২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৬: ০৩
সংসদে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রা পেরিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আমি আজ এই মহান সংসদে আমাদের প্রথম বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপনের জন্য দাঁড়িয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের ৩১ দফার পথ ধরে বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও সম্প্রসারিত প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে উপস্থাপন করেছে। আমরা যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করেছি, সেটা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার ঘোষণাও ইতোমধ্যে তিনি জাতির সামনে দিয়েছেন। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ সময়ে বিএনপি সরকারের দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে অর্থনীতির মূল সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ছিল। কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ও ধ্বংস করেছে। তথাকথিত উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে মূলত লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতির মৌল ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই অবস্থার কেবল পুনরুদ্ধারই নয়, একে উত্তরণ ও সমৃদ্ধ পুনর্গঠনের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপির ওপরে জনগণ যে ভরসা রেখেছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সেই দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই রাজনীতি ও অর্থনীতির পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে আমরা জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে কেবলমাত্র সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ না, বরং আমাদের দেশকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণের পথ-নকশার অংশ হিসেবে বাজেট উপস্থাপন করছি। আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট হবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিতকরণে সরকারের অভিপ্রায়ের একটি প্রতিফলন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির ভগ্নদশার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা এবারের বাজেটে—স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশও অর্জন করবে। সেই লক্ষ্যের আলোকে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।’

সম্পর্কিত