leadT1ad

লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরেই কি আলোচনার টেবিল ছাড়ল ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ২২: ৩১
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বার্গেনস্টক রিসোর্টে আলোচনা হওয়ার কথা ছিলো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারিগরি বিষয় নিয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, বুর্গেনস্টকে নির্ধারিত বৈঠকটি আর হচ্ছে না। এতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ইরান যে প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে পাঠানোর কথা ছিল, তা বিলম্বিত করা হয়েছে। এর পেছনে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর পরদিন রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে।

‘রেড লাইন’ মেনে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধের অবসানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ ইরান বুঝতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তেহরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছে, পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করলেও তাদের কিছু রেড লাইন রয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার বলেন, যেকোনো আলোচনা তেহরানের ‘লাল রেখা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আলোচনায় ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা।

সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে গালিবাফ বলেন, শত্রু যদি সীমা ছাড়াতে চায়, আমরা প্রমাণ করেছি যে আমাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। শত্রুকে কঠোর জবাব দিতে আমরা কোনো দ্বিধা করি না।

চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো রোববার মিসরের আল-আলামেইন শহরে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে বলে কায়রো ও ইসলামাবাদ জানিয়েছে।

কড়া বক্তব্যের পরও শুক্রবার ইরান ঘোষণা দেয়, সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনাকালে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত ফি মওকুফ করা হবে।

পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে কোনো ফি দিতে হবে না। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দেওয়া এবং যাত্রাপথ ও সময়সূচি সমন্বয় করা।

নতুন তারিখ ঘোষণা হয়নি

সুইজারল্যান্ডের লুসার্নের কাছে স্টান্সস্টাডে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে আলোচনা ও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রিসোর্টটির মালিক কাতারা হসপিটালিটি, যা কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের অংশ। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করেছে।

শুক্রবার এএফপিকে পাঠানো এক বার্তায় সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিকল্পিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, সুইজারল্যান্ড এসব আলোচনা সহজতর করতে প্রস্তুত রয়েছে। বুর্গেনস্টকে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনার নতুন কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

এর আগে আল মায়াদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে প্রতিনিধিদল পাঠাতে দেরি করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ অবস্থান করবে। যতদিন ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকবে।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তির পক্ষ নয়। তবে ইরান বলেছে, দক্ষিণ লেবাননের যে বিস্তীর্ণ এলাকা ইসরায়েল দখল করে রেখেছে, সেখান থেকে তাদের সরে যেতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বাধা

১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিন পর ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা দ্রুত শুরু করার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়ে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট গ্রাম ওববুর্গেনের পাহাড়ি রিসোর্টে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

তাঁর সহযোগী ও কয়েকজন সাংবাদিকও সফরের প্রত্যাশায় ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে জড়ো হয়েছিলেন।

একই সময়ে ভ্যান্সের আগমনের প্রস্তুতির জন্য হোয়াইট হাউসের কয়েক ডজন কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সফরটি বাতিল করা হয়।

হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার নেতৃত্বের দায়িত্ব ভ্যান্সকে দিলেও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তিনি ওয়াশিংটনেই থাকছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই আলোচনার লজিস্টিক ব্যবস্থা কখনোই সহজ বা পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না।

লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েলের অস্বীকৃতি হোয়াইট হাউসে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কারণ, এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বাধ্যবাধকতায় নিজেদের আবদ্ধ মনে করেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রীরা। তাদের মন্তব্যের পর, আলোচনা স্থগিতের আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভ্যান্স সমালোচনা করে বলেন, আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তাহলে হয়তো বিশ্বের কোথাও অবশিষ্ট থাকা আমার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের বিরুদ্ধেই হামলা চালাতাম না।

সুত্র: আল জাজিরা

Ad 300x250

সম্পর্কিত