leadT1ad

ঝিনাইদহ-১: অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছেড়ে লড়াইয়ে আসাদুজ্জামান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

একনজরে প্রার্থী পরিচিতি

নাম: মো. আসাদুজ্জামান

বয়স: ৫৪ বছর

দল ও প্রতীক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ধানের শীষ

জোট: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোট

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এলএলএম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

পেশা: আইনজীবী (সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল)

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকূপায় জন্ম নেন তিনি। আসাদুজ্জামান ১৯৮৭ সালে এসএসসি ও ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হন এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হন। তিনি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আসাদুজ্জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়েছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান এবং দায়িত্ব গ্রহণের স্বার্থে দলীয় পদ ছাড়েন।

আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

১৯৮৪ সালে জেলা গঠনের পর ঝিনাইদহ-১ আসনটি তৈরি হয়। নব্বইয়ের দশকে এটি বিএনপির দুর্গে পরিণত হয়েছিল। বিএনপির আব্দুল ওয়াহাব এই আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে (ফেব্রুয়ারি ও জুন) টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। তবে ২০০১ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের আধিপত্য শুরু হয়। প্রয়াত আব্দুল হাই ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বার এই আসনে বিজয়ী হন। ২০২৪ এর উপ-নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। এবার অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সেই হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া।

হলফনামা: আয় ও সম্পদের বিবরণ

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী আসাদুজ্জামানের কোনো ব্যাংক ঋণ নেই এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই।

বাৎসরিক আয় (২০২৫-২৬ করবর্ষ):

মোট আয়: ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৭ টাকা।

বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া: ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

ব্যবসা: ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

পেশাগত আয় (আইনজীবী): ৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৬ টাকা।

শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত: ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০১ টাকা।

স্ত্রীর আয়: ৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৬০ টাকা (শিক্ষকতা ও অন্যান্য)।

প্রদত্ত আয়কর: ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ১৩৯ টাকা।

স্থাবর সম্পদ

মোট অর্জনকালীন মূল্য: ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬৫ টাকা (বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা)।

বিবরণ:

ঢাকার সাভারে ৪৬২ শতাংশ জমি (মূল্য: ১.০৯ কোটি টাকা)।

ঢাকার উত্তরায় ৬ কাঠা ও ৫ কাঠা জমিতে ভবনের আংশিক মালিকানা (মূল্য: ৮.১৫ কোটি টাকা)।

ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটের এক-তৃতীয়াংশ মালিকানা (মূল্য: প্রায় ৫৮ লাখ টাকা)।

ঝিনাইদহে পৈতৃক সম্পত্তি।

স্ত্রীর সম্পদ: ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ১.৮০ শতাংশ জমি।

অস্থাবর সম্পদ

মোট অর্জনকালীন মূল্য: ২ কোটি ১০ লাখ ৪ হাজার ৫৬৮ টাকা (বর্তমান প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা)।

বিবরণ:

নগদ: ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮২ টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা: ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৬ টাকা।

ফিক্সড ডিপোজিট: ৩০ লাখ টাকা।

স্বর্ণালংকার: ২০ তোলা (উপহার হিসেবে প্রাপ্ত)।

অন্যান্য: ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র ১০ লাখ টাকা।

স্ত্রীর সম্পদ: মোট ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪১ টাকা (ফিক্সড ডিপোজিট ৩৩ লাখ টাকাসহ)।

Ad 300x250