ছুটির প্রথম দিনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় নেই সদরঘাটে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ছুটির প্রথম দিনে সদরঘাটের একটি চিত্র। স্ট্রিম ছবি

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির প্রথম দিনেই পরিবার প্রয়োজন নিয়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বরিশাল অঞ্চলের যাত্রীরা। তবে দীর্ঘ ছুটির শুরুর দিনে অন্যান্যবারের তুলনায় যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। যদিও সামনর দিনগুলোতে যাত্রী বাড়ার আশা করছেন লঞ্চ মালিকরা।

আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চঘাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ সকাল থেকে বরিশাল অঞ্চলের ঘরমুখী মানুষ আসতে শুরু করেছেন। তবে খুব বেশি মানুষের চাপ সে সময় দেখা যায়নি। সাধারণ সময়ের চাইতেও কম মানুষ দেখা গেছে। যদিও বিকেল হতেই মানুষের চাপ কিছুটা বাড়তে শুরু করে।

তবে লঞ্চ মালিকরা বলছেন, আগের চাইতে খুব কম যাত্রী পাচ্ছেন তাঁরা। এমনকি গেল (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) ভোটের সময়ও যত যাত্রী বাড়ি গেছে তাঁর থেকেও কম যাত্রী যাচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। তবে তাঁরা আশা করছেন, আগামীকাল ও পরশু এর চেয়েও বেশি যাত্রী হবে।

এ বিষয়ে এম ভি টিপু-১৩ লঞ্চের ম্যানেজার হাজী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘সকাল থেকে আধাঘণ্টা পর পর ভোলার উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঈদের সময়ে যে মানুষ হয় সে ধরনের মানুষ এখনো পাইনি। আমার মনে হয়, আগামীকাল কিছু ভিড় হতে পারে।’

একই কথা জানিয়েছেন এম ভি কর্ণফুলী-১৩ এর লস্কর মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘লঞ্চ অনুযায়ী যাত্রী অনেক কম। প্রতি বছর আরও অনেক যাত্রী থাকে। ভোটের সময়ও আমরা ভালো যাত্রী পেয়েছি৷ এখন সে পরিমাণ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।’

হাসিমুখে যাত্রীদের বাড়ি ফেরা

প্রথমবার রোজার ঈদে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পটুয়াখালী জেলা চরগওদাগর গ্রামে যাচ্ছেন মাদরাসা শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ৷

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আগে সব সময় কোরবানি ঈদে যেতাম। এবার প্রথমবারের মতো রোজার ঈদে যাচ্ছি। খুব আনন্দ হচ্ছে।’

ঢাকায় ভারবাহী শ্রমিকের কাজ করেন রিয়াজ। ঈদে ৭ দিনের ছুটি পেয়ে ভোলার লালমোহনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন তিনি। স্ট্রিমকে রিয়াজ বলেন, ‘এবার বড় ছুটি পেয়েছি। তাই অনেক আনন্দ লাগছে। পরিবারের সঙ্গে অনেকদিন সময় কাটাতে পারবো। লঞ্চে চাপও কম, আরামে যাওয়া যাবে। আমাদের সব শ্রমিকরা একসঙ্গে যাবে। এ জন্য আরও বেশি আনন্দ লাগছে।’

প্রথমবারের মতো ঈদে পরিবার নিয়ে ভোলার লালমোহনে যাচ্ছেন গাড়িচালক ইয়াসিন। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘খুব আনন্দ লাগছে। কোনো চাপ নেই, ভোগান্তি নেই। সুন্দরভাবে যেতে পারছি। সব সময় অল্প ছুটি পাই তাই যেতে পারি না। এবার বড় ছুটি পাওয়ায় আরাম করে যেতে পারছি।’

পরিবার নিয়ে বরিশালে ঈদ করতে যাচ্ছে ইমন ইসলাম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এবার ছুটিও বেশি, মানুষের চাপও কম। তবে ঘাটে আসতে ভোগান্তি পেতে হয়েছে। তবে ঘাটের পরিবেশ ভালো। ট্রলিসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটা খুব ভালো হয়েছে। আমরা চাই এগুলো যেন সব সময়ই থাকে।’

সদরঘাট লঞ্চ চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত ১২টা থেকে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৯ টা লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. মুবারক হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিকেল থেকে মোটামুটি যাত্রী চাপ বাড়ছে এবং আগামীকাল গার্মেন্ট ছুটি হওয়ার পরে যথেষ্ট চাপ থাকবে বলে আমরা আশা করতেছি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চের ব্যবস্থা আছে। যেমন গতবছর প্রায় ১২২টি পর্যন্ত সর্বোচ্চ লঞ্চ গেছে। আমরা ওই টার্গেট নিয়ে আছি। আজকে ৭০ থেকে ৮০টা লঞ্চ ছেড়ে যাবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত