ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সবার মানবিক দায়িত্ব: এরদোয়ান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস (বামে) ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান (ডানে)। ছবি: আনাদোলু

ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি পুরো মানবজাতির যৌথ মানবিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক সব আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান অব্যাহত রাখবে। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে আঙ্কারা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকার’ দখল করা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে গোটা বিশ্বের চোখের সামনে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি উপেক্ষা করা বা এ বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

গাজায় পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন শুরু এবং উপত্যকাটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান এরদোয়ান।

আল-আকসা মসজিদকে ‘আমাদের প্রথম কিবলা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে আল-আকসা মসজিদ ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত উসকানির তীব্র বিরোধিতা করি।’

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পরিবারকে জিম্মি

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে দুটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে গত রোববার থেকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা। পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং খাবারের মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

বুধবার ওই এলাকায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনী সরে যায়। এর পরপরই সেখানে ১৫ জনের মতো সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী অবস্থান নেয়। এদিকে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো কুসরার অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর সুরক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চলমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম তীর ‘ফেরার অযোগ্য পর্যায়ের’ দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া। বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ‘ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইসরায়েলকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ ধরে এগোনোর আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, পশ্চিম তীর ‘চরম সংকটের পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ৭৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন শিশু। বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা, উচ্ছেদ ও স্থাপনা ধ্বংসের কারণে ২০২৬ সালে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় অর্ধেকই শিশু।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি ও আনাদোলু

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত