ওলিউর রহমান

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় এমন কিছু দিন আছে, যেগুলোর সঙ্গে এ দেশের মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আখেরি চাহার শোম্বা তেমনই একটি দিন। আজ ১২ আগস্ট আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটি রয়েছে।
কিন্তু আমাদের সমাজের অনেক মানুষই জানে না, আখেরি চাহার শোম্বা আসলে কী? ইসলামের ইতিহাসে এ দিনের গুরুত্ব কতটুকু? এ দিনকে ঘিরে প্রচলিত ঘটনাগুলোর কতটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত? আর কেনই বা বাংলাদেশে এখনো এ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে?
‘আখেরি চাহার শোম্বা’ মূলত ফারসি শব্দসমষ্টি। ‘আখেরি’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবার হলো আখেরি চাহার শোম্বা। কথিত আছে, ইন্তেকালের কিছুদিন আগে রাসূল (সা.) এ দিনে তাঁর অন্তিম অসুস্থতা কিছুটা উপশম অনুভব করেছিলেন। এ কারণে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
রাসূল (সা.) তাঁর জীবনের শেষ দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সহিহ হাদিসে তাঁর শেষ অসুস্থতার বিভিন্ন ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে নববীতে সাহাবিদের নামাজ পড়িয়েছেন। পরে অসুস্থতা বেড়ে গেলে আবু বকরকে (রা.) ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এ অসুস্থাতেই রবিউল আউয়াল মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
তবে আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে প্রচলিত বর্ণনা হলো—সফর মাসের শেষ বুধবার সকালে রাসূল (সা.) সাময়িকভাবে সুস্থতা অনুভব করেন, গোসল করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনাকে স্মরণ করে দিনটি উপমহাদেশে ‘শুকরিয়ার দিন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে প্রচলিত বর্ণনাগুলো সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ ওই দিন সুস্থ হয়ে গোসল করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করেছিলেন—এ ধরনের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে রাসূল (সা.) অন্তিম অসুস্থতার মধ্যে একবার সামান্য সুস্থতা বোধ করেছিলেন এবং মসজিদে উঁকি দিয়ে দেখেছিলেন এমন বর্ণনা হাদিসে আছে।
বাংলাদেশে আখেরি চাহার শোম্বা পালনের প্রচলন কীভাবে শুরু হলো এর উত্তর খুঁজতে গেলে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাস ও সংস্কৃতির দিকে তাকাতে হবে।
আখেরি চাহার শোম্বা মূলত ইরানে পালন হতো। মোঘল আমলে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে এ দিনটি। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মুঘল আমলে দিল্লির বাদশাহরা দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে এটি একটি পরিচিত ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মরণদিবসে পরিণত হয়। অর্থাৎ আজকের আখেরি চাহার শোম্বাকে বুঝতে হলে উপমহাদেশের দীর্ঘ মুসলিম সাংস্কৃতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিতে হবে।
আখেরি চাহার শোম্বাকে বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক তথ্যকে এক করে না ফেলা।
কোনো একটি বিষয় কোনো মুসলিম সমাজে শত শত বছর ধরে প্রচলিত হতে পারে। তার সাংস্কৃতিক মূল্য থাকতে পারে, মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে তার সম্পর্কও থাকতে পারে। কিন্তু সেটিকে রাসূল (সা.)- এর সুন্নাহ বা শরিয়তের নির্ধারিত আমল বলতে হলে নির্ভরযোগ্য দলিল প্রয়োজন।
আখেরি চাহার শোম্বার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। দিনটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব স্বীকার করা যেতে পারে। রাসূল সা. এর শেষ জীবনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা যেতে পারে। আল্লাহর নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু প্রচলিত কোনো কাহিনিকে যাচাই না করে ‘সহিহ হাদিসে প্রমাণিত’ বলে প্রচার করা উচিত নয়। আখেরি চাহার শোম্বার ক্ষেত্রেও সেই বোঝাপড়াটিই সবচেয়ে জরুরি।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় এমন কিছু দিন আছে, যেগুলোর সঙ্গে এ দেশের মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আখেরি চাহার শোম্বা তেমনই একটি দিন। আজ ১২ আগস্ট আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটি রয়েছে।
কিন্তু আমাদের সমাজের অনেক মানুষই জানে না, আখেরি চাহার শোম্বা আসলে কী? ইসলামের ইতিহাসে এ দিনের গুরুত্ব কতটুকু? এ দিনকে ঘিরে প্রচলিত ঘটনাগুলোর কতটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত? আর কেনই বা বাংলাদেশে এখনো এ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে?
‘আখেরি চাহার শোম্বা’ মূলত ফারসি শব্দসমষ্টি। ‘আখেরি’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবার হলো আখেরি চাহার শোম্বা। কথিত আছে, ইন্তেকালের কিছুদিন আগে রাসূল (সা.) এ দিনে তাঁর অন্তিম অসুস্থতা কিছুটা উপশম অনুভব করেছিলেন। এ কারণে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
রাসূল (সা.) তাঁর জীবনের শেষ দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সহিহ হাদিসে তাঁর শেষ অসুস্থতার বিভিন্ন ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে নববীতে সাহাবিদের নামাজ পড়িয়েছেন। পরে অসুস্থতা বেড়ে গেলে আবু বকরকে (রা.) ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এ অসুস্থাতেই রবিউল আউয়াল মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
তবে আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে প্রচলিত বর্ণনা হলো—সফর মাসের শেষ বুধবার সকালে রাসূল (সা.) সাময়িকভাবে সুস্থতা অনুভব করেন, গোসল করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনাকে স্মরণ করে দিনটি উপমহাদেশে ‘শুকরিয়ার দিন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে প্রচলিত বর্ণনাগুলো সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ ওই দিন সুস্থ হয়ে গোসল করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করেছিলেন—এ ধরনের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে রাসূল (সা.) অন্তিম অসুস্থতার মধ্যে একবার সামান্য সুস্থতা বোধ করেছিলেন এবং মসজিদে উঁকি দিয়ে দেখেছিলেন এমন বর্ণনা হাদিসে আছে।
বাংলাদেশে আখেরি চাহার শোম্বা পালনের প্রচলন কীভাবে শুরু হলো এর উত্তর খুঁজতে গেলে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাস ও সংস্কৃতির দিকে তাকাতে হবে।
আখেরি চাহার শোম্বা মূলত ইরানে পালন হতো। মোঘল আমলে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে এ দিনটি। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মুঘল আমলে দিল্লির বাদশাহরা দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে এটি একটি পরিচিত ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মরণদিবসে পরিণত হয়। অর্থাৎ আজকের আখেরি চাহার শোম্বাকে বুঝতে হলে উপমহাদেশের দীর্ঘ মুসলিম সাংস্কৃতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিতে হবে।
আখেরি চাহার শোম্বাকে বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক তথ্যকে এক করে না ফেলা।
কোনো একটি বিষয় কোনো মুসলিম সমাজে শত শত বছর ধরে প্রচলিত হতে পারে। তার সাংস্কৃতিক মূল্য থাকতে পারে, মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে তার সম্পর্কও থাকতে পারে। কিন্তু সেটিকে রাসূল (সা.)- এর সুন্নাহ বা শরিয়তের নির্ধারিত আমল বলতে হলে নির্ভরযোগ্য দলিল প্রয়োজন।
আখেরি চাহার শোম্বার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। দিনটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব স্বীকার করা যেতে পারে। রাসূল সা. এর শেষ জীবনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা যেতে পারে। আল্লাহর নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু প্রচলিত কোনো কাহিনিকে যাচাই না করে ‘সহিহ হাদিসে প্রমাণিত’ বলে প্রচার করা উচিত নয়। আখেরি চাহার শোম্বার ক্ষেত্রেও সেই বোঝাপড়াটিই সবচেয়ে জরুরি।
.png)

দিনভর ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে কাটে আমাদের জীবন। কিন্তু নামাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মুমিনের সামনে খুলে যায় এক ভিন্ন জগত। যেখানে তিনি একান্তে নিজের প্রতিপালকের সঙ্গে কথোপকথনে দাঁড়ান। সে মুহূর্তে অন্তরের একাগ্রতা, বিনয় ও আল্লাহমুখিতা—এসবই নামাজের প্রকৃত সৌন্দর্য।
৩১ জুলাই ২০২৬
উপমহাদেশে মুসলিম পুনর্জাগরণের অন্যতম রূপকার ছিলেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী। খ্রিস্টীয় আঠারো শতকের চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্যোগের সময়ে ভারতীয় মুসলমানদের চিন্তা, শিক্ষা ও নৈতিক সংস্কারে তিনি এক যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেন।
২৪ জুলাই ২০২৬
সমরকন্দ মুসলিম জ্ঞানসভ্যতার ইতিহাসে এক কিংবদন্তি নাম। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই নগরী ছিল জ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল কেন্দ্র। বিশাল মাদরাসার প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হতো কুরআন ও হাদিসের দরস, খানকাগুলো মুখর থাকত আধ্যাত্মিক সাধনায়,
১৭ জুলাই ২০২৬
১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই ছিল বসনিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। তিন বছর ধরে চলা গণহত্যা এ দিনে সকল সীমা অতিক্রম করেছিল। দেশটির সেব্রেনিৎসা শহরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৮ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছিল ১১ জুলাই। গতকাল ছিল সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩১তম বার্ষিকী।
১২ জুলাই ২০২৬