ফাবিহা বিনতে হক

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয়, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। চার বছর ধরে এর জন্য সারা পৃথিবী যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, ভবিষ্যদ্বাণী আর তর্কাতর্কিতে। অথচ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না। তবুও কেন এ খেলাকে ঘিরে এত আবেগ?
মানুষ দলবদ্ধ প্রাণী। হাজার হাজার বছর আগে মানুষের টিকে থাকা নির্ভর করত নিজের ‘দলের’ ওপর। খাদ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা, শিকার কিংবা অন্য দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সবকিছুই হতো দলগতভাবে। এই মানসিক প্রবণতা আজও আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট সেই আদিম অনুভূতিই নতুনভাবে জাগিয়ে তোলে।
প্রিয় দল জিতলে সমর্থকেরা এমনভাবে উল্লাসে ফেটে পড়েন, যেন তারাও জিতেছেন। তাই তো আর্জেন্টিনা জিতলে ঢাকার রাস্তায় আনন্দ মিছিল বের হয়, আবার ব্রাজিল হারলে মন খারাপ হয়ে যায়। আমরা জানি, খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। তবুও প্রিয় দলের জয়ে আমরা বিজয়ের আনন্দ পাই। কিন্তু হেরে গেলে সমর্থিত দলকে নিয়ে বলি, ‘ওরা ভালো খেলতে পারেনি।’
মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে ‘বাস্কিং ইন রিফ্লেক্টেড গ্লোরি’ বলা হয়। অর্থাৎ, নিজের সঙ্গে কোনো সফল দলকে যুক্ত করে তার সাফল্যের অংশীদার হওয়ার অনুভূতি। যেমন প্রিয় দল জিতলে ভক্তরা বলে, ‘আমরা জিতেছি।’ কিন্তু হারলে বলে, ‘ওরা হেরেছে।’
এভাবেই যুগে যুগে মানুষের পরিচয়বোধ পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়।
এবারের বিশ্বকাপে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যদিও আলোচনা আগেও ছিল। প্রিয় দলের বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে ভক্তরা বলেন, ‘খেলা আর রাজনীতি’ এক নয়। আবার সেই দলের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ’ খেলার সঙ্গে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনছে বারবার। তবে এমন মনস্তত্ত্ব শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রাজনীতিবিদরাও এটি ভালোভাবেই বোঝেন।
যেমন এবারের বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারানোর পর একদিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছিল ইকুয়েডর। কারণ জাতীয় দলের সাফল্য দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, তাঁদের মধ্যে ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আবার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং প্রকাশ্যে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁকে কোচের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের কোচ পদত্যাগ করেন। এতে বোঝা যায়, ম্যাচের রেজাল্ট দেশের জাতীয় মর্যাদারও প্রতীক হয়ে ওঠে।
ইতিহাসে এমন উদাহরণ অনেক। ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনি ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। তবে খেলাধুলার বৈশিষ্ট্য হলো এর ফল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই জয়ের গৌরব যেমন জনপ্রিয়তা বাড়ায়, তেমনি পরাজয় রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে।
ফুটবল খেলা দেখছেন, অথচ উত্তেজিত হচ্ছেন না এমন কি হয়েছে কখনও? বিশেষ করে সমর্থিত দল যখন ফুটবল মাঠে থাকে, মনে হয় খেলোয়াড়রা নয়, আমরাই মাঠে ‘যুদ্ধ’ করছি।
বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েল একবার বলেছিলেন, ‘ফুটবল হলো গুলি ছাড়া যুদ্ধ।’ কথাটি রূপক অর্থে লেখা হলেও এতে বাস্তবতা আছে। কারণ খেলার মাঠে অস্ত্রের বদলে থাকে বল আর যোদ্ধার বদলে মাঠে থাকে খেলোয়াড়।
আমাদের মনস্তত্ত্ব এখনো বিশ্বাস করে যে দল মানেই টিকে থাকা, আর প্রতিদ্বন্দ্বী দল মানেই হুমকি। এর চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় মনোবিজ্ঞানের ‘আইডেন্টিটি ফিউশন’ ধারণায়, যেখানে দলের সঙ্গে একজন ভক্তের নিজস্ব সত্তা এমনভাবে মিশে যায় যে দল হারলে নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন মনে হয়। এই আদিম প্রবৃত্তি থেকেই সমর্থকরা মহাদেশ পাড়ি দেয়, টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে যায় এবং অনেক সময় মারামারিতেও জড়িয়ে পড়ে।
তবে এই প্রতিযোগিতার ইতিবাচক দিকও রয়েছে। খেলাধুলা মানুষের প্রতিযোগিতার প্রবণতাকে সহিংসতার বদলে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসে, এটা অনেকেই বলেন। তাই স্টেডিয়াম নামের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হয় শান্তিপূর্ণভাবে, নিয়ম মানার মাধ্যমে। দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, খেলার সুনিপুণ কৌশলের মাধ্যমে।
বিশ্বকাপ যেমন সমর্থকদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, তেমনি অনেক বিভাজনেরও জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, যখন দলের পরাজয়কে জাতীয় অপমান হিসেবে দেখা হয়, তখন এই উত্তেজনা সংঘাতেও রূপ নিতে পারে। ১৯৬৯ সালে হন্ডুরাস ও এল সালভাদরের মধ্যে সংঘটিত ‘ফুটবল যুদ্ধ’ এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। যুদ্ধের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ হলেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ সেই উত্তেজনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়।
তবে বিশ্বকাপের অন্ধকার দিক যেমন আছে, ভালো দিকও আছে। এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার ডাচ সমর্থক কমলা রঙে উৎসব করছিলেন। সেখানে অনেক আমেরিকানও তাদের সঙ্গে যোগ দেন, কমলা পোশাক পরে ডাচদের স্লোগান শেখেন। সাময়িকভাবে তারাও যেন একই দলের সদস্য হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশেও এমন দৃশ্য নতুন নয়। অংশগ্রহণ না করেও বাংলাদেশ বিশ্বকাপ উদ্যাপন করে দারুণ উৎসাহের সঙ্গে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রিয় দলের সমর্থকরা হয়ে ওঠে একে অন্যের সতীর্থ।
এ ছাড়া বিশ্বকাপ এমন অনেক নতুন দেশের সঙ্গে পরিচয় করায়, যে দেশের নাম আগে হয়ত কখনও কেউ শোনেইনি। ফুটবলের মাধ্যমে তারা হয়ে ওঠে ‘আন্তর্জাতিক আলোচনার’ বিষয়বস্তু। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া বা ভালো খেলা কয়টা দেশের নাম আগে শুনেছেন?
হয়তো বিশ্বকাপ আমাদের শেখায় একসঙ্গে বাঁচতে। আদিম যুগে দলবদ্ধভাবে বাঁচার সেই প্রবৃত্তি, আধুনিক যুগের বিশ্বকাপের মাধ্যমে নতুন করে জেগে ওঠে। কিছুদিনের জন্য আমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত দুঃখ বা সমস্যার কথা ভুলে মেতে থাকি ফুটবল খেলার আনন্দে।

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয়, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। চার বছর ধরে এর জন্য সারা পৃথিবী যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, ভবিষ্যদ্বাণী আর তর্কাতর্কিতে। অথচ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না। তবুও কেন এ খেলাকে ঘিরে এত আবেগ?
মানুষ দলবদ্ধ প্রাণী। হাজার হাজার বছর আগে মানুষের টিকে থাকা নির্ভর করত নিজের ‘দলের’ ওপর। খাদ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা, শিকার কিংবা অন্য দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সবকিছুই হতো দলগতভাবে। এই মানসিক প্রবণতা আজও আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট সেই আদিম অনুভূতিই নতুনভাবে জাগিয়ে তোলে।
প্রিয় দল জিতলে সমর্থকেরা এমনভাবে উল্লাসে ফেটে পড়েন, যেন তারাও জিতেছেন। তাই তো আর্জেন্টিনা জিতলে ঢাকার রাস্তায় আনন্দ মিছিল বের হয়, আবার ব্রাজিল হারলে মন খারাপ হয়ে যায়। আমরা জানি, খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। তবুও প্রিয় দলের জয়ে আমরা বিজয়ের আনন্দ পাই। কিন্তু হেরে গেলে সমর্থিত দলকে নিয়ে বলি, ‘ওরা ভালো খেলতে পারেনি।’
মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে ‘বাস্কিং ইন রিফ্লেক্টেড গ্লোরি’ বলা হয়। অর্থাৎ, নিজের সঙ্গে কোনো সফল দলকে যুক্ত করে তার সাফল্যের অংশীদার হওয়ার অনুভূতি। যেমন প্রিয় দল জিতলে ভক্তরা বলে, ‘আমরা জিতেছি।’ কিন্তু হারলে বলে, ‘ওরা হেরেছে।’
এভাবেই যুগে যুগে মানুষের পরিচয়বোধ পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়।
এবারের বিশ্বকাপে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যদিও আলোচনা আগেও ছিল। প্রিয় দলের বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে ভক্তরা বলেন, ‘খেলা আর রাজনীতি’ এক নয়। আবার সেই দলের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ’ খেলার সঙ্গে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনছে বারবার। তবে এমন মনস্তত্ত্ব শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রাজনীতিবিদরাও এটি ভালোভাবেই বোঝেন।
যেমন এবারের বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারানোর পর একদিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছিল ইকুয়েডর। কারণ জাতীয় দলের সাফল্য দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, তাঁদের মধ্যে ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আবার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং প্রকাশ্যে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁকে কোচের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের কোচ পদত্যাগ করেন। এতে বোঝা যায়, ম্যাচের রেজাল্ট দেশের জাতীয় মর্যাদারও প্রতীক হয়ে ওঠে।
ইতিহাসে এমন উদাহরণ অনেক। ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনি ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিককে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। তবে খেলাধুলার বৈশিষ্ট্য হলো এর ফল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই জয়ের গৌরব যেমন জনপ্রিয়তা বাড়ায়, তেমনি পরাজয় রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে।
ফুটবল খেলা দেখছেন, অথচ উত্তেজিত হচ্ছেন না এমন কি হয়েছে কখনও? বিশেষ করে সমর্থিত দল যখন ফুটবল মাঠে থাকে, মনে হয় খেলোয়াড়রা নয়, আমরাই মাঠে ‘যুদ্ধ’ করছি।
বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েল একবার বলেছিলেন, ‘ফুটবল হলো গুলি ছাড়া যুদ্ধ।’ কথাটি রূপক অর্থে লেখা হলেও এতে বাস্তবতা আছে। কারণ খেলার মাঠে অস্ত্রের বদলে থাকে বল আর যোদ্ধার বদলে মাঠে থাকে খেলোয়াড়।
আমাদের মনস্তত্ত্ব এখনো বিশ্বাস করে যে দল মানেই টিকে থাকা, আর প্রতিদ্বন্দ্বী দল মানেই হুমকি। এর চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় মনোবিজ্ঞানের ‘আইডেন্টিটি ফিউশন’ ধারণায়, যেখানে দলের সঙ্গে একজন ভক্তের নিজস্ব সত্তা এমনভাবে মিশে যায় যে দল হারলে নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন মনে হয়। এই আদিম প্রবৃত্তি থেকেই সমর্থকরা মহাদেশ পাড়ি দেয়, টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে যায় এবং অনেক সময় মারামারিতেও জড়িয়ে পড়ে।
তবে এই প্রতিযোগিতার ইতিবাচক দিকও রয়েছে। খেলাধুলা মানুষের প্রতিযোগিতার প্রবণতাকে সহিংসতার বদলে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসে, এটা অনেকেই বলেন। তাই স্টেডিয়াম নামের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হয় শান্তিপূর্ণভাবে, নিয়ম মানার মাধ্যমে। দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, খেলার সুনিপুণ কৌশলের মাধ্যমে।
বিশ্বকাপ যেমন সমর্থকদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, তেমনি অনেক বিভাজনেরও জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, যখন দলের পরাজয়কে জাতীয় অপমান হিসেবে দেখা হয়, তখন এই উত্তেজনা সংঘাতেও রূপ নিতে পারে। ১৯৬৯ সালে হন্ডুরাস ও এল সালভাদরের মধ্যে সংঘটিত ‘ফুটবল যুদ্ধ’ এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। যুদ্ধের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ হলেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ সেই উত্তেজনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়।
তবে বিশ্বকাপের অন্ধকার দিক যেমন আছে, ভালো দিকও আছে। এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার ডাচ সমর্থক কমলা রঙে উৎসব করছিলেন। সেখানে অনেক আমেরিকানও তাদের সঙ্গে যোগ দেন, কমলা পোশাক পরে ডাচদের স্লোগান শেখেন। সাময়িকভাবে তারাও যেন একই দলের সদস্য হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশেও এমন দৃশ্য নতুন নয়। অংশগ্রহণ না করেও বাংলাদেশ বিশ্বকাপ উদ্যাপন করে দারুণ উৎসাহের সঙ্গে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রিয় দলের সমর্থকরা হয়ে ওঠে একে অন্যের সতীর্থ।
এ ছাড়া বিশ্বকাপ এমন অনেক নতুন দেশের সঙ্গে পরিচয় করায়, যে দেশের নাম আগে হয়ত কখনও কেউ শোনেইনি। ফুটবলের মাধ্যমে তারা হয়ে ওঠে ‘আন্তর্জাতিক আলোচনার’ বিষয়বস্তু। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া বা ভালো খেলা কয়টা দেশের নাম আগে শুনেছেন?
হয়তো বিশ্বকাপ আমাদের শেখায় একসঙ্গে বাঁচতে। আদিম যুগে দলবদ্ধভাবে বাঁচার সেই প্রবৃত্তি, আধুনিক যুগের বিশ্বকাপের মাধ্যমে নতুন করে জেগে ওঠে। কিছুদিনের জন্য আমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত দুঃখ বা সমস্যার কথা ভুলে মেতে থাকি ফুটবল খেলার আনন্দে।
.png)

মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলের ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশংসিত গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এই নিবন্ধটি ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই ‘আইডেন্টিটি অব আ মুসলিম ফ্যা
৬ ঘণ্টা আগে
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কার কবিতায় বাংলাদেশের প্রাণের স্পন্দন আর মর্মের সুর শুনতে পাওয়া যায়? সমস্ত কুণ্ঠা আর দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আমি আল মাহমুদের নাম নেব। এই কবিই আমাকে চমকে দিয়ে গিয়েছিলেন স্বপ্নের ভেতর, ‘নারকোলের ওই লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল/ ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠাণ্ডা গোলগাল।’
৬ ঘণ্টা আগে
আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এ দিন জনসংখ্যা নিয়ে নানা আলোচনা হয়। চলুন, একটি সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। বিশ্বের জনসংখ্যা এখন— ক) কমছে খ) বাড়ছে, তবে আর ১০ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে গ) বাড়ছে, এবং ২০৮০-এর দশকে গিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে
৮ ঘণ্টা আগে
আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বর্ষাকালীন বইমেলা। মেলায় রয়েছে প্রায় ১৫টি প্রকাশনীর বই। এ ছাড়াও রয়েছে শিশু কিশোর উপযোগী অরিজিনাল বিদেশি বই।
১০ জুলাই ২০২৬