মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া পুনর্মূল্যায়নের দাবি টিআইবির

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অধিকাংশ অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এলেও প্রস্তাবিত আইনে কমিশনকে সরকার বা বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। এতে কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত হবে।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। স্ট্রিম গ্রাফিক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে খসড়া দুটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠলেও প্রস্তাবিত বিলে কমিশনকে সরকার বা বাহিনীপ্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। এতে কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে।

তিনি জানান, কমিশনার বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখায় কমিশনের ওপর প্রত্যক্ষ সরকারি প্রভাব বজায় থাকবে। প্রেষণে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগও কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

সামরিক আটককেন্দ্রগুলোতে পূর্বঘোষণা ছাড়া পরিদর্শনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। তাদের প্রশ্ন, এর ফলে আবার ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা বহাল রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না।

গুমের তদন্তভার কেবল পুলিশের ওপর রাখার সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতির সুযোগকে দায়মুক্তির পাঁয়তারা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংসদে উত্থাপনের আগেই আইন দুটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’ টিআইবি ভুক্তভোগী পরিবার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে খসড়া দুটি নতুন করে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত