leadT1ad

‘ইন্টারপাস প্রধানমন্ত্রী চাই না’ প্রচারণায় ‘শ্রেণিঘৃণা’র অভিযোগ নেটিজেনদের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ০৩
প্রতীকী ছবি

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একটি বিতর্কিত স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক জনসভায় ‘ইন্টারমিডিয়েট পাস প্রধানমন্ত্রী চাই না’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ডে এক সমর্থকের ছবি দলের অফিশিয়াল পেজে আপলোড করার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও জামায়াতের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পরে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কড়া সমালোচনা করে লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ তার ফেসবুক পোস্টে বিষয়টিকে ‘বর্ণঘৃণা’ ও ‘শ্রেণিঘৃণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, জামায়াত ও তাদের কর্মীরা ‘ইন্টারপাস প্রধানমন্ত্রী’ চায় না বলে যে বার্তা দিচ্ছে, তা এদেশের কোটি কোটি শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রতি এক ধরনের ঘৃণা প্রকাশ করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এদেশের প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ—যাদের ওপর ভিত্তি করে অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, তাদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত নন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য স্কুল-কলেজের ডিগ্রির চেয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনচাহিদা বোঝাই আসল যোগ্যতা হওয়া উচিত।

আলতাফ পারভেজের এই পোস্টের নিচে নুরুল নূর নামের একজন মন্তব্য করেন, তারেক রহমান কোনো সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী থেকে আসেননি, বরং তিনি একটি এলিট রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। ফলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ‘বর্ণবাদ’ বলা যায় কিনা, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। জবাবে আলতাফ পারভেজ জানান, জামায়াত তাদের অফিশিয়াল পেজ থেকে এই ছবি সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে তাদের ‘শিশুসুলভ’ আচরণের পরিচয় দিয়েছে।

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এই মানসিকতাকে ইসলামের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে সমালোচনা করে লিখেছেন, রাসূল (সা.) যখন দাওয়াহ শুরু করেন, তখন কাফেররা তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের ‘মূর্খ’ বলে উপহাস করত এবং বিদ্রুপ করে ‘নাবিউল উম্মি’ (নিরক্ষরদের নবী) বলত। আল্লাহ সেই উপহাসের উত্তর দিয়ে সূরা জুমায় আয়াত নাজিল করেন এবং ‘উম্মি’ শব্দটিকে সম্মানে পরিণত করেন। কাদেরের মতে, প্রতিপক্ষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে খাটো করার এই মনোভাব তখনকার কাফের-মুশরিকদের আচরণের সঙ্গে মিলে যায়।

সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি-নির্ধারণী ইস্যু বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এই ব্যক্তিগত আক্রমণ জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা।

বিষয়:

ফেসবুক
Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত