কুষ্টিয়ায় পীর হত্যাকাণ্ডে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের নেতার জামিন নামঞ্জুর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২০: ১৯
কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা মামলায় জামায়াত ও খেলাফত মজলিস নেতা কারাগারে। সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করেছেন জেলা আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবির। পরে তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকা মামলার প্রধান দুই আসামি জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদ ও খেলাফত মজলিস নেতা আসাদুজ্জামান আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

কারাগারে নেওয়া আসামিদের মধ্যে খাজা আহম্মেদ দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত ইসলামীর রোকন সদস্য। এছাড়া উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে দল মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তিনি। অপর আসামি আসাদুজ্জামান একই উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে। তিনি খেলাফত মজলিসের উপজেলা শাখার সভাপতি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক জানান, পীর হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনের ছিলেন তারা। এর মেয়াদ শেষে আজ জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। তবে আমরা হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করব।

এর আগে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীরের শামীম জাহাঙ্গীর দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উত্তেজিত লোকজন। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে গুরুতর আহত পীর শামীমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৪টার দিকে মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন। এতে খাজা আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমান জানান, কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় চারজন আসামি কারাগারে আছে। এজাহারভুক্ত দুই আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। আজ তাদের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় এই মামলায় মোট ছয়জন আসামি কারাগারে আছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত