জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঢাবিতে নারীকে মারধর করা রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঢাবিতে নারীকে মারধর করা রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামী। সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে ২ নারীকে মারধর ও হেনস্তা করা ব্যক্তি হত্যা মামলার আসামি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা ওই তরুণের নাম মো. রাকিব।

রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি ঢাবির বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকায় তিনি ছাত্রদলের করেন বলেও দাবি করছেন অনেকে। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রদলের সঙ্গে রাকিবের কোনো সম্পর্ক নেই।

রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈরের আলোচিতত সাব্বির হত্যা মামলার প্রধান আসামি। নিহত সাব্বিরের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনকে একটি ১০তলা ভবনে ডেকে নেওয়া হয়। পরে সেখানে সাব্বিরকে কুপিয়ে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করেন নিহতের ভাই মহিউদ্দিন আবির। ওই মামলায় রাকিবের যমজ ভাই সাকিবকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে সফিপুরের জেনারেল হাসপাতাল রোডের ইউনিক টাওয়ারের ছাদে মুড়ি পার্টির আয়োজন করে রাকিব ও সাকিব। সেখানে আরো ২-৩ জন কিশোর উপস্থিত ছিল। তারা সাব্বিরকে সেখা ডেকে নিয়ে যায় এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা সাব্বিরকে হত্যা করে।

নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করার প্রায় দুই বছর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পারি রাকিব ঢাবিতে এখন নারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে।’

আবরি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করি। কিন্তু এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়নি। এই মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে প্রকাশ্যে দেখা গেলেও তাঁকে গ্রেপ্তারে প্রলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করেছে। এখন এই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দায়িত্বও তাদের।’

ওসি আরও বলেন, ‘আসামি এখন যেহেতু আরেকটি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, নারীদের মারধর করছে, সেহেতু অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট থানা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। আর আদালত থেকে যদি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, তাহলে আমরা দায়িত্ব নেব।’

দায় নিচ্ছে না ছাত্রদল

টিএসসিতে ঘটনার পর ঢাবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারদের সঙ্গে রাকিবের তোলা ছবি ও ভিডিওর স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ছাত্রদলের জাতীয় নির্বাচন নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটিতেও তাঁর নাম দেখা যায়।

রাকিব ছাত্রদলের কেউ না বলে জানিয়েছেন ঢাবি ছাত্র দলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী। স্ট্রিমকে তামী বলেন, ‘ছাত্রদেলের সঙ্গে রাকিবের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো কমিটিতেও তাঁর নাম নেই। তাঁকে কোনো মিছিল-মিটিংয়েও দেখা যায় না। তবে কয়েকজনের সঙ্গে ছবি দেখেছি।’

জাতীয় নির্বাচন নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটিতে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তামী বলেন, ‘ওই কমিটিতে রাকিব কীভাবে জায়গা পেয়েছে, সেটা আমার জানা নেই। আর সেটা একটা সাময়িক কমিটি। ফলে রাকিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু সে ছাত্রদলের কেউ না।’

টিএসসিতে যা ঘটেছিল

গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সাহরির পর ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে রাজু ভাস্কর্য চত্বরে দুইজন নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধর করা রাকিবের সঙ্গে থাকা অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে অভিযোগের পর তা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অফিস।

এই ঘটনায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টিএসসিতে দুই তরুণী বলছেন, ‘আমরা পুরান ঢাকায় সাহরি খেয়ে টিএসসিতে এসে দাঁড়িয়েছি। হঠাৎ একজন এসে আমাদের সঙ্গে থাকা বাইক রাইডারকে চড়থপ্পর মারা শুরু করে। এ সময় সামনে এগিয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্র বাজেভাবে অশ্লীল মন্তব্য করেন।’

হেনস্তার শিকার নারীকে ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘রাতে কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যাতায়াত করা নিষেধ? আমাদের কোনো প্রশ্নই করে নাই। আমরা নাকি প্রস্টিটিউট।’

ওই নারী আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা মেয়েরা সেফ না। ৫ আগস্টের পরে আমরা সেফ না। আমরা আনসেফ। ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে। আমাদের ড্রেসে কি লেখা আছে আমরা প্রস্টিটিউট?’

হেনস্তার শিকার অপর নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলে হয়ে আমার গালে কেন থাপ্পড় মারবে? আমি কি বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসছি? আমি এখানে আসতে পারি না?’

সম্পর্কিত