রংপুরে তিস্তার ভাঙন ঠেকানোর দাবিতে পাউবো ঘেরাও

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৩৫
রংপুর পাউবো কার্যালয়ের সামনে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দাদের অবস্থান। স্ট্রিম ছবি

রংপুরে তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ তুলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। রোববার দুপুর ১টার দিকে নগরীর আলমনগর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন তারা। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগ ফেলা ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান।

তবে পাউবোর দাবি, তিস্তায় গুরুতর কোনো ভাঙন নেই। যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পাউবো কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক ব্যক্তি। তারা অভিযোগ করেন, চলতি বন্যায় তিস্তায় কয়েক দফা ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছে। নদীর চর বাগডোহরা, চর মিনাবাজার, বিনবিনা ও কোলকন্দ এলাকায় বর্তমানে ভাঙন সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চর মিনাবাজারের বাসিন্দা আব্দুল গোফ্ফার হোসেন বলেন, ‘হামার বাড়িঘর রক্ষা করার জন্য নিজেরাই টাকা তুলিয়া একটা বাঁধ বানাইছিনো। এবারের বানে সেই বাঁধটাও ভাঙি গেইছে। এর সঙ্গে কয়েকটা বাড়িও ভাঙি গেইছে। যখন তখন হামার বাড়িও ভাঙি যাইবে। পানি উন্নয়নের কর্মকর্তারা হামার কোনো খোঁজখবর নেয় না। সেই জন্য হামরাই আসনো খবর নিবার।’

ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান বাগডোহরা চরের গোলজার আহম্মেদ, চর বিনবিনার মমিনুর রহমান। গঙ্গাচড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার বাম ও ডান তীরে কোথাও গুরুতর ভাঙন দেখা দেয়নি। যেখানে কিছু ভাঙন হয়েছে, সেখানে জিওব্যাগ ফেলে তা প্রতিরোধের কাজ চলছে। বাম তীরের যে ভাঙনের অভিযোগ এসেছে, সেটি মূলত নদীর ভেতরের চরাঞ্চলে, যেখানে কিছু মানুষ বসবাস করে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত