জামিন নামঞ্জুর, তবে সন্তান প্রসবকালে স্ত্রীর পাশে থাকার অনুমতি পেলেন সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ১২
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েলের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে সন্তান জন্মদানের সময় পুলিশ পাহারায় তাঁকে স্ত্রীর পাশে থাকার বিশেষ অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন ট্রাইব্যুনালে মশিউর রহমানের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

শুনানিতে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, মশিউর রহমানের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আগামী ২০ এপ্রিল ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তাঁর সন্তান জন্মদানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। মশিউর রহমান বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে (সাবজেল) বন্দি আছেন। সন্তান জন্মদানের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্বামীকে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর স্ত্রী। এ কারণে মানবিক দিক বিবেচনায় তাঁর জামিন আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামি জামিন পাবেন না। তবে সন্তান জন্মদানের সময় স্ত্রীর পাশে যেন তিনি থাকতে পারেন, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন আদালত।

আদালতের আদেশের বিষয়ে মশিউর রহমান জুয়েলের আরেক আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ স্ট্রিমকে জানান, আদালতে তারা মূলত আসামির জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত জামিন না দিয়ে বিকল্প একটি আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

অ্যাডভোকেট সিফাত মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় আদালত সাধারণত জামিন দেন না। তাই জামিনের পাশাপাশি আমরা বিকল্প হিসেবে সন্তান প্রসবকালে স্ত্রীর পাশে থাকার একটি আবেদন করেছিলাম। আদালত সেই আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। উনার স্ত্রী যখন হাসপাতালে ভর্তি হবেন, তখন তিনি সেখানে থাকার সুযোগ পাবেন।’

হাসপাতালে কতদিন থাকার অনুমতি মিলেছে—জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালত মৌখিকভাবে আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। তবে তিনি ঠিক কতদিনের জন্য স্ত্রীর পাশে থাকার সুযোগ পাবেন, তা লিখিত আদেশ হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ এবং পরবর্তী কয়েকদিন তিনি সেখানে থাকার সুযোগ পেতে পারেন বলে আমরা আশা করছি।’

আইনি পরিভাষায় বিষয়টিকে ‘প্যারোলে মুক্তি’ বলা যাবে কি না—এমন প্রশ্নে সিফাত মাহমুদ বলেন, ‘প্যারোলের নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন রয়েছে। সাধারণত বাবা-মা, স্ত্রী বা ভাই-বোনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্যারোল পাওয়া যায়। এর বাইরের কোনো বিশেষ কারণে প্যারোল চাইলে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যেহেতু এটি ট্রাইব্যুনাল এবং তাদের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, তাই লিখিত আদেশে সুস্পষ্টভাবে ‘প্যারোল’ শব্দটি উল্লেখ না থাকলে এটিকে সরাসরি প্যারোলে মুক্তি বলা ঠিক হবে না। আদালত মূলত পুলিশ পাহারায় তাকে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার অনুমতি দিয়েছেন।’’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে।

টিএফআই সেলে গুমের এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক র‍্যাবের ডিজি এম খুরশিদ হোসেন ও ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা কর্নেল কেএম আজাদসহ বেশ কয়েকজন।

এই ১৭ আসামির মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান জুয়েলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন বর্তমানে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে (সাবজেলে) রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ বাকি আসামিরা এখনও পলাতক।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত