শরীয়তপুরে সাংবাদিককে মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ বিএনপি নেতার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
শরীয়তপুর

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৫২
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধর ও কয়েকজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবার কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে তিনি পালং মডেল থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

এদিকে মারধরের শিকার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সেটি মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। এ ছাড়া সাংবাদিকদের মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পরও বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে এখনো কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি দল। উল্টো জেলায় কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিককে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি নেতার দেওয়া অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক বরকত মোল্লা তার অনুপস্থিতিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।

বিরোধের সূত্রপাত যেভাবে

গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসন লিখিত নোটিশ ছাড়াই শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয়। এর প্রতিবাদে সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল ফেসবুকে পোস্ট দিলে এরপর দিন রোববার সকালে ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়। একই দিন বিকেলে সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেন। এরপর থেকে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সমাবেশ থেকে সাংবাদিক বিধান মজুমদার অনি, জাহিদ হাসান রনি ও বরকত উল্লাহকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মারধর করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমানসহ অন্য নেতা-কর্মীরা। মারধরের পর ওই দিন বিকেলে আরিফুজ্জামান মোল্লা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর বুধবার রাতে তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অন্যদিকে বুধবার সন্ধ্যায় মানবকণ্ঠ ও দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে বরকত মোল্লার অভিযোগ, মামলা করতে গেলে পালং মডেল থানার ওসি ও পুলিশ সুপার তাদের এড়িয়ে যান এবং কোনো আইনি সহযোগিতা করেননি।

এখন টিভির প্রতিনিধি কাজী মনিরুজ্জামান ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন জানান, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা না হওয়ায় সাংবাদিকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগে ভুগছেন।

এদিকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা দাবি করেন, সাংবাদিকতার আড়ালে মব সৃষ্টি করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার তথ্য অস্বীকার করে তিনি জানান,

একজন নেতা রাগের মাথায় একজন সাংবাদিককে কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। এ ঘটনার তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত