পলিসির বিশ্লেষক অ্যারন গ্লাসারম্যান বিষয়টি সরাসরি এভাবে ব্যাখ্যা করেন, ‘চীনের অগ্রাধিকার হলো বর্তমান ইরানি শাসনের টিকে থাকা নয়; বরং সংঘাত-পরবর্তী যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হবে, তার মধ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত স্বার্থ সংরক্ষণ করা।’

অর্থাৎ, চীনের কাছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বের চেয়ে ইরানের তেল রপ্তানি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা চীনকে সরাসরি হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখছে।

ইরানকে সরাসরি সহায়তা করা চীনের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অগ্রাধিকার

২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের সমঝোতা আলোচনার আগে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত করার কোনও আগ্রহ বেইজিংয়ের নেই।

বাধ্যতামূলক সামরিক জোট নেই

যুক্তরাষ্ট্রের মতো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটের অংশ নয় ইরান। কার্নেগি এনডাউমেন্টের বিশ্লেষক ইভান এ ফেইগেনবাউম বলেন, চীনের কৌশলগত অংশীদারত্বগুলোতে ‘কোনও বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা থাকে না।’

ইউরেশিয়া গ্রুপের ড্যান ওয়াংও বলেন, ‘বেইজিং ইরানকে সামরিক মিত্র নয়, বরং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে।’

সামরিক শক্তি দূরবর্তী অঞ্চলে ব্যবহার করতে অনীহা

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উইলিয়াম ইয়াংয়ের মতে, চীন এখনো তার নিকটবর্তী অঞ্চল ছাড়া অন্যত্র সামরিক শক্তি প্রয়োগে অনীহা দেখায়। বিশেষ করে যখন তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর তাদের জন্য আরও বড় অগ্রাধিকার।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক বনি গ্লেজারও স্পষ্টভাবে বলেন, ‘চীন বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করবে, কিন্তু কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেবে না—এবং ইরানকে বড় ধরনের সহায়তাও দেবে না। এই ধারা বদলাবে না।’।

সবমিলিয়ে চীন সম্ভবত আগের মতোই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে যাবে, প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কিছু দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহে নীরবে সহায়তা করতে পারে এবং ছায়া নৌবহরের মাধ্যমে ইরানি তেল কেনা চালিয়ে যাবে।

কিন্তু সরাসরি সামরিক সহায়তা, বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর উদ্যোগ, কিংবা এমন কোনও পদক্ষেপ যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে (বিশেষত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা চীনের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার) সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে—সেসবের সম্ভাবনা কার্যত নেই। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলতেও চীন আগ্রহী নয়।

ইউন সানের ভাষায়, ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা এখন চীনা নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়নের মধ্যেই ‘স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।’

অতএব, ইরানে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক—ইসলামি প্রজাতন্ত্র, অন্তর্বর্তী প্রশাসন বা নতুন কোনও রাষ্ট্রিক কাঠামো, চীন তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল অব্যাহত থাকে।

তেহরানের প্রতি বার্তাটি তাই স্পষ্ট: তোমাদের নিজেদের পথ নিজেদেরই খুঁজে নিতে হবে। চীনের সঙ্গে অংশীদারত্ব শুরু থেকেই ছিল লেনদেনভিত্তিক। আর সেই লেনদেনের মূল বিষয় হলো জ্বালানি নিরাপত্তা—শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা নয়।


তথ্যসূত্র: ফরেইন অ্যাফেয়ার্স, ফরেইন পলিসি, দ্য ডিপ্লোম্যাট, ফোর্বস, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, চ্যাথাম হাউস

সম্পর্কিত