ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা: পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৪৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। স্ট্রিম ছবি

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমাতে তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সরাসরি নির্দেশে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে সারাদেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় বৃহস্পতিবার এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বিটিআরসির ওই কর্মকর্তা। তবে চিফ প্রসিকিউটরের নির্দেশনায় নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রধান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ ও গাজী এম এইচ তামিম।

আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধের প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দিতে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান টেলিফোনে আমাকে জানান যে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহম্মেদ পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লক রেখে সীমিত চালুর নির্দেশ

টানা কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর কিছু স্থানে সংযোগ দেওয়া নিয়ে জবানবন্দিতে বলা হয়, এরপর ২৩ জুলাই ২০২৪ জুনায়েদ আহম্মেদ পলক আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এবং মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভায় ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে (যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনমেন্ট ইত্যাদি) সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। ৩১ জুলাই ২০২৪ আবার ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন।

উল্লেখ্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের এই মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় আহত ভুক্তভোগী, নিহতদের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী, প্রযুক্তি ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ মোট ৩২ জনের সাক্ষীর তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেন পলক, যার জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ করে এই দুই আসামি মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন এবং হত্যায় সহায়তা করেন। এর ফলে পুলিশ ও দলীয় বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন শহীদ হন।

এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে উত্তরায় ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় আসামিদের সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় পলক ছাড়াও অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বর্তমানে পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) মনজুর আলম।

এদিকে, বিটিআরসির এই কর্মকর্তার জবানবন্দি বৃহস্পতিবার শেষ না হওয়ায় আদালত মামলার কার্যক্রম আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন।

সম্পর্কিত