বরিশালে যুবদল নেতার মৃত্যু, চিকিৎসকদের সঙ্গে সংঘর্ষ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০: ১০
কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ করেন স্বজন। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যুবদল নেতা মনির খানের (৩৮) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে স্বজনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে এই সংঘর্ষ হয়।

মনির খান বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর গ্রামের আব্দুল হক খানের ছেলে ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জানা যায়, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে মনির খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকারের পরামর্শে একই দিন বিকেলে তাঁকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মনির খানের চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াদ মিরন বলেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মনির খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তবে বুধবার সকাল থেকে অবনতি হতে থাকে। এ সময় চিকিৎসকদের একাধিকবার জানানো হলেও, তারা যথাসময়ে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ তাঁর।

স্বজনদের অভিযোগ, অবহেলার বিষয়ে জানালে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাদের মারধর করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, উত্তেজিত স্বজন দায়িত্বরত চিকিৎসক সুবেন্দু হালদার শিবুর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করেন।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক সুবেন্দু হালদার শিবু। তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোগীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত হয়ে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। এরপরও কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত