জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যশোরে নবনির্বাচিত ৫ এমপির সংবাদ সম্মেলন, সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০: ৫৭
জামায়াতের নবনির্বাচিত পাঁচ এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যশোরের ছয়টি সংসদীয় এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হামলায় জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য যশোর-১ আসনের মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের গাজী এনামুল হক ও যশোর-৬ আসনের অধ্যাপক মোক্তার আলী। তারা নিজ নিজ এলাকায় সংঘটিত সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন স্থানে নারী ভোটকর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার পর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ভোটার, কর্মী ও নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা গ্রামে জামায়াত সমর্থক রেজাউল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তিনি শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এছাড়া বায়সা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নারী ভোটার মনিকাকে মারধর করে আহত করা হয়েছে।

চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেন ও কমিটি থেকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। একই উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আবেদ আলীর বাড়িতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাটি গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জেলের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং তার মেয়েকে মারধরের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

শার্শা উপজেলার বেলতা গ্রামে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজনের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলায় কয়েকজন আহত হন। লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নেও দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া সদর উপজেলার সুজলপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে জামায়াত কর্মী সুমনের বাড়িতে মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে খোঁজাখুঁজি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব ঘটনার ফলে জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। হামলায় আহতদের অনেকেই শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর হামলা অগণতান্ত্রিক আচরণ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল, তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাদের কার্যক্রম আশানুরূপ নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, হামলার বিষয়ে তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত